সাধারণ জনগণের জন্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের করোনা ভাইরাসের টিকা অনুমোদন দিয়েছে চীন। এ বিষয়ে বেইজিংয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে এ বিষয়ক টাস্কফোর্স। তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে মান নির্ধারণ করেছে, সিনোফার্মের টিকা তা অতিক্রম করেছে। এর ফলে এই টিকা চীনে কার্যকর রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। এতে আরো বলা হয়, সাধারণ জনগণের মধ্যে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে ঝুঁকিতে থাকা গ্রুপকে। গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপকে এরই মধ্যে জরুরি অনুমোদনের অধীনে টিকা দেয়া হচ্ছে। সিনোফার্মের কাছ থেকে এ জন্য তারা পাচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টিকা।
জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপ-প্রধান জেং ইসিন বলেছেন, তারা শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, চীনের টিকা যেহেতু নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তাই আমরা লোকজনকে স্বেচ্ছায় এবং জেনেশুনে নিজের ইচ্ছায় এই টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করছি। সুনির্দিষ্ট কবে থেকে গণহারে টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে তার তারিখ ঘোষণা না করলেও তিনি বলেছেন, উল্লেখযোগ্য কম দামে খুব শিগগিরই টিকা দেয়া শুরু হবে। টিকা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করে এমন একটি গ্রুপের প্রধান ঝেং ঝংউই। তিনি বলেছেন, টিকা হলো জনগণের ভালোর জন্য। তাই এর দাম রাখা হবে সামান্য। তবে এই টিকা বিনা মূল্যে লোকজনের মধ্যে দেয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ফলে এর পরপরই রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সিনাফার্মার টিকা দেয়া হবে বিনামূল্যে।
উল্লেখ্য, বিশ্বে এখন চূড়ান্ত পরীক্ষায় রয়েছে ৫টি টিকা। তার মধ্যে দুটি টিকা তৈরি করেছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিনোফার্মা। তবে গণহারে চীনে এ দুটি টিকার কোনটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা পরিষ্কার করে জানানো হয়নি। ওদিকে বুধবার সিনোফার্মা ঘোষণা দেয় যে, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় তাদের টিকা শতকরা ৭৯ ভাগ কার্যকর পাওয়া গেছে। এরপরই বৃহস্পতিবার ওই টিকা অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই টিকা পরীক্ষায় শতকরা ৮৬ ভাগ কার্যকর বলে দাবি করা হয়। তবে এই টিকা চীনে পরীক্ষা করা হয়নি। কারণ, সেখানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক নয়। ওদিকে তাদের পরীক্ষার ডাটাও প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেছেন, সিনোফার্মার ডাটা আরো পরে প্রকাশ হবে চীন ও বিদেশি মেডিকেল জার্নালে।