শিরোনাম

মরার পরও দিতে হয় ঘুষ?

| ০২ নভেম্বর ২০১৮ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

মরার পরও দিতে হয় ঘুষ?

হাসপাতালে বেড পেতে গেলে ওয়ার্ডবয়দের হাতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ধরিয়ে দিতে হয়। সিরিয়াল ভেঙে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মেলে ইমারজেন্সি ইসিজি। এমনকি মারা গেলেও ছাড় নেই। ডেথ সার্টিফিকেট নেয়ার সময়ও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়।
এ ঘটনা রাজধানীতে অবস্থিত হৃদরোগে আক্রান্তদের আস্থার জায়গা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মঙ্গলবার এ অভিযান চালায় দুদক।
দুর্নীতির কারণে হাসপাতালটিতে হৃদরোগের চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে— হটলাইনে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযানে হৃদরোগ হাসপাতালে নানা অনিয়মের চিত্র খুঁজে পায় দুদক।
এর আগে ২৫ অক্টোবর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের জন্য রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি ক্ষতিপূরণ পেতে বড় ধরনের ঘুষ-লেনদেন হচ্ছে, এমন অভিযোগ দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে এলে দুদকের তত্পরতায় জমির মালিক ঘুষ ছাড়াই ক্ষতিপূরণ পেতে সমর্থ হন। এছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিভাগে একই কায়দায় অভিযান চালিয়েছে দুদক।
দুদকের হটলাইনে এ রকম অভিযোগ আসছে প্রতিদিন। সরকারি সেবা নিতে ভোগান্তির শিকার হলেই দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬-এ ফোন করছে সাধারণ মানুষ। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময়ে কয়েক লাখ ফোন এসেছে এ নম্বরে। টোল ফ্রি এ নম্বরে দুদকের তফসিলভুক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করছে দুদক। তাতে সুফলও মিলছে বলে দাবি দুদক কর্মকর্তাদের।
জানা গেছে, দুদকের টোল ফ্রি হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানাতে সবচেয়ে বেশি ফোন এসেছে ভূমিসংক্রান্ত। এর পরে আছে নারী নির্যাতন ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ। তবে বেশির ভাগ অভিযোগ দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় সেসব অভিযোগের ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক সমাধানের উপায়টি বাতলে দিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
হটলাইনে যারা ফোন করছেন তাদের তিনটি পদ্ধতিতে সেবা দিচ্ছে দুদক। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে হয়রানি ও ঘুষ দাবি করার যেসব অভিযোগ আসছে, সেক্ষেত্রে হটলাইনে ফোন দেয়ার পর অভিযোগকারীরা কোনও ধরনের হয়রানি ও ঘুষ দেয়া ছাড়াই সেবা পাচ্ছেন।
মাঝারি মানের ঘুষ দাবি করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতনদের জানানোর জন্য দুদকের হটলাইন থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বড় অংকের ঘুষ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ জানালে দুদক ঘুষ গ্রহণকারীকে ঘুষসহ গ্রেপ্তারের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করছে।
দুদক বলছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জীবাণুনাশক অটোক্লেভ মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নিলেও হৃদরোগ হাসপাতালে ২টি অকেজো মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। অকেজো মেশিন মেরামতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএইচডির সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি। ফলে জীবানুমুক্তকরণের ব্যবস্থা না করেই রোগীদের হৃদযন্ত্রের অপারেশন চলছে এবং গত আগস্টের পর ইনফেকশনে রোগী মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে।
কারিগরি ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক ত্রুটি ও অবহেলার কারণে রোগীদের মৃত্যু এবং সার্বিক অভ্যবস্থাপনার বিষয়ে হাসপাতালের প্রফেসর এম আর সিজারকে দুদক টিম জিজ্ঞাসাবাদ করে।
উত্তরে সিজার বলেন, হাসপাতালের দুটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে একটি চালু আছে। অপরটিতে পানি পড়ার কারণে অপারেশন বন্ধ করে রিনোভেশন করা হচ্ছে। পানি পড়ার কারণে ইনফেকশন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তিনি ওয়ার্ডবয় এবং আনসার সদস্যদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করেন এবং বলেন যে তাদের অপসারণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অতি শিগগির এমন দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনুশাসন ভেঙে পড়েছে, এটা ক্ষমার অযোগ্য। এ ব্যর্থতা নিয়ে কারো দায়িত্বে থাকা উচিত নয়। দ্রুত এসব অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর না করতে পারলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দুদকের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এসব ঘটনার পেছনে দুর্নীতিই প্রধান কারণ, দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করবে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
         12
    24252627282930
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28