শিরোনাম

৩ আসনে প্রার্থী নেই বিএনপির তিন আসনেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

| ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

৩ আসনে প্রার্থী নেই বিএনপির তিন আসনেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

দলীয় সব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ঢাকা-১, মানিকগঞ্জ-২ ও বগুড়া-৭ আসনে প্রার্থী নেই বিএনপির। বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির বিকল্প দুই প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল করায় এ আসনে দলটির কোনো প্রার্থীই থাকলো না। মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও আবিদুর রহমান রোমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির ২৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বিএনপি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে দাখিল করা প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে এই আসনে বেগম জিয়ার উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একে এম মাহবুবর রহমানের মনোনয়নও বাতিল করা হয়। বেগম জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং মাহবুবর রহমান বগুড়া পৌরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

একই আসনে বিএনপি থেকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং মহাজোট প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরদিকে বগুড়া-৭ গাবতলী আসনে বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করার পর তার বিকল্প প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন ও সরকার বাদলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলতাফ আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মিল্টন মোরশেদ গত মাসের ২৮ তারিখে পদত্যাগ করলেও তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি মর্মে তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

বগুড়ার ৭টি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন গতকাল সকাল ১০টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল শর্ত যারা পূরণ করতে পারেননি তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বগুড়া-১ এই আসন থেকে ঋণ খেলাপির জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু সুলতান এবং আবদুল মান্নান মিয়া নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ হিসেবে নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বগুড়া-২ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল না করার জন্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং আবুল কাশেম ফকির, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বগুড়া-৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মহিদ বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকার জন্য এবং তাজউদ্দীন মণ্ডল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বগুড়া-৪ অধ্যাপক জাহিদুর রহমানের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের দলের নিবন্ধন না থাকার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আওয়ামী লীগ থেকে কামাল উদ্দীন কবিরাজ, এ এন এম আহসানুল হক এবং ইউনুস আলী মণ্ডল এদের কেউই দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ার কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা করা হয়।

এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জামায়াতে ইসলামী) তায়েব আলী এখনো কাহালু উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আসীন থাকার জন্য এবং ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বগুড়া-৫ আসনে ঋণ খেলাপির জন্য বিকল্পধারার মাহাবুব আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী দবিবুর রহমান বর্তমানে শেরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান থাকার জন্য এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে ওই আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় তাহসিনা জামান হিমিকার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বিক্ষোভ: এদিকে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ডিসি অফিস চত্বরে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ডিসি অফিসের বটতলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকারের নীলনকশা মোতাবেক খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ আদেশ জনগণ মানে না। আগামীতে কর্মসূচি আসছে। সেসব কর্মসূচি সফল করে সরকারকে বিদায় করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ডাক্তার মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, পরিমল চন্দ্র দাস, সিপার আল বখতিয়ার, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, যুবদলের ফারুকুল ইসলাম, মাহবুব হাসান লেমন প্রমুখ।

ফেনীতে খালেদা জিয়াসহ ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির দুই প্রার্থী ও আরো দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান। গতকাল দুপুরে ফেনী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফেনী-১ আসনের (ফুলগাজী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আহমদ মজুমদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বশর চৌধুরী ও মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং অফিসার।

এ আসনে ১৪টি মনোনয়নের মধ্যে মহাজোটের প্রার্র্থী জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, বিএনপির প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) শেখ আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খাইরুল বাশার মজুমদার তপন, গণফোরামের (ঐক্যফ্রন্ট) প্রার্থী এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরীসহ ১০টি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশের দেয়া তথ্য হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার দুটি থানায় দায়ের করা মামলা (জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়) ১০ বছর ও ৭ বছর করে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির অপর প্রার্থী নুর আহম্মদ মজুমদার তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নে কপি সংযুক্ত করেনি। অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বশর চৌধুরী ও মিজানুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিল থাকায়।

ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ও বিএনপির অপর প্রার্থী জিয়া উদ্দিন মাস্টারসহ ৬ প্রার্থী সকলের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনে ১৪ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, স্বতন্ত্র প্রার্থী (মহাজোট বিদ্রোহী জাতীয় পার্টির) আনোয়ারুল কবির রিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিএনপি’র প্রার্থী জনি সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় দুটি হিসেবে ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ খেলাপি বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আনোয়ারুল কবির রিন্টু ও হাসান আহম্মেদ’র এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিল ছিলো।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী (মহাজোট) সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জে (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপির অপর প্রার্থী দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী (মহাজোট বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের) আবুল বশর, তার ছেলে ইশতিয়াক আহমেদ সৈকত, জেএসডি প্রার্থী (ঐক্যফ্রন্ট) সহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ ১১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল
দোহার ও নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীসহ পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসার। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান ফজলুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবিদ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সেকান্দার হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মো. করম আলী এবং বিকল্পধারার মো. জালাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাতিল করা হয়েছে বিএনপির দুই প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক ও ফাহিমা হোসাইন জুবলীর মনোনয়নপত্র। জানা যায়, আবু আশফাকের উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগের কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনে এসে না পৌঁছায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আর ফাহিমা হোসাইন জুবলীর মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয় স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। একইসঙ্গে জাকের পার্টির মো. সামসুদ্দিন আহম্মেদ, জাসদের আইয়ুব খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, যথাসময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আমি লিখিতভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। সুতরাং, মনোনয়ন বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।
বিএনপির অপর প্রার্থী ফাহিমা হোসাইন জুবলী বলেন, আমরা দুই প্রার্থীই নির্দিষ্ট সময়ের আগে আপিল করবো।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    15161718192021
    22232425262728
    293031    
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28