শিরোনাম

দেখতে আসলের মতো, তবে নকল ভেজাল প্রসাধনে সয়লাব রাজশাহী

| ২১ জুন ২০১৭ | ৬:১১ অপরাহ্ণ

দেখতে আসলের মতো, তবে নকল ভেজাল প্রসাধনে সয়লাব রাজশাহী

445চেনার উপায় নেই। প্যাকেট, টিউব, রঙ সবই আসলের মতো। কিন্তু প্রসাধনী নকল। এমন সব প্রসাধনীতে বাজার সয়লাব। ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাজারগুলোতে নকল প্রসাধনে ছেয়ে গেছে। সেখান থেকে সে সব প্রসাধন ছড়িয়ে পড়ছে পাড়া-মহল্লার দোকান এবং গ্রাম ও মফস্বলের বাজারে। প্রশাসনের চোখে ধূলা দিয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর সব নকল প্রসাধনী। আসলের মতো দেখতে প্রসাধনীগুলোর দাম আসলের সমান।
নকল প্রসাধনী কিনে ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব সব শ্রেণির ক্রেতাই ঠকছেন। বিদেশী সব নামীদামি কোম্পানির পণ্যগুলোর নকল বিক্রি হচ্ছে বাজারের দোকানগুলোতে। এসব নকল পণ্য কিনে ক্রেতা শুধু প্রতারিতই হচ্ছেন না, চর্ম ও ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের কয়েকটি দোকানের কর্মচারীরা জানান, রাজধানীসহ কয়েক জায়গায় নকল প্রসাধন পণ্য তৈরি ও বিক্রির কারখানা থেকে এসব পণ্য আসে। সেগুলো দোকানে বসে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন পাইকারি বিক্রি করা হয়। শুধু তাই না খুচরা বিক্রিও করা হয়ে থাকে।
রোববার নগরীর আরডিএ মার্কেটের মের্সাস খন্দকার ব্রাদার্স নামে একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায় যে, একটি কার্টুনে টিউব ও অন্য কার্টুনে প্যাকেট খোলা অবস্থায় রাখা আছে ফেয়ার হোয়াইট ক্রিম। কয়েকজন কর্মচারী সেগুলো নিয়ে প্যাকেট করছে।
দোকানে বসে প্যাকেট করার বিষয়টি জানতে চাইলে এক কর্মচারী জানান, কোম্পানি থেকেই আলাদা আসে। দোকানে বসেই এসব প্যাকেট করতে হয়। এরপরেই কর্মচারীরা বেশিকিছু না বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আসল প্রসাধনীগুলো প্যাকেট থেকে আলাদা করা হয়। এরপরে নকল প্রসাধনী আসল প্যাকেটে মোড়ানো হয়। এরপরে সেগুলো বাজারজাত করা হয়।
প্রসাধনীতে ক্রিমের মধ্যে নিভিয়া, ডাভ, লাক্স, মাস্ক, অ্যাকুয়া মেরিল লোশন, ফেডআউট ক্রিম, ওলে ব্র্যান্ডের ক্রিম, গার্নিয়ার ও জার্জিনস লোশনের নামিদামী পণ্যগুলো নকল বিক্রি হচ্ছে। শ্যাম্পুর মধ্যে হেড অ্যান্ড শোলডার, ল’রিয়েল, রেভলন, পয়জন, প্যান্টিন ও বিদেশি সানসিল্ক নকল পাওয়া যাচ্ছে।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. দায়েম উদ্দিন জানান, ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের সাধারণ লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ব্যবহারে প্রাথমিকভাবে ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট ডারমাটাইসিস হয়। এতে চামড়া লাল হয়ে যায়, যা পরবর্তী হসপড অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি করে। ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে স্কিন ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি ত্বকে দানা, হাঁপানি, মাথাব্যথা ও চোখ জ্বালাপোড়াসহ অন্যান্য রোগের উপদ্রব হতে পারে।
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেছেন, বিষয়টি আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। নকল প্রসাধনীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানো হয়েছে। তবে, কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়।
এ বিষয়ে গোলাম মোস্তাফা মামুন আরো জানান, বিএসটিআই, জেলা প্রশাসক ও ক্যাব এ বিষয়ে মনিটরিং করে থাকে। তবে এর ব্যাপ্তি আরো বাড়াতে হবে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
         12
    24252627282930
    31      
      12345
    27282930   
           
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28