শিরোনাম

হলি আর্টিজান মামলার রায় আজ, দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

| ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

হলি আর্টিজান মামলার রায় আজ, দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

আলোচিত হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালত পাড়ায় নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রায়কে ঘিরে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। ২০১৬ সালের ১লা জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে হামলা চালায় পাঁচ জঙ্গি। তারা ভেতরে থাকা সবাইকে জিম্মি করে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জঙ্গিদের হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

পরে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বীর, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নামে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। সেখান থেকে ১৭ বিদেশি ও চার জন বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিরা তাদের কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে। বিশ্বব্যাপি আলোচিত এই ঘটনার দুই দিন পর গুলশান থানার এসআই উত্তম কুমার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দুই বছর ২২ দিন তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৩শে জুলাই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবীর সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩) এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৩ জন ২০১৬ সালের ১লা জুলাই থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন। জঙ্গি হামলার অভিযোগ থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেজাউল হাসনাত করিম ও কানাডার টরেন্টো ইউনিভার্সিটির ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ওই মামলার অভিযুক্ত আট আসামি হলো, গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, নওগাঁর আসলাম হোসেন ওরফে আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, কুষ্টিয়ার আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, জয়পুরহাটের হাদীসুর রহমান ওরফে সাগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, বগুড়ার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, একই জেলার মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও রাজশাহীর শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ। মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক রয়েছে।
বাকিরা কারাগারে আছে। ঘটনা সম্পর্কে জানেন কিংবা ঘটনা দেখেছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জানেন-এরকম ১১৩ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী ঘটনার দিন হলি আর্টিজানের ভিতর অবস্থান করছিলেন। তাদেরকে কমান্ডো বাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব উদ্ধার করে। রায় ঘোষণার দিন ধার্য করার আগে এই মামলার ৭৫ টি আলামত আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৬শে নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে ৮ই আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। একই বছরের ২৩শে জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হুমায়ূন কবির মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের জিআর শাখায় মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২৬শে জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বদলির আদেশ দেন। ওই হামলার কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে মামলার চার্জশিটে বলা হয়, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হলো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী। ভয়াবহ এই হামলায় চিহ্নিত ২১ জনের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি অংশ নেয়। বাকিরা হামলার পরিকল্পনা, সমন্বয়, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র-বোমা সংগ্রহসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত ছিলো। হামলার মূল প্রশিক্ষক (মাস্টার ট্রেইনার) মেজর জাহিদ কিংবা তানভির কাদেরি, নুরুল ইসলাম মারজান ছিলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসামি। গুলশান হামলার জন্য বগুড়ার দুই জঙ্গিকে নিয়োগ করে রাজীব আর বসুন্ধরায় বাসা ভাড়া ও জঙ্গিদের উদ্ধুদ্ধও করে সে। জঙ্গি সাগর সীমান্তের ওপার থকে আনা অস্ত্র ঢাকায় মারজানের কাছে পৌঁছায়। বাশারুজ্জামান মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে দুই দফা হুন্ডির মাধ্যমে আসা ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করে এবং সেই টাকা গুলশান হামলায় ব্যবহৃত হয়।
যারা এই হামলা চালিয়েছিল তারা ৫ থেকে ৬ মাস ধরে পরিকল্পনা করেছিল। সেখানে হামলা চালানো জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আর সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেও জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছিল। অভিযানে নিহত হলি আর্টিজানের পাচক সাইফুল ইসলামকে শুরুতে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলেও তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি। এমনকি জঙ্গি হামলার পর আটক হলি আর্টিজানের ডিশ ক্লিনার জাকির হোসেন শাওনের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
হামলায় অংশ নেয়া নব্য জেএমবির পাঁচ জঙ্গি নিবরাজ ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নিহত হয় ওই অভিযানে। আর পরে জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী, মেজর (চাকরিচ্যূত) জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু রায়হান তারেক, সারোয়ার জাহান, বাসারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান নিহত হন।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, হলি আর্টিজানের মামলার রায় ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে। ওইদিন যারা নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক বলে আমরা প্রত্যাশা করি। দেশে যখনই জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখনই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নসাৎ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজানের হামলার পর র‌্যাব তখন থেকে এ পর্যন্ত ৮০৯ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও ২৫ জঙ্গি বিভিন্ন অভিযানে র‌্যাবের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। ৮ জন জঙ্গি র‌্যাবের কাছে এসে তাদের কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে আত্মসমর্পন করেছে। আমরা জঙ্গিবাদকে দমনের জন্য নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছি। লিফলেট বিলি করেছি। আলেম ওলামাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছি। রায়কে ঘিরে নাশকতা এড়াতে র‌্যাব সতর্ক রয়েছে। আলোচিত এ মামলার রায় শুনতে বিদেশী পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকা মহানগর আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা: আলোচিত হলি আর্টিজান হামলার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবেশ পথগুলোত আর্চওয়ে বসানো হবে। এছাড়াও ৩ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরজমিনে দেখতে গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর আদালত পাড়ায় যান ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন) কৃষ্ণপদ রায় ও অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মীর রেজাউল করীম। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নানা পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির ডিসি (প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন জানান, রায়কে ঘিরে আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিয়ে করলেন নাবিলা

২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফেইজবুকে আমরা

  • পুরনো সংখ্যা

    SatSunMonTueWedThuFri
    78910111213
    14151617181920
    21222324252627
    28293031   
           
      12345
    27282930   
           
          1
           
          1
    9101112131415
    30      
         12
           
          1
    2345678
    30      
       1234
    262728293031 
           
         12
           
      12345
    2728293031  
           
    891011121314
    2930     
           
        123
           
        123
    25262728   
           
    28293031   
           
          1
    2345678
    9101112131415
    3031     
          1
    30      
      12345
    272829    
           
        123
           
    28