সুশান্তের ব্যাংক একাউন্ট সামলাতেন রিয়া

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত করছে মুম্বই পুলিশ। প্রয়াত অভিনেতার বাবা সম্প্রতি তার ছেলের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে রাজীব নগর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। তারপরে পটনার চার জন পুলিশকর্মীর একটি টিম এই ঘটনা তদন্ত করা শুরু করেছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সমস্ত রকমের ট্রানজাকশন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক টিভি এই তথ্যগুলি খতিয়ে দেখেছে। এবং ব্যাংক ট্রানজকশন এর সমস্ত রকমের ডকুমেন্টস এ দেখা যাচ্ছে, রিয়া ও তার ভাই শৌভিক এর জন্য সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রানজাকশন হয়েছে। গত এক বছর ধরে সুশান্তের ব্যাংক থেকে যা ট্রানজেকশন হয়েছে তাতে তার জীবনে রিয়ার ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। বিমানের টিকিট, হোটেলের ভাড়া, শপিং, টিউশন ফি সহ নানা রকমের বিষয় ট্রানজেকশন হয়েছে সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে।

আর এগুলি সবই রিয়া ও তার ভাই শৌভিকের জন্য হয়েছে। সুশান্তের একটি ব্যাংকে ২০১৯ এর নভেম্বর মাসে ব্যালেন্স ছিল ৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। দেখা যাচ্ছে তখন একসঙ্গে অনেক টাকা তুলে নেওয়া হয় তার ব্যাংক থেকে। ব্যালেন্স হিসেবে পড়ে থাকে ১ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে রিয়ার ভাই শৌভিকের ফ্লাইট এর টিকিট বুক করা হয়েছে ৮১ হাজার টাকা দিয়ে। এছাড়া পোশাক আশাক, মেকআপ, শপিং বিউটি পার্লারের জন্য ১ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন রিয়া। সুশান্তের বাবা কে কে সিং এফআইআর-এ দাবি করেছেন গত এক বছরে সুশান্তের একাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলে এমন একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে যার সঙ্গে তার ছেলের কোন যোগাযোগ নেই। তিনি আরো দাবি করেছেন তার ছেলের আত্মহত্যার আগে বড়োসড়ো ষড়যন্ত্র করেছেন রিয়া ও তার পরিবার। তার মতে রিয়া সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলিউডে নিজের জায়গা পাকাপাকিভাবে তৈরি করার জন্য এবং সুশান্তের অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য। রাজীব নগর থানায় রিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন সুশান্তের বাবা। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৪২, ৩৮২, ৪২০, ৩০৬ এবং ১২০ (বি) ধারায় রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী সন্ধ্যা চক্রবর্তী, শ্রুতি মোদী, শৌভিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুশান্তের বাবা রিয়ার বিরুদ্ধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ এনেছেন। তার অভিযোগ, রিয়া সুশান্তকে তার পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন এবং সম্পূর্ণ নিজের অধীনে রাখতে চেয়েছিলেন। রিয়া সুশান্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও সামলাতেন। এমনকী অভিযোগ, সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। জানিয়েছেন থানার এক পুলিশ আধিকারিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.