শিরোনাম

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১:৩৮ অপরাহ্ণ

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রায়হান কবির,স্বদেশ নিউজ ২৪.কমঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য শনিবার নিউ ইয়র্ক যাবেন। তিনি এ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে এই সমস্যার সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা কামনা করবেন। এক্ষেত্রে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রস্তাব দেবেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরে এর আশু সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো জাতিসংঘে উত্থাপন করবেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর ২টায় নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। সেখানে তিনি কয়েক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করবেন। এরপর ওই রাতেই ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নিউ ইয়র্ক যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী এই ফ্লাইটটি টানা ১৪ ঘণ্টা যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে নিউ ইয়র্কে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে। বিমানবন্দর থেকে একটি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ম্যান হাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানকালে নিউ ইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ অবস্থান করবেন।শেখ হাসিনার সফর সূচিতে রয়েছে- ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতরেসের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন।১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত জাতিসংঘ সংস্কার বিষয়ক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এবং জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অ্যাবুজ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দেবেন।এছাড়া ওইদিন বিকেলে কনভেনি কনফারেন্স সেন্টারে ‘গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক ফলোআপ বৈঠকের আগে তাঁর ভুটানী সমকক্ষ সেরিং টবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।১৯ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব প্রদত্ত মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেবেন। এর আগে তিনি ‘উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ফর লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’এর ওপর জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সঙ্গে এক গোল টেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন।একইদিন বিকেলে জাতিসংঘ সদর দফতরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওআইসি কনটাক্ট গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে মৌরিসাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ কুমার জুগনাউথের সঙ্গে তার দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে।সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও কমনওয়েলথের বর্তমান চেয়ার-ইন অফিস মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেফ মাসকেট আয়োজিত কমনওয়েলথ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত শুভেচ্ছা সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

পরে তিনি নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট স্কয়ারে প্রবাসী বাংলাদেশদের আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচকিউ-তে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের ওপর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।পরে ইউএনএইচকিউ-তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট মিজ কেরস্তি কালজুলাইদ-এর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।পাশাপাশি শেখ হাসিনা ‘এসডিজি ইমপ্লিমেন্টেশন, ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড মনিটরিং: শেয়ারিং ইনোভেশনস থ্রু সাউথ-সাউথ এবং ট্রাইয়াঙ্গুলার কো-অপারেশন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইউএনএইচকিউ- তে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন এর ওপর ইউএনডিপি এবং ইউএন অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে।পরে, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিং এ পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফাইন্যান্স: ফ্যাসিলিট্যাটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজিস শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইউএনএইচকিউ- তে ইউএনডিপি’র সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও কানাডা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।প্রধানমন্ত্রী বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত একটি গোলটেবিল মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেবেন।পরে, উন্নয়নের জন্য সার্বিক অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত নেদারল্যান্ডের রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ইস্যুতে ইথিওপিয়া প্রতিনিধিদল আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনায় যোগ দেবেন।শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস স্কওয়াব এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সদানন্দ ধুমির সাক্ষাতের কথা রয়েছে।২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেলে ভার্জিনিয়ার আইবিএম এর প্রেসিডেন্ট মেরি রোমেটি সাক্ষাত করবেন।এরপর কসোবোর প্রেসিডেন্ট হাসগিম থাচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।পরে প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচকিউ-এ পানি বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেবেন।পরে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর নেপালী সমকক্ষ শের বাহাদুর দেউবার মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে তাঁর এই জাতিসংঘ সফরের ওপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে সড়কপথে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। ভার্জিনিয়ায় এক সপ্তাহ অবস্থানের পর তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।প্রধানমন্ত্রী ২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    21222324252627
    28293031   
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28