শিরোনাম

রাজকোটে বড় হার

| ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

রাজকোটে বড় হার

রাজকোটে চাপটা ছিল ভারতীয়দের ওপরই। আর টাইগারদের সামনে ছিল আগাম উৎসবের হাতছানি। জয় পেলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যেতো টাইগারদের। দলের চাপটা নিজের শততম ম্যাচে ব্যাট হাতে সামাল দিলেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তবে বাংলাদেশের সামনে রইলো আর এক সুযোগ। গতকাল ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটে হার দেখে টাইগাররা। এতে তিন ম্যাচের সিরিজে ফিরলো ১-১ সমতা। দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

আগামী ১০ই নভেম্বর সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে দু’দল। ওই ম্যাচে জয় পেলে ভারতের মাটিতে ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ। নিজ মাটিতে কখনোই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারেনি ভারত। আর সংক্ষিপ্ত ঘরানার ক্রিকেটে ভারতের মাটিতে সিরিজ জয়ের নজির রয়েছে কেবল নিউজল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার। ২০১৫ সালে ভারত সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০তে জয় পেলেও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় তা গণনা হয় না।

গতকালের ম্যাচটি ছিল রোহিত শর্মার ১০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশেষ এ ‘সেঞ্চুরি’ পূর্ণ করলেন রোহিত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শতাধিক (১১১) ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব আর কেবল পাকিস্তানি তারকা শোয়েব মালিকের। অন্যদিকে আবারো বল হাতে প্রতিশ্রুতি দেখালেন বাংলাদেশের তরুণ তারকা আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। গতকাল ৪ ওভারের স্পেলে ২৯ রানে দুই উইকেট নেন বাংলাদেশের এ লেগ স্পিনার। প্রথম ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েছিলেন বিপ্লব। গতকাল রাজকোটে আগে ব্যাটিং শেষে ভারতকে ১৫৪ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ২৬ বল হাতে রেখে টার্গেট পার করে স্বাগতিকরা। ভারতের ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন রোহিত শর্মা । ৪৩ বলের ইনিংসে সমান ছয়টি চার-ছয় হাঁকান ভারতীয় ওপেনার। ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড স্পর্শ করেন ২৩ বলে ৫০ পূর্ণ করে। অপর ওপেনার শিখর ধাওয়ান করেন ২৭ বলে ৩১ রান। ওপেনিং জুটিতে ১০.৪ ওভারে ১১৮ রানের জুটি গড়েন তারা।

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ভাগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন নাঈম শেখ ও লিটন কুমার দাস। শেষে খেই হারান টাইগার ব্যাটসম্যানরা। আর বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল নড়বড়ে। ইনিংসের শুরুর দুই বল ছিল ওয়াইড ডেলিভারি। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের তৃতীয় বলে লেগবাই ১ রান, আর পরে দুই বাউন্ডারি শেষে ওভার থেকে ভারতের স্কোর বোর্ডে জমা হয় ১১ রান। পরের দুই ওভারে পেসার শফিউল ইসলাম ৮ ও আল আমিন হোসেন ৩ রান দিলে শৃঙ্খলার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে বল হাতে নিতেই আবারো বেহিসাবী মোস্তাফিজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কাসহ ১৫ রান দেন মোস্তাফিজ। লাগাম খুলে যায় ভারতের ইনিংসের। টাইগার বোলারদের তুলোধুনো করে মাত্র ১৫.৪ ওভারে জয় নিশ্চিত করে ভারতীয়রা। উইকেটশূন্য মোস্তাফিজ ৩.৪ ওভারে ৩৫ আর শফিউল ইসলাম দুই ওভারে দেন ২৩ রান। গতকাল শিশির ভেজা পরিবেশে বল হাতে ম্লান ছিলেন আগের ম্যাচে তিন ওভারে ১১ রান দেয়া আফিফ হোসেনও। রাজকোটে ১ ওভারে আফিফ দেন ১৩ রান। আর দিনটি নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবেন অলরাউন্ডারের কোটায় একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ইনিংসের শেষ দিকে ৯ বলে ৭ রান করার পর বল হাতে এক ওভারে সৈকত দেন ২১ রান। তার ওভারে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের একমাত্র সফল বোলার আমিনুল রান খরচেও ছিলেন সাশ্রয়ী । ৪ ওভারে আমিনুলের ইকোনমি গড় ৭.২৫।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক । ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় ওভারের শুরুর তিন বলে ভারতীয় পেসার খলিল আহমেদকে টানা তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভক্তদের শুভ বার্তা দেন নাঈম শেখ। নিজের উইকেট দেয়ার আগে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন এ টাইগার ওপেনার । ৩১ বলের ইনিংসে পাঁচটি চার হাঁকান তিনি।

দারুণ সূচনায় প্রথম উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন নাঈম ও লিটন কুমার দাস। এ জুটি ভাঙে লিটনের বোকামিতে। ভারতীয় স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের ডেলিভারি তার প্যাডে লেগে সামনে পড়ে। এসময় ভারতীয় ফিল্ডারদের এলবি’র আবেদনের মধ্যেই লিটন ক্রিজ থেকে বের হয়ে যান। পরে ফিরতে চাইলেও ভারতীয় উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্ত বল কুড়িয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন। ব্যক্তিগত ২৯ রানে লিটনের উইকেট কাটা পড়ে রানআউটে। ২১ বলে ২৯ রান করেন লিটন। অল্পতে থামে সৌম্য সরকারের প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংসও। ওয়ানডাউনে ব্যাট হাতে ২০ বলে ৩০ রান করেন সৌম্য। এতে সৌম্য হাঁকান দুটি চার ও একটি ছক্কা। এর মাঝে ব্যক্তিগত ৪ রানে উইকেট খোয়ান আগের ম্যাচের ‘হিরো’ মুশফিকুর রহীম। পরে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেললেও দলের বড় পুঁজি সংগ্রহে তা যথেষ্ট ছিল না। আর ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘উইকেট ভালো ছিল। ২৫-৩০ রান কম ছিল আমাদের। আর ব্যাটে রোহিত-শিখরকে কৃতিত্ব দিতে হয়। এমন উইকেটে রিস্ট স্পিনাররা বেশি কার্যকরী, যা দেখিয়েছেন চাহাল। আর আমিনুল আমাদের জন্য দারুণ আবিষ্কার। আশা করি সে নৈপুণ্য ধরে রাখবে। নাগপুরে কন্ডিশন বুঝতে হবে এবং ইতিবাচক থাকতে হবে আমাদের।’
রাজকোট স্টেডিয়ামে এটি মাত্র তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা দুই দলের ভাগ্য ছিল দুই রকম। ২০১৩ সালে সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারত জিতলেও চার বছর পর দ্বিতীয় ২০ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে জয় পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
          1
    16171819202122
    23242526272829
    30      
      12345
    27282930   
           
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28