শিরোনাম

আম পাড়ার সময় বসবে চেকপোস্ট

| ১০ মে ২০১৮ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ

আম পাড়ার সময় বসবে চেকপোস্ট

রাজশাহীর আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করেছেন। সে অনুযায়ী এবার ২০ মের আগে গুটি জাত ছাড়া অন্য কোনো জাতের আম গাছ থেকে পাড়া যাবে না।

আম পাড়ার ৭২ ঘণ্টা আগে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে চেকপোস্ট বসানো হবে। সেখানে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া চাষিরা যাতে আমের ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি থাকবে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আমচাষি আর ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, রাসায়নিকমুক্ত আম বাজারজাতকরণ নিশ্চিতে চেকপোস্ট বসানো হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের সভাপতিত্ব করেন। এর আগে বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার জন্য সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি আসে। তবে চিঠিতে উল্লেখিত সময় নয়, বরং স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়ে আম পাড়ার দিন ঠিক করতে জেলা প্রশাসন সভাটির আয়োজন করে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, গাছ থেকে ২০ মের আগে শুধু গুটি জাতের আম পাড়া যাবে। এর আগে গোপালভোগ আম গাছ থেকে নামানো যাবে না। ১ জুনের আগে হিমসাগর, ক্ষীরসাপাতি ও লক্ষ্মণভোগ পাড়া যাবে না। ৬ জুন থেকে পাড়া যাবে ল্যাংড়া জাতের আম। এ ছাড়া গাছ থেকে ১৬ জুনের আগে আম্রপালি ও ফজলি এবং ১ জুলাইয়ের আগে আশ্বিনা জাতের আম নামানো যাবে না।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয় মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গোপালভোগ পাড়তে বলেছে। এ প্রসঙ্গে আমচাষিরা সভায় বলেন, এবার আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। সে জন্য এই আম পাড়ার তারিখ কয়েক দিন পেছানো যায়। মন্ত্রণালয় থেকে হিমসাগর, ক্ষীরসাপাতি ও লক্ষ্মণভোগের জন্য জুনের প্রথম সপ্তাহ এবং ফজলির জন্য জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ ঠিক করেছিল। তবে চাষি ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের সুবিধামতো সময়ে এসব আম পাড়ার দিন ঠিক করেছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেন ফল গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি বিভাগ ও আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, রাজশাহীর আমে ফরমালিন মেশানো হয় না। কৃত্রিমভাবেও পাকানো হয় না। কিন্তু যখন বাজারে অনেক আগে কিংবা পরে আম পাওয়া যায়, তখন অনেকে মনে করেন যে আমে রাসায়নিক দেওয়া আছে। ক্রেতাদের এই ভয় দূর করতে আম পাড়ার একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নেওয়া হলো। এতে কেউ মনে করবেন না যে এই আম এখন গাছে থাকার কথা নয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবার আগে চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করা হলো।

এস এম আবদুল কাদের আরও বলেন, বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আম নামানো হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হবে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়া হলে এই কমিটি ব্যবস্থা নেবে। জেলার সবচেয়ে বড় আমের হাট পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে অস্থায়ী কার্যালয় খুলবেন ইউএনও। বানেশ্বরে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাগুলো শনিবারও খোলা থাকবে। আর আম পরিবহনে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করবে পুলিশ।

সভায় জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জি এম মোরশেদুল বারী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি, বিএসটিআইয়ের রাজশাহীর উপপরিচালক খাইরুল ইসলামসহ আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    15161718192021
    22232425262728
    293031    
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28