Select your Top Menu from wp menus
শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং ।। সকাল ১০:৩১

এবার কালবৈশাখীর ভয়াল তাণ্ডব

63913_f4দুর্যোগ যেন কাটছে না। অকাল বন্যার পর এবার আঘাত হানলো কালবৈশাখী। কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সুনামগঞ্জ ও রাজশাহীর কয়েক সহস্রাধিক বাড়িঘর। রাজশাহী ও ভৈরবে ঝড়ে গাছচাপা পড়ে ও নৌকাডুবে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এছাড়া রাজশাহীর পদ্মানদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে আরো ২ জন। ঝড়ে ভৈরবের কালীপুরে ২৩০ কেভি জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনর গ্রিড লাইনের খুঁটি ভেঙে যায়। এতে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সুনামগঞ্জের হাওরে বন্যায় ধান ও মাছ হারানোর পর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো আঘাত হানলো কালবৈশাখী। এতে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাওরপাড়ের মানুষ। ঝড়ে বাড়িঘর উড়ে যাওয়ায় অনেকে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসহ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন এসব অসহায় মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীতে গত রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর কবলে পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মহানগরীর দুইজন, জেলার চারঘাটের একজন এবং গোদাগাড়ীর একজন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন, নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৪৮), মতিহার থানার বেলঘরিয়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মুনছুর রহমান (৪০), চারঘাট উপজেলার বেলঘরিয়া শ্যামপুর গ্রামের আনসার আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৪৫) ও গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার কলাবাগান এলাকার আলম আলী মুন্সী (৫০)।
এদের মধ্যে তিনজন রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঝড়ের সময় আহত হয়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের খাতায় উল্লেখ্য, করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, ঝড়ের সময় গাছের ডাল পড়ে আছিয়া বেগম আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ঝড়ের সময় দৌঁড়ে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে আহত হন মুনছুর রহমান। হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ফরিদুল ইসলাম। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলেন ওয়ার্ড মাস্টার  মোশারফ।
এদিকে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিফজুল আলম মুন্সী বলেন, কালবৈশাখীর সময় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হন উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার কলাবাগান এলাকার আলম আলী মুন্সী। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কালবৈশাখীতে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে দমকল কর্মীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দমকলকর্মীরা পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম।
এরা হলেন- নগরীর দরগাপাড়া এলাকার সারোয়ার হোসেন রফিক (৪৫), রবিন (২৮), খানপুরের আসাদুল (৪৫) এবং শাহ্‌মখদুম জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্‌রাসার ছাত্র আবুল আহাদ (৯) ও তামিম (৯)।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মার নদীর তালাইমারী এলাকায় পাঁচটি ভেসে উঠে। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে তিনজনের লাশ পরিবারের সদস্য ও দুই শিশুর লাশ মাদ্‌রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় নগরীর দরগাপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে এ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। পদ্মার মাঝেরচর থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে বড়কুটি ঘাটে ফেরার সময় মাঝ নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা ডুবে যায়। এতে দুই শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা যায়। সোমবার দিনভর দমকল কর্মীরা লাশ উদ্ধারে পদ্মায় তল্লাশি চালায়। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের না পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তারা অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে। অবশেষে লাশ ভেসে উঠলে তারা দমকল কর্মীরা গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিপর্যয় পিছু ছাড়ছে না সুনামগঞ্জের মানুষের। একের পর এক বিপর্যয় এ জেলার মানুষকে বিধ্বস্ত করে তুলছে। কান্না আর থামাতে পারছে না এ অঞ্চলের অসহায় মানুষ। ধান, মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর বিপর্যয়ের পর রোববার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে সহস্রাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। মাথা গোঁজার অবলম্বনও হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। এরকম দুর্যোগ বিগত শত বছরেও দেখেন নি এ জেলার শতায়ু মানুষ। একে একে বাঁচার অবলম্বন হারিয়ে ফেলছেন তারা। কর্মহীন জীবনযাপন নিয়ে এখন দিশাহারা। খাদ্য ও অর্থ সংকটে ভুগছেন অসহায় মানুষ। শুধু ত্রাণের উপর নির্ভর করতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
সুনামগঞ্জের মানুষের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। রোববার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলার সহস্রাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত ও ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খোলা আকাশের নিচে অনেকেই অবস্থান করছেন। ফসলহানির পর এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানুষ এখন পাগলপ্রায়। শত শত গাছপালা ও বিদ্যুৎ খুঁটি ঝড়ে উপড়ে ফেলে। এতে জেলায় গত দুইদিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মন্ত্রণালয়ে ত্রাণের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিন সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
সুনামগঞ্জের এই চরম বিপর্যয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুনামগঞ্জ সফর করে গেছেন। জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ ও সকল ধরনের সাহায্য সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে দেড় লাখ ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়েছে। ওএমএস দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিপদে পড়েছেন মূল কৃষকরা (গৃহস্থরা)। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে পারছেন না। আবার ভিজিএফও চাইতে পারছেন না। তবে বর্গাচাষিরা এতে উপকৃত হয়েছেন। তারা সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন। এমতাবস্থায়  মূল কৃষকরা (কৃষক কার্ডধারী) যাতে সরকারি এসব সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
সুনামগঞ্জ সদরের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সকলেই সাহায্য পাবে। তবে মূল কৃষকরা (গৃহস্থ) যাতে বঞ্চিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তারা এক সময় অবস্থাশালী ছিল। শত শত মণ ধান গোলায় উঠতো। কিন্তু এবছর অকাল পানিতে জেলার একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। চোখ লজ্জায় সাহায্য চাইতে পারছেন না। তাই অনেকের নামই তালিকায় উঠেনি।
এদিকে, ওএমএসের চাল প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে দেয়ার আহ্বান জানান জেলার সকল জনপ্রতিনিধিরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সকলই উপকৃত হবেন।
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাত ১১টায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দুই উপজেলার প্রায় তিনশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতির শিকার ও গাছপালাসহ শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে উপজেলা দুটি। শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর, নোয়াগাঁও, আঙ্গাউড়া, শশারকান্দা ও দিরাই উপজেলার মানিকদা, মাউতি, রামজীবনপুর, স্বজনপুর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অকাল বন্যায় হাওর পাড়ের মানুষ এমনিতেই নিঃস্ব প্রায়, এমন সময়ে ঝড়ের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। দিরাই থানা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন জানান, বিদ্যুতের দিরাই জোনাল অফিসের আওতাধীন দিরাই-শাল্লা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের (আংশিক) এলাকার ছোট বড় মিলিয়ে শতাধিক খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে। আশা করছি,  মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই উপজেলা সদর পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন চালু করতে পারবো। পর্যায়ক্রমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা বাড়ি, সমজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন। ঝড়ে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলায় উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আধাঘণ্টা ব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলা সদর, পৈণ্ডুব, সাহেব নগড়, কাণ্ডবপুর, মন্দিয়াতা, রামজীবনপুর, দপেরকান্দা গ্রাম সহ ১২টি গ্রামের অসহায় মানুষের কাঁচা বসত বাড়ি, গাছ-পালা, বিভিন্ন স্থাপনা, বিদ্যুতের লাইনের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও রাতে বিভিন্ন হাওরে স্থানীয় জেলেরা হাওরে ১৫টি ছোট নৌকা, ১৫ হ্যাজাক লাইট, জেনারেটর দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরছিল। হঠাৎ ঝড় শুরু হয়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম হাওরে ফেলে কোন রকমে প্রাণ নিয়ে তীরে এসে জীবন বাঁচায়। ঝড়ের পর ১৫টি ছোট নৌকা, ১৫ হ্যাজাক লাইট, জেনারেটর আর খোঁজে পাওয়া যায় নি। ক্ষতিগ্রস্ত  এলাকার পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। এ ছাড়াও সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দোয়ারা বাজার, ছাতকসহ ১১টি উপজেলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, আমার উপজেলার ১২টি গ্রামে গত রোববার রাতে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড  ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন আমাকে জানিয়েছে। সবার খোঁজ খবর নিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার রাতে ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত সহযোগিতা করা হবে।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। রোববার রাতে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড ঝড়ে ইউনিয়ন ও পৌরসভার সহস্রাধিক কাঁচা-ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্টান, গাছ-পালা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ শহরের ক’টি দালান ঘর ও দেয়াল বিধ্বস্ত হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিদ্যূৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ছাতক পৌরসভাসহ উপজেলার ভাতগাঁও, সিংচাপইড়, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা, দোলারবাজার, উত্তর খুরমা, দক্ষিন খুরমা, ছৈলা-আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, কালারুকা, ছাতক সদর, নোয়ারাই ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঝড়ে কাচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হলে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান, মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কালিগঞ্জ সড়কের চুকিনগর এলাকায় অবস্থিত মুন্সী শহীদুর রহমান বিএম কলেজটি গতকাল কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে কলেজের একটি বিল্ডিং ও বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও কলেজের টিনের ছাউনী ঝড়ে উড়িয়ে প্রায় ৪০ ফুট দুরে দুমড়ে মুচড়ে ফেলেছে। এব্যাপারে কলেজের সভাপতি মুন্সী মনিরুজ্জামান চকলেটের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, রাত ৮টা সাড়ে আট্টার দিকে -উত্তর দক্ষিণ দিক থেকে কাল মেঘ জমে উঠে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয়ে ২ মিনিটের ব্যবধানে কলেজটি ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *