মানবপাচারে জড়িতদের অর্থের উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট

Manobpacher-swadeshnews 24কক্সবাজারে সাগরপথে মানবপাচারে জড়িতদের অর্থের উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট। এজন্য ৪৬১ জনের একটি তালিকা করে তা পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে।

তালিকায় নাম রয়েছে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই ও ভাগ্নেসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির। সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ মানবপাচার। যার প্রধান রুট কক্সবাজার। এই এলাকা হয়ে মানব পাচারের একের পর এক লোমহর্ষক খবর গেল বছর পর্যন্ত বেশ নাড়া দেয় গোটা দেশকে। এরপর টনক নড়ে প্রশাসনের। বাড়ে সব সংস্থার তৎপরতা।

অভিযোগ আছে, এই অবৈধ কর্মকান্ড ঘিরে লেনদেন হয় বিপুল অর্থের। তাই, চিহ্নিত মানবপাচারকারীদের অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের এই উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট। এজন্য তারা ৪৬১ সন্দেহভাজনের একটি তালিকা পাঠায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে তাতে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রতি বিশেষ নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। তালিকাভুক্ত সবার বাড়িই কক্সবাজার অঞ্চলে।

এরমধ্যে ৩৫৯ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। এছাড়া সন্দেহভাজনদের ৪২ জন মিয়ানমারের নাগরিক। আর ৫ জনের অবস্থান মালয়েশিয়ায়। তালিকাভুক্তদের ১শ জন আবার বিভিন্ন মানবপাচার মামলার আসামী। এরমধ্যে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই ও ভাগিনার নামও আছে।

রয়েছেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজন। তবে এমন তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। যদিও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজারে পাচাররোধে সোচ্চার বিভিন্ন ফোরামের নেতারা। সন্দেহভাজনদের আর্থিক ভিত ভেঙে দেওয়া গেলে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মত স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.