Home অপরাধ কেরানীগঞ্জ থেকে ২৭ সমকামী তরুণ গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ থেকে ২৭ সমকামী তরুণ গ্রেপ্তার

SHARE

66121_f1কেরানীগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২৭ সমকামী তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৫টি কনডম, লুব্রিকেটিং জেল, ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭০ গ্রাম গাঁজা ও ৪০ পিস যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। এদের
ছাড়াও কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন (৬৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। কমিউনিটি সেন্টারটি র‌্যাব অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকার ছায়ানীড় নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব-১০ এর একটি দল। এ সময় ২৭ জন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- হাসান শাহরিয়ার (২৪), রতন (২৫), কাজল (২৭) রবিউল ইসলাম (২৭), শামসুদ্দিন আহমেদ (২৫), রুবেল (২৬), শফিক (২৪), সুমন (২৫), আবদুর রব (২৫), হাসান সোহেল (২৪), রোকন উদ্দিন (২২), সোহরাব হাসান (২৪), ফারাবি হাসান (২৭), মীর আহমেদ শাওন (২৫), আলী হাসান সুজন (২৪), শোভন (২৭) ও রহিম উদ্দিন (২৭)। অন্যদের নাম জানা যায়নি।  র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে আরো ৮ জন পালিয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর জুতা নিক্ষেপ করে। কেউ পানির বোতল ছুড়ে মারে। দ্রুত তাদের সেখান থেকে র‌্যাব-১০ এর কেরানীগঞ্জের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা সমকামী। তারা অধিকাংশই যুবক। কেরানীগঞ্জের ওই কমিউনিটি সেন্টারে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হয়েছিল। তাদের কাছে মাদক ও জেল পাওয়া গেছে। ফেসবুক এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা ছাড়ানীড় কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হতো। প্রতিবার জড়ো হলে কমিউনিটি সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিতো। তিনি আরও জানান, সাধারণতো প্রতি দেড় থেকে দুই মাস পর বৃহস্পতিবার রাতে তারা জড়ো হতো। তারা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে তারা মূলত সমকামিতার জন্য সেখানে আসতো এবং ওই কাজে লিপ্ত হতো। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ওই রাতে সমকামিতায় লিপ্ত হতে পারেনি। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে না পারার কারণে তাদের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ আনা হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের আইনে সমকামিতা একটি অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হাসান শাহরিয়ারের কাছে সমকামিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘যা ইচ্ছা তাই করবো। তাতে কি হয়েছে। গতকাল সকালে কেরানিগঞ্জের ছায়ানীড় কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, আঁটিবাজারের রাস্তার ধারে ১ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত টিনসেডের ছায়ানীড় কমিউনিটি সেন্টারটি তালা মারা। ওই প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে বাড়িঘর রয়েছে। কমিউনিটি সেন্টারটির সামনে কয়েকজন উৎস্যুক লোকজনকে দেখা গেল। তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। কমিউনিটি সেন্টারটি ঘিরে এলাকাবাসীর ক্ষোভ  রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০০ সালে কমিউনিটি সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন জাকির হোসেন নামে এক চাল ব্যবসায়ী। তিনি আঁটিবাজার এলাকায় থাকেন না। জাকির হোসেন পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় নিজস্ব একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। তার ওই কমিউনিটি সেন্টারটি  জসিম উদ্দিন নামে লোক দেখাশুনা করেন। জসিম ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যানেজার।
কমিউনিটি সেন্টারের পাশের পান দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন জানান, কেরানীগঞ্জের শহর থেকে কমিউনিটি সেন্টারটি দূরে হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানের তরুণ ও তরুণীরা সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সময় কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে থেকে গেট লাগিয়ে দেয়া হয়। এজন্য সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। তিনি আরো জানান, যেসব যুবককে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে তারা প্রত্যেক মাসের শেষের দিকে সেখানে জড়ো হতো। সারারাত উচ্চস্বরে গান বাজাতো। এলাকাবাসী তাদের গান একটু আস্তে বাজানোর কথা বললে ওই যুবকেরা বিভিন্ন হুকমি-ধমকি দিতেন। গত ৮ মাস যাবৎ তারা এই কর্মকাণ্ড করে আসছে। এ নিয়ে তাদের প্রতি এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী রেজাউল করীম জানান, গত কয়েক মাস যাবৎ ওই যুবেকরা সেখানে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে গান বাজাতো। আমরা র‌্যাব-১০ এর কেরানীগঞ্জের ক্যাম্পে একাধিকবার অভিযোগ করেছি। এলাকাবাসী অভিযোগ করার কারণে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
ছাড়ানীড় কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন জানান, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ১০ বছর ধরে ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি দাবি করে জানান যে, যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা এর আগে এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে একবার এসেছিল। মে মাসে ১৮ তারিখ রাতে আবার এসেছে। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতো। একরাতের জন্য তারা ১০ হাজার টাকা দিতেন। তিনি আরো জানান, দুইবার ভাড়া দেয়ার সময় তিনি রাতে কমিউনিটি সেন্টারে থাকেননি। শুধু শুনেছেন যে, ওই যুবকেরা উচ্চস্বরে গান বাজাতেন। তিনি তাদের উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করেছেন। তবে তারা সমকামী কি-না তা তিনি স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, র‌্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পুলিশকে জানিয়েছে তারা একে অপরের বন্ধু। এ ঘটনায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here