শিরোনাম

চট্টগ্রামে মাঝারি ও নিম্ন মানের মসলা আমদানি

| ০৭ জুলাই ২০১৯ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে মাঝারি ও নিম্ন মানের মসলা আমদানি

চট্টগ্রাম মহানগরীর সবক’টি বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে মসলা। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও আমদানি করা হচ্ছে নানা রকম মসলা, যা মাঝারি ও নিম্নমানের। বিষয়টি স্বীকার করেছেন খোদ আমদানিকারক নিজেরাই। তারা বলছেন, ভালোমানের মসলার ক্রেতা বাজারে নেই। তাই মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আমদানি করা হচ্ছে। আবার এই মাঝারি ও নিম্নমানের মসলার মধ্যেও বিভিন্ন ভেজালের মিশ্রণ ঘটাচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। যা নামিদামি ব্র্যান্ডের সিল লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

আমদানিকারকরা জানান, বাংলাদেশে রান্না ও ওষুধ তৈরিতে ৪৪ ধরনের মসলা ব্যবহৃত হয়।

এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় অন্তত ১২ ধরনের মসলা। প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড় লাখ টন এসব মসলা আমদানি হয় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে।
মসলা আমদানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি অমর দাশ জানান, বিশ্ববাজারে এ, বি, সি, ডি থেকে মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আছে। এ, বি, সি, ডি মানের মসলা সৌদিআরবসহ উন্নত দেশগুলোতে নিয়ে যায়। ভারত ও বাংলাদেশে মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আসে।

যেমন-এলাচ আসে মাঝারি মানের। জিরা ওষুধ তৈরিতে লাগে। সেটা কিছুটা ভালোমানের আমদানি হয়। কারণ, বাজারে ভালো জিরার চাহিদা আছে। এ ছাড়া স্থলপথে ভারত থেকেও মসলা আনা হয়।

খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনুকূল ট্রেডার্সের মালিক সজীব কুমার সিনহা বলেন, আমরা তিন ক্যাটাগরির মসলা আমদানি করি। কিছুটা ভালো, মাঝারি এবং নিম্নমানের। তবে, নিম্নমানের বলতে খাওয়ার অনুপযোগী সেটা নয়। তবে সবচেয়ে ভালো যে মসলাটা, তার চাহিদা বাজারে নেই।

তিনি বলেন, দেশে যেসব মসলার ব্যবহার বেশি সেগুলো হচ্ছে- আদা, হলুদ, মরিচ, রসুন, পিয়াজ, কালোজিরা, গোলমরিচ, দারচিনি, শলুক, আলুবোখারা, বিলাতি ধনিয়া, ধনিয়া, জাফরান, তেজপাতা, জিরা, জাউন, চিপস, সাদা এলাচ, কালো এলাচ, মেথি, পানবিলাস, দইং, কারিপাতা, পাতা পিয়াজ, পেস্তাবাদাম, শাহি জিরা, পার্সলে, কাজুবাদাম, জায়ফল, জয়ত্রি ও লবঙ্গ। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশে রসুন, আদা, হলুদ, এলাচ, জিরাসহ ১২টি মসলা আমদানি হয়।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন মসলা আমদানি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার টন মসলা।

সূত্রমতে, সমুদ্রপথে সাধারণত সিঙ্গাপুর, চীন, ভিয়েতনাম, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের অধিকাংশ মসলা আসে। এ ছাড়া পাকিস্তান, সিরিয়া, আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, মাদাগাসকার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা থেকেও আসে কিছু মসলা। চাহিদার বাকি মসলা ভারত থেকে স্থলপথে আসে। মোট ২৪টি দেশ থেকে মসলা ঢোকে বাংলাদেশে।

আমদানিকারক সজীব কুমার সিনহা বলেন, খাতুনগঞ্জে আমরা যেসব মসলা আড়ত থেকে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছি, সেটা যদি অবিকৃতভাবে কারখানাগুলোতে যেত, তাহলে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে বের হলেই তো মসলা ডুপ্লিকেট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাসায়নিক, ইটের গুঁড়া, পাথর, রঙ মেশানো হচ্ছে। মানটা নিম্নমুখী হয়ে যাচ্ছে। অনেক কারখানার মালিক তো আমাদের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকেই মসলা কিনে প্যাকেটে ভরে বিক্রি করছে।

সজীব কুমার সিনহা আরো বলেন, শুধু আমদানিকারকদের ওপর দোষ দিলে হবে না। মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা কিন্তু এখন নতুন আমদানি হচ্ছে না। আমদানি করা মসলা যে বাজারে গিয়ে ভেজাল হয়ে যাচ্ছে, সেটা রোধ করা বেশি জরুরি।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সমপাদক সৈয়দ ছগির আহমদ বলেন, একসময় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভেজাল মসলা গুঁড়া তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। পরে আমরা কঠোর অবস্থান নেই। এখন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে এই ধরনের কাজ হচ্ছে না। তবে, শহরের বিভিন্নস্থানে ভেজাল মসলা প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এটা নিশ্চয় প্রশাসনও জানে। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট ৫২টি খাদ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ৫২টি পণ্যের মধ্যে নামিদামি কোমপানির গুঁড়ো মসলাও আছে। হাইকোর্টের এ আদেশের পর মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আমদানির বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
      12345
    20212223242526
    2728293031  
           
      12345
    27282930   
           
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28