Select your Top Menu from wp menus
শুক্রবার, ২৪শে নভেম্বর ২০১৭ ইং ।। সকাল ১১:৪৬

৪ শর্তে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার

রায়হান করির, স্বদেশ নিউজ২৪.কম: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সেনা অভিযান ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হামলা-নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চার শর্তে ফেরত নেবে দেশটির সরকার।

১০ নভেম্বর শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ‘ভারত-মায়ানমার সম্পর্কের আগামী দিন’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শরণার্থী বিষয়ে এ সব শর্তের কথা জানান মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ কিইয়াও জেয়া।

শর্ত গুলো হচ্ছে-

  • যে সব রোহিঙ্গা এ দেশে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারবেন
  • স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন
  • পরিবারের কেউ এ দিকে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে পারবেন এবং
  • বাংলাদেশে জন্মানো শিশুগুলোর বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণিত হলে।

যারা এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন, শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ইউ কিইয়াও জেয়া বলেন, ‘স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেওয়াটা মুশকিল এবং এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষও’।

সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কূটনীতিকরা ছাড়াও কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরাও যোগ দিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সেনা অভিযানের প্রেক্ষিতে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়শন (সিপিএ)।

গত ০৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়শন (সিপিএ) সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে এ আহবান জানানো হয়। সিপিএ’র মহাসচিব আকবর খান রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন বন্ধ ও তাদের নিঃশর্তভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়ে সাধারণ সভায় বিবৃতি তুলে ধরেন।

পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নিধনযজ্ঞসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার তীব্র নিন্দাও জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় আড়াইআনি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘টেকনাফ ও উখিয়ার জনসংখ্যার চেয়ে তিন গুণ বেশি রোহিঙ্গা সেখানে এসে পড়েছেন। ’

এদিকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। নৌকা সংকটের কারণে গত ০৮ নভেম্বর বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্লাস্টিক ও বাঁশ দিয়ে তৈরী একটি ভেলায় করে কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে প্রথমবারের মতো ৫২ জন রোহিঙ্গা পৌঁছায়।

পরদিন ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ও বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ পরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও জেটিঘাট পয়েন্ট দিয়ে পৃথক দুইটি ভেলায় চড়ে আরও ১৩০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

এরপর ১০ নভেম্বর শুক্রবার ভেলায় চড়ে তৃতীয় দিনের মতো সর্বাধিক পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশকরেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *