ইটভাটা মালিকদের হয়রানি করা হলে আগামী ঈদের পরে আন্দোলনের মাধ্যমে সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির নেতারা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন তারা।সংগঠনের সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান বলেন, ইট শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মচারী জড়িত। বিভিন্ন সময় অভিযানের নামে বিভিন্ন ইটভাটায় হানা দিয়ে জেল ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এসব হয়রানি বন্ধ না হলে রোজা ঈদের পরে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তৃতায় ফিরোজ হায়দার বলেন, বাংলাদেশের ইটভাটা মালিকরা বিগত ৩৫-৪০ বছর যাবৎ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে ইটভাটার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। দেশের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ সব অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত ইট সরবরাহ করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখছে। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সমতা রেখে ভাটার মালিকরা বায়ুদূষণ রোধে সরকার নির্দেশিত আধুনিক প্রযুক্তির জিগজাগ ভাটা স্থাপন করি। যা জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উপমহাদেশে টেকসই এবং সহজ প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে জরিপ অনুযায়ী, এখন দেশের ইটভাটাগুলো মাত্র ৫-১০ শতাংশ বায়ুদূষণ করছে, জৈববস্তু পোড়ানোতে ৪০ শতাংশ এবং যানবাহনের কালো ধোয়া ৫০ শতাংশ দূষণ করে। পূর্বে ইটভাটার দূষণমাত্রা ছিল ৫৮ শতাংশ। বিদ্যমান জিগজাগ ভাটায় আরও অধিকতর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছে এবং ৫০ লাখ পরিবার তথা ২ কোটি মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা আমরাই করেছি। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে এই লোকগুলো বেকার হয়ে পড়বে। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি ইটভাটার বিপরীতে ১ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক লোন রয়েছে, যা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এই ভাটাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সব ব্যাংক লোন অনাদায়ী থেকে যাবে। ইটভাটার মালিকরা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার অধিক রাজস্ব দিয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অত্যন্ত আন্তরিক হলেও বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জিগজাগ ইটভাটার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। আমরা আশা করছি, প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার মাধ্যমেই ইটভাটা পরিচালনার একটি যৌক্তিক সমাধান হবে। সবার আগে ড্রাম চিমনি, ফিক্সড চিমনি ও লাকড়ি দিয়ে পোড়ানো ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্তে উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা না করে তার বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে বৈধ পদ্ধতির জিগজাগ