শিরোনাম

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে ক্ষোভ

| ১৫ মার্চ ২০১৯ | ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে ক্ষোভ

বছর না ঘুরতেই আবার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে ক্ষোভ-অসন্তোষ সব পক্ষেরই। রাজধানী টিসিবি ভবনে গত চারদিন গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা, সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাংবাদিকরা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্যাসের দাম বাড়ালে কারখানার বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ হিসাব কষছে, দুই চুলার বিল বাবদ তাদের খরচ কতটা বাড়বে? আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যয় ওঠাবেন।

সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গ্যাসের বাড়তি দাম ওঠাবে। পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাড়াবেন ভাড়া। সব মিলিয়ে বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়।বিতরণকারী কোম্পানিগুলো গত ডিসেম্বরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)কে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি অনুমিতই ছিল। এদিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের পর রাজনৈতিক দলগুলোও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দাম বাড়ালে আন্দোলনেরও হুমকি দেয়া হয়েছে দলগুলোর পক্ষ থেকে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়, যার দাম পড়ছে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৩০ টাকা। এ দর দেশীয় গ্যাসের চার গুণের বেশি। এলএনজির কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গণশুনানি করে বিইআরসি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়িয়েছিল। অবশ্য ভোটের আগে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় গ্যাসের বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপায়নি। সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সেটি সমন্বয় করা হয়।

ভোটের দুই মাস পর এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিইআরসি। এবারের প্রস্তাবে সব ধরনের গ্যাসের দাম গড়ে প্রায় ১০৩ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নতুন প্রস্তাবে বিদ্যুতে ২০৮ শতাংশ, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯৬ শতাংশ, শিল্পে ১৩২ শতাংশ, সার কারখানায় ২১১ শতাংশ ও বাণিজ্যিক খাতে ৪১ শতাংশ, আবাসিকে ৮০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আবাসিকে একচুলা বর্তমান দর ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৪৪০ টাকা করার  প্রস্তাব করেছে। গড়ে ১০২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৬ বার।

গণশুনাতিতে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসি কর্র্তৃক গৃহীত হওয়া এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনি। তাই প্রস্তাবগুলোর ওপর আয়োজিত এই গণশুনানি বাতিল করতে হবে। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসি কর্র্তৃক গৃহীত হওয়া এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনি। তাই প্রস্তাবগুলোর ওপর আয়োজিত এই গণশুনানি বাতিল করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস সঞ্চালন মূল্যহার, গ্যাস বিতরণ মূল্যহার এবং পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো কয়েকটি কারণে অযৌক্তিক এবং বেআইনি। বিইআরসি আইনের ২(ঝ) উপধারা মতে এনার্জি সরবরাহ বা তৎসম্পর্কিত বিশেষ সেবার মূল্যহার এবং ৩৪ (৫) উপধারা মতে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না। যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটে। গত বছরে ১৬ই অক্টোবর বিইআরসি এলএনজি মিশ্রিত পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার, বিতরণ ও সঞ্চালন মূল্যহার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য মূল্যহার বৃদ্ধি/নির্ধারণ করে গ্যাস সরবরাহ ট্যারিফ/মূল্যহার পুনঃনির্ধারণের আদেশ দেয়। তাতে গ্যাস সরবরাহ মূল্যহার ৭ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ৩ মাসের ব্যবধানে সঞ্চালন ও বিতরণী কোম্পানিগুলো পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধিসহ সঞ্চালন ও বিতরণ সেবার মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। তাতে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ মূল্যহার ৮ টাকা ৬৩ টাকা থেকে ১২ টাকা ১৯ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

তিনি বলেন, ৩ মাসের ব্যবধানে পাইকারি গ্যাসসহ সঞ্চালন ও বিতরণ সেবার কোনো পর্যায়ে মূল্যহার পরিবর্তনের কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি, তাই বিতরণ, সঞ্চালন, কিংবা পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। অধ্যাপক  ড. বদরুল ইমাম বলেন, গ্যাস নিয়ে টানাটানি। গ্যাসের চুরি থামে না, দাম বৃদ্ধিও বন্ধ হয় না। দাম বেড়ে কোথায় যাবে? তিনি বিইআরসিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখানে কি নাটক হয়? তিনি যুক্তিগুলো গ্রহণ এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থার আহ্বান জানান। সিপিবি’র নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, অযৌক্তিক কারণে গ্যাসের দাম বাড়লে ঘরে-বাইরে সব জায়গায় আন্দোলন করবো। তিনি বলেন, ভারতে এলএনজি আমদানি প্রতি ঘনমিটারে ৬ মার্কিন ডলার খরচ পড়লেও বাংলাদেশে ১০ ডলার খরচ পড়ছে। এটা কেন? গণসংহতি আন্দোলনের  প্রধান সমন্বয়কারী  জুনায়েদ সাকি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে জনপ্রতিরোধ করা হবে। এক বছরের মধ্যে দু’বার দাম বাড়ানোর  কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। তিনি বলেন, অবৈধ লাইনে গ্যাস দেয়া হয়, তা বন্ধ করুন। অবৈধ লাইন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের দাম বাড়ানো যাবে না।

গণশুনানির দ্বিতীয় দিনে শিল্প বণিক সংস্থা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন গ্যাসের দাম না বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, যদি আমরা এমডিজির মতো সাফল্য অর্জন করতে চাই, শিল্পে কর্মসংস্থান ছাড়া তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এখন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে উদ্যোক্তারা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ ছাড়া নতুন শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিক পূর্বাভাস দেয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ী এই নেতা।

একইদিনের গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সারাবিশ্বে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কমেনি। আবেদন করার পর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সবেমাত্র গ্যাস সংযোগ পেতে শুরু করেছে। এখন এই দাম বৃদ্ধি কার স্বার্থে করা হচ্ছে? তিনি গণশুনানিকে হাস্যকর আখ্যা দেন। বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গার্মেন্টস শিল্প যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে তার পেছনে আমাদের ১৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। আপনারা বারবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছেন কিন্তু আমরা যে ইভিসি (ইলেকট্রিক ভলিউম কারেকটর) মিটার চাচ্ছি তা দুই থেকে তিন বছরেও দিতে পারেন নি। ফলে গ্যাসের নিম্নচাপ, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বিল বেশি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাবি বিইআরসি’র কাছে দিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না আমাদের।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর ভূঁইয়া বলেন, এবারের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবটি গলদে ভরা। এলএনজি আমদানি করে দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মেশানোর আগে দাম পড়ে প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। অথচ এখনই সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা, যা ৪৮ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে গোটা পরিবহন সেক্টর অস্থির হয়ে উঠবে।

বাম জোটের হরতালের হুমকি: গ্যাসের দাম নিয়ে রাজধানীর কাওরান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ের সামনে গত বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম জোটের নেতারা দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। এ সময় তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে হরতাল কর্মসূচির হুমকি দেন।

সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ বক্তব্য।
গণফোরামের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান। গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে। জনজীবন, উৎপাদন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিল্প-কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও যাতায়াত খরচের উপরও পড়বে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গণশুনানির নামে প্রতারণা ও এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

স্থগিত চেয়ে আবেদন: গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ চার্জ এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যহার পুনঃনির্ধারণে গণশুনানির জন্য বিইআরসির দেয়া নোটিশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর ৩১শে মার্চ আদেশের জন্য দিন রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বুধবার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদেশের এ দিন ধার্য করেন। বিইআরসি গত অক্টোবরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে ক্যাবের আহ্বায়ক ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরুর পর তিনি হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন, যার ওপর বুধবার শুনানি হয়।

এদিকে, গণশুনানির শেষদিন বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম তার বক্তব্যে গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও সংস্থাকে ইঙ্গিত  করে বলেন, ভবিষ্যতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর জন্য প্রস্তাব করবেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
          1
    23242526272829
    3031     
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28