Home সর্বশেষ চরম অব্যবস্থাপনায় গ্যাঁড়াকলে হজযাত্রীরা

চরম অব্যবস্থাপনায় গ্যাঁড়াকলে হজযাত্রীরা

SHARE

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি, বিমানের সঙ্গে হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন কয়েক হাজার হজযাত্রী। বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে এসে অনেকে আশকোনা হাজীক্যাম্পে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে হজযাত্রীরা শুধু শুনছেন আশ্বাসের বাণী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিসা জটিলতায় যাত্রী সংকটের কারণে শুক্রবার একটি এবং শনিবার দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমানের ১৫টি ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট। ফলে আগামীদিনে নতুন করে ফ্লিট না পেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজযাত্রীদের সাউদিয়াতে পরিবহন করার জন্য দিয়ে দিতে হবে। এমনটা হলে প্রায় শত কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বে রাষ্ট্রীয় এ বিমান সংস্থাটি। যদিও বিমানের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ২০টি অতিরিক্ত স্লটের জন্য সৌদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্লট অনুমোদন হয়নি। বিমান সূত্রে জানা গেছে, ২০ টি স্লট অনুমোদন হলেও বিমানের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি হজযাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে না। কারণ, হজে যাওয়ার জন্য ফ্লাইট চালানোর সময় আছে মাত্র ২২ দিন। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে এ বছরও বিমানকে ৮ থেকে ১০ হাজার হজযাত্রী সাউদিয়া এয়ারলাইন্সকে ছেড়ে দিতে হবে। গত বছরও শেষ মুহূর্তে বিমান সাড়ে ৪ হাজার হজযাত্রী সাউদিয়া এয়ারলাইন্সকে ছেড়ে দিয়েছিল। এবার সাউদিয়াকে ১০ হাজার হজযাত্রী দিলে বিমানকে কমপক্ষে শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। কারণ, হজযাত্রী পরিবহনের জন্য এ বছর বিমান চড়া দামে ৩টি এয়ারক্রাফট ভাড়া নিয়েছে। এখন স্লটের অভাবে হজযাত্রী পরিবহন করতে না পারলে বসিয়ে বসিয়ে লিজ নেয়া উড়োজাহাজের ভাড়া গুনতে হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ  বলেন, সব মিলিয়ে ১৫টি ফ্লাইট বাতিল হলো। একই সঙ্গে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, এবার বিমানকে মোট ১৪৪টি স্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে যাত্রী না পাওয়ায় ১৫টি স্লট বাতিল হয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় দফার হজযাত্রীদের অতিরিক্ত ২০০০ রিয়াল মওকুফ করেনি সৌদি সরকার। এর আগে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের পর দেশটির হজ এবং ওমরাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ মওকুফের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে। গত বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার সহকারী সচিব এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব (ডেপুটি মিনিস্টার) অবহিত করেছে যে, ২০০০ রিয়াল এন্ট্রি ফি বিশ্বের সব রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য। কোনো একক দেশের ক্ষেত্রে এই অর্থ মওকুফ বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশসহ হজ এবং ওমরা পালনকারী সব দেশের প্রত্যেক হাজীকে এই ২০০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। এতে বলা হয়, যেসব এজেন্সির হজযাত্রী পুনর্বার (২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজ পালনকারী) এ বছর হজে যাবেন তাদের কাছ থেকে দুই হাজার সৌদি রিয়াল এন্ট্রি ফি সংশ্লিষ্ট এজেন্সি আদায় করতে পারবেন। যদি কোনো পুনর্বারের হজযাত্রী দুই হাজার সৌদি রিয়াল এন্ট্রি ফি দিতে অপারগতা পোষণ করেন সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পর্যন্ত ১ লাখের ওপর হজযাত্রী ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। এর বিপরীতে ভিসা পাওয়া গেছে ৬৮ হাজার ৮৭৯টি। এর মধ্যে ৪৪ হাজার হজযাত্রী জেদ্দা পৌঁছেছেন। বাকিদের ভিসা থাকলেও ২ হাজার রিয়াল ও অতিরিক্ত মোয়াল্লেম ফিসহ নানা কারণে যেতে পারছেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here