শিরোনাম

আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না চাষিরা

| ১০ জুলাই ২০১৮ | ১:২৬ অপরাহ্ণ

আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না চাষিরা

গ্রীষ্মকালীন ফল আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশে আম ভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ব্যাপক হারে আম চাষ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়লেও চাষিরা উৎপাদিত আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
তারা বলেছেন, দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং নাটোর ছাড়াও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলাসহ অন্যান্য জেলায়ও এখন ব্যাপকহারে আম চাষ হচ্ছে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মূল্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকায় এই ফল চাষে চাষিরা অধিক আগ্রহী হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে আমের এই মৌসুম খুবই অল্প সময়ের জন্য। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা এবং রপ্তানির সুযোগ কম থাকায় চাষিরা আমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। বাংলাদেশে অদূর ভবিষ্যতে আম চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। এর সুফল ঘরে তুলতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর এখনই সময়। প্রথমে আমাদেরকে স্থানীয় বাজারে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার আম ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি সেক্টর যাতে এগিয়ে আসতে পারে, এ জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আম থেকে জুস এবং অন্যান্য আইটেমের মতো খাদ্য বহুমুখিকরণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদেরকে বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপে আমের রপ্তানি বাজার সৃষ্টি করতে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ইউরোপীয় বাজারে আম রপ্তানি করতে প্রথমে নিরাপত্তা ও প্যাকেজমান বজায় রাখাসহ সকল শর্ত বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের বাজারে আম রপ্তানি করে। ভাল মানের আমের উচ্চ মূল্য পেতে সে সময়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যে আম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল।সরকার সহায়তাও দিয়েছিল। এ বছরে তিনটি জেলার ৯টি উপজেলার ১৮০ জন চাষি আম সরবরাহ করতে নিবন্ধিত হয়েছিল। অতঃপর নিরাপত্তা ও প্যাকেজ মান বজায় রাখার মাধ্যমে আম রপ্তানি হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোহসিন বলেন, দেশে এ বছরে ১,৭৪,২০৮ হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৩ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আম চাষিদের আধুনিক চাষ-প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছি। চাষিরা এখন আমাদের বিজ্ঞানীদের উৎপাদিত উচ্চ ফলনশীল আম চাষ করছে। ফলে প্রতি বছরে আম চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ করে সুফল পাচ্ছে। ফলে দেশে পর্যায়ক্রমে আম চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত সপ্তাহে রাজশাহীর বেশ কয়েকটি আমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতবছর এসময় যে আম ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা মণে বিক্রি হয়েছে, এ বছর তা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণে।
ফল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ের এ ক্ষতির কারণে আমসহ বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াজাত করতে এ অঞ্চলে একটি কারখানা প্রয়োজন।
রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুব আলম সিদ্দিকী বলেন, রাজশাহী আমের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এক সময়ে চাষীরা মৌসুমী ফল নিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেকে খরচ উঠাতে পারেন না। এটা অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ অঞ্চলে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবস্থা দরকার।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    22232425262728
    2930     
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28