শিরোনাম

বিএনপির দুই প্রার্থী কারাগারে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার বাড়ছে

| ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির দুই প্রার্থী কারাগারে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার বাড়ছে

পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার বাড়ছে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রাজনৈতিক মামলা-গ্রেপ্তারে সতর্কতার পরামর্শ দেয়া হলেও সমানে গ্রেপ্তার-ধরপাকড় চলছেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত তিনদিনে শুধুমাত্র ঢাকাতেই অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা দেয়া না হলেও পুরনো ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এদিকে গতকাল বিএনপির দু’জন মনোনয়ন প্রত্যাশী পৃথক আদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যেই পুরনো মামলায় ধরপাকড় করা হচ্ছে। আর পুলিশ বলছে, এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় না, ফৌজদারি অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, রাজনৈতিক মামলায় স্থগিতাদেশ থাকলেও ফৌজদারি অপরাধে কোনো বিধিনিষেধ নেই।ফৌজদারি অপরাধে যেকোনো সময় যে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়।

তফসিল ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মামলা-গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আর কোনো মামলা করা হবে না বলে আশ্বাস দেয়া হয়। পরে ১০ই নভেম্বর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষুদে বার্তায় সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক মামলা-গ্রেপ্তারে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও ১০ দিনে ২০ জেলায় ১০০টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এছাড়া বিএনপি তখন অভিযোগ করে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জনকে। চলতি বছরের ১লা অক্টোবর থেকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়েরের অভিযোগ করে বিএনপি। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪১৮২টি গায়েবি মামলা দায়ের এবং এসব মামলায় চার হাজার ৯৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গত দু’দিনে অন্তত ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের পুরাতন নাশকতা, পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

বুধবার ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতাকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার নাম মোশাররফ হোসেন খোকন। ওইদিন তিনি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সঙ্গে থাকা তার প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীকে আটক করা হয়। খোকনের ছেলে রবিন হোসেন গতকাল জানিয়েছেন, বাবাকে আটকের বিষয়টি প্রথমে ডিবি অফিসের কেউ স্বীকার করেনি।

তবে গতকাল পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে তারা। আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এছাড়া মঙ্গল ও বুধবার পল্টন থানা ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুন্না, মো. বেলাল হোসেন, কামাল, শরীফ খান, মুগদা থানা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক মেহরাজ উদ্দিন মিল্লাত, মিথুন মোল্লা, বাবু, শাহবাগ থানা প্রেস ক্লাব ইউনিট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন, শাহবাগ থানা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফ পাঠান, ঢাকা মেডিকেল ইউনিট ছাত্রদল সভাপতি মো. আজিম, পল্টন থানা ছাত্রদল নেতা নোমান, বংশাল থানা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আদিল, ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাজিবুল্লাহ, ৩৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তারেক মাহমুদ, শহীদুল্লাহ, সোহেল, আরিফ ও কামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র বিরোধী লেখালেখির জন্য সাবেক উপসচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াকে আটক করেছে র‌্যাব।

সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ক্রমশ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাটা অপরাধ দমন ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এর পরিণতি দুটো হচ্ছে। প্রথমত, সাময়িকভাবে কিছু রাজনৈতিক ফায়দা বা সুবিধা পাওয়া গেলেও পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয়ত, সমাজে আইন ও আইনের শাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। যার কারণে আজ হোক কাল হোক সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়বে। এটা প্রতিটা নাগরিকের জন্য শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এ ধরনের অশুভ পরিণতির আশঙ্কা আমাকে ভীষণভাবে শঙ্কিত করে।

জট খুলেনি বকর হত্যার: যশোর জেলা বিএনপি নেতা ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। বকর নিখোঁজের পর হত্যার ১২ দিন পার হলেও এখন এ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ২১শে নভেম্বর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে বকরের মরদেহ উদ্ধারের পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) পাঠায়। তার স্বজনরা সেখানেই মরদেহ শনাক্ত করে। গত পরশু বকরের ভাই আবুল কাশেম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বলছে, দলীয় কোন্দল, পানিতে পড়ে মৃত্যু এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ নিয়ে হত্যা এই তিনটি ক্লু নিয়েই তদন্ত করছে পুলিশ। এছাড়া তার মোবাইলে সর্বশেষ কে ফোন দিয়েছিল, নিখোঁজের পর যে সকল বিকাশ নম্বর থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছিল নম্বরগুলোর অবস্থান ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল বলেন, এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। তবে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য বের হবে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, নরসিংদী জেলা বিএনপি সভাপতি ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। নরসিংদীতে পৃথক ২টি নাশকতায় (গায়েবি) মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে গতকাল আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এ মামলায় অন্য ২ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

গতকাল দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ্‌র আদালতে হাজির হন খায়রুল কবির খোকনসহ ৩ জন আসামি। জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল কাদের ভূঁইয়া টিটু। খায়রুল কবির খোকন ২টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি না থাকলেও চার্জশিটে তার নাম থাকায় তিনি এ জামিন নিতে আদালতে যান।

মামলায় সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ অন্যান্য আসামিরা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকায় এবং ঘোড়াদিয়া এলাকায় নাশকতা করার পরিকল্পনা করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় পৃথক ২টি মামলা করে। বানিয়াছলের মামলা নাম্বার মামলা নং ৪(২)১৮, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-১৫০/১৮, ধারা ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৬। ঘোড়াদিয়া মামলা নং ৮(২)১৮, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং ১৫২/১৮। ধারা ১৯৭৩ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬(২) ২৫ ডি। ২টি মামলায় এজাহারে খায়রুল কবির খোকনের নাম ছিল না। গত বুধবার নরসিংদী সদর মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে খায়রুল কবির খোকনের নামসহ অন্যান্য আসামিদের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে খায়রুল কবির খোকন গতকাল আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা-১ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন খানকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পেট্রোলবোমায় ৫ বালু শ্রমিক নিহতের ঘটনার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি। গতকাল আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন জানান, ২০১৫ সালের ২১শে মার্চ মাগুরা-যশোর সড়কের মঘির ঢাল এলাকায় একটি বালুবাহী ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৯ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। যার মধ্যে ৫ জন মারা যান। এ ঘটনায় পরদিন ২২শে মার্চ মাগুরা সদর থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আবদুস সালাম বাদী হয়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন খানসহ ২৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় এ হামলার মূল অর্থদাতা হিসেবে মনোয়ার হোসেন খানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৬ই আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঘটনার পর থেকেই মনোয়ার হোসেন খান আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চলে যান।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সম্প্রতি গোপনে ঢাকায় আসেন। পরবর্তীতে ১৯শে নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন করে জামিন নেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হক ও জাফর আহম্মেদ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২৬শে নভেম্বর সোমবার এ জামিন বাতিল করেন। মনোয়ার হোসেন খান গতকাল মাগুরা জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান তার জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    15161718192021
    22232425262728
    293031    
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28