শিরোনাম

ঘাড় ব্যথা / স্পন্ডাইলোসিস

| ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

ঘাড় ব্যথা / স্পন্ডাইলোসিস

প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে বোধকরি এমন লোক খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর যাদের জীবনে কখনো ঘাড়ে ব্যথা হয়নি। এ যেনো ঘাড় আছে যার ব্যথা আছে তার। তবে মামুলি এই ব্যথা যখন ঘাড়ে সাড়াশির মতো চেপে বসে তখনই সবার দফা হয় রফা, আর কাজ কর্ম বন্ধ রেখে ছুটতে হয় চিকিৎসকের দোরগোড়ায়।

সারভিকাল স্পন্ডাইলোসিস (cervical spondylosis) হলে ঘাড়ে যেমন ব্যথা হয় তেমনি মাথার নিম্নাংশেও ব্যথা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এই ব্যথা দুই কাধ, বাহু, হাত এমন কি আঙ্গুলেও ছড়িয়ে পরতে পারে। কারো কারো আবার মাথা ব্যথা/ পিঠের পিছনে ব্যথা, হাত/বাহু দুর্বল বা অবশ হয়ে আসা বা চিনচিনে ব্যথা করা এসব উপসর্গ ও দেখা দিতে পারে।

নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন আসে কেন এমন ব্যথা হয়? আপনার ঘাড়খানা কষ্টকরে যেই হাড়গুলো শক্ত করে রাখে তারা হলো কশেরুকা (cervical vertebra)এবং তাদের মাংশপেশী। আর এই কশেরুকাদের মাঝের স্বাভাবিক ফাক গুলো যখন কমে আসে তখন ই শুরু হয় ঘাড়ে ব্যথা। কারণ এই ফাকগুলোদিয়ে বের হয় আপনার স্নায়ু (nerve), আর হাড়ের ফাক কমেগেলে এই নার্ভের উপড় চাপ পরে এবং এইসকল নার্ভ যেসকল জায়গায় অনুভুতি বহন করে তারা সকলে বেদনার্ত হয়ে উঠে।

কশেরুকার মাংশপেশীতে টান পড়া, হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, অস্থিসন্ধিতে (joint) রোগ হওয়া, লিগামেন্ট এ টান পরা ইত্যাদি নানাবিধ কারনে এমনটি হতে পারে, যদিও এর মধ্যে প্রথম কারনটিই প্রধান বলে গণ্য হয়।

পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে অনেক বেশী আক্রান্ত হয়। যে সকল পেশায় দীর্ঘক্ষন মাথা নীচু করে কাজকরতে হয় (স্বর্ণকার, ড্রাইভার, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, সেলাইকারি ইত্যাদি) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারাই এই রোগের ভুক্তভোগী।

এ রোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে সহজেই এই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। তবে রোগের বিস্তৃতি এবং কারণ নির্ণয়ে ঘাড়ের এক্সরে এবং অনেক সময় এম,আর,আই (MRI) পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ঘাড়ের বিশ্রাম নেয়া এ রোগের প্রধান চিকিৎসা, সেই সাথে ব্যথার অসুধ (NSAID) সেবন, গরম সেক নেয়া, কখনো কখনো গলায় শক্ত কলার (cervical collar) ব্যাবহার এবং সেই সাথে ফিজিওথেরাপি (physiotherapy)নিলে এ রোগ থেকে নিস্তার মেলে। তবে অনেক সময় ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে এবং অসুধে তা নিয়ন্ত্রন করা না গেলে সার্জারি বা অপারেশন ই এর একমাত্র চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়।এ জন্য শুরুতেই এ রোগের চিকিৎসা করিয়ে নেয়া উত্তম। যেহেতু নির্দিষ্ট পেশাজীবিদের মাঝে এ রোগের প্রকোপ অনেক বেশী তাই এ রোগের ঝুকিতে (repetitive strain injury) থাকা পেশাজী্বিদের অবশ্যই কাজের ফাকে ফাকে ঘাড়ের বিশ্রাম নেয়া উচিৎ এবং ধীরে ধীরে ঘাড় চারপাশে ঘুড়িয়ে দৈনিক নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    22232425262728
    2930     
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28