প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন সেই হালিমন

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৮৫ বছরের সেই হালিমন বেওয়া।

শনিবার অনলাইনে ‘৮৫ বছরেও হালিমনের কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিকে নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহানকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারসামগ্রী রাতেই হালিমন বেওয়ার বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব, যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল, সাংবাদিক ফরমান শেখ, রফিকুল ইসলাম রবি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান আবেগ প্রবণ হয়ে হালিমনকে জড়িয়ে ধরেন এবং বয়স্ক ভাতার কার্ড ও থাকার ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে তার সার্বিক বিষয়ে দেখাশোনা করার নির্দেশ দেন।

বৃদ্ধ হালিমন বেওয়া। চার ছেলে ও এক মেয়ের জননী হলেও বর্তমানে ঠিকমতো খাবার জুটছে না তার। সন্তানরা বিয়ে করে আলাদা হয়ে সংসার করলেও মায়ের খোঁজখবর নেন না তারা। ফলে সহায় সম্বলহীন হালিমন বেওয়া খুব কষ্টে দিন পার করছেন।

তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের মৃত সাহেব আলী মোল্লার স্ত্রী। একসময় বৃদ্ধা হালিমনের জায়গা জমি, ঘরবাড়ি সবই ছিল। প্রমত্তা যমুনা নদীর ভাঙনে হারিয়ে গেছে স্বামীর বসতভিটা ও ফসলি জমি। ফলে নিঃস্ব হালিমনের এখন শেষ বয়সে এসেও অন্যের দান সহায়তায় জীবন চলছে। শরীরও এখন আর আগের মতো চলতে পারে না। বয়স্ক ভাতার কার্ডও পাননি তিনি।

খাবার জোটাতে বাড়ির পাশে যমুনায় জেগে ওঠা তপ্ত চরে প্রায় দুই কিলোমিটার বালুর পথ হেঁটে গিয়ে শাক ও জ্বালানির জন্য লাকড়ি সংগ্রহ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *