1. ccadminrafi@gmail.com : Writer Admin : Writer Admin
  2. 123junayedahmed@gmail.com : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর
  3. swadesh.tv24@gmail.com : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম
  4. swadeshnews24@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর: : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর:
  5. hamim_ovi@gmail.com : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  6. rifatkabir582@gmail.com : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান
  7. skhshadi@gmail.com : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান: : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:
  8. srahmanbd@gmail.com : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
নূর হোসেন কলকাতায় , র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন ! - Swadeshnews24.com
শিরোনাম
দণ্ডিত হাজি সেলিম জামিন পেলেন ৭০ ভাগ মানুষ চায় রোনাল্ডো না খেলুক! নেইমারের ব্রাজিলকেই ফেবারিট মানেন মেসি খেলতে নামার আগে জোড়া সুসংবাদ ব্রাজিলের ভেনিসে শামীম আহমেদ এর আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাগরিক সচেতনতায়র্্যালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জনপ্রিয় টিকটকারের আকস্মিক মৃত্যু এবার জিৎ এর সিনেমা পরিচালনায় বাংলাদেশের সঞ্জয় সমাদ্দার এবার মেসির প্রেমে নায়িকা পূজা চেরি গাজায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল পিইসি বাতিল, ফিরে এলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতনের আরেকটি নতুনমাত্রা যুক্ত হয়েছে: রিজভী নিজ বাড়ি থেকে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ব্লক রেইড ম্যাচ জয়ের পর যা বললেন মেসি

নূর হোসেন কলকাতায় , র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন !

  • Update Time : সোমবার, ১২ মে, ২০১৪
  • ৪৪৮ Time View

Rab-final-300x216
ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের সাত অপহরণ ও খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় অবস্থান করছে। ঘটনার তিনদিন পর সে ভারতে পালিয়ে গেছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই সব রহস্য উন্মোচিত হবে। তাছাড়া নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার কর্নেল জিয়াউল আহসান একান্ত সাক্ষাৎকারে সাত অপহরণ ও খুনের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। দীর্ঘ ২ ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ঘটনার পর র‌্যাবের তৎপরতা ও বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত। যুগান্তরের প্রশ্ন ও কর্নেল জিয়ার উত্তরের চম্বুক অংশ এখানে তুলে ধরা হল :
প্রশ্ন : র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য কি কি?
জিয়া : জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার, হেফাজতের তা-ব প্রতিরোধ ও সাম্প্রতিক সময়ে সোনালী ব্যাংকের ডাকাতি করা ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার র‌্যাবের শত সহস সাফল্যের মধ্যে অন্যতম।
প্রশ্ন : র‌্যাব কি জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে স্বয়ংসম্পূর্ণ?
জিয়া : জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমনে র‌্যাব অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে আমাদের অফিসারের স্বল্পতা রয়েছে। সেনাবাহিনীর ৭৭ শতাংশ ও পুলিশের প্রায় ৫০ শতাংশ অফিসারের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া পুলিশ থেকে একেবারে নবীন অফিসারদের র‌্যাবে পোস্টিং দেয়া হয়। এক বছরের মাথায় এসব অফিসার বদলি হয়ে চলে যান। ফলে র‌্যাবে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন না। এর বাইরে আমাদের দেশের বিবেচনায় যথেষ্ট সরঞ্জাম র‌্যাবের আছে। সবচেয়ে বড় কথা র‌্যাবের যেসব সেনা কর্মকর্তা কাজ করে তারা সবাই দেশ ও মাটির জন্য জীবন উৎসর্গের মনোভাব নিয়ে কাজ করে।
প্রশ্ন : আপনি বলছেন প্রভাবশালী মহল বিশেষ র‌্যাবের বিরুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে। এরা কারা?
জিয়া : যারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত। যারা র‌্যাবের কারণে অপরাধ কর্মকা- করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তারাই র‌্যাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিভিন্নভাবে র‌্যাবকে কোণঠাসা করত চাইছে।
প্রশ্ন : আপনারা বলছেন অন্য কেউ অপহরণ করছে, দোষ হচ্ছে র‌্যাবের। কারা অপহরণ করছে। এক্ষেত্রে র‌্যাব কথিত অপহরণকারীদের ধরতে পারছে না কেন?
জিয়া : দেখুন র‌্যাব এ পর্যন্ত প্রায় ৯শ অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে। দেড় হাজারের বেশি অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত ৭৬ জন অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িত ৩৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে।
প্রশ্ন : যারা অপহৃত হয়ে ফিরে এসেছেন যেমন সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মৃদুল ও এবি সিদ্দিক। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অপহরণকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছেন কি?
জিয়া : আপনাদের বুঝতে হবে অপহরণ অনেকভাবে হয়। নিজেরা পালিয়ে থাকলেও তাদের স্বজনরা অপহরণের অভিযোগ করেন। অনেক সময় অপহরণের নাটক সাজানো হয়। আমরা এমন শতাধিক ঘটনার রহস্য উন্মোচিত করেছি। আর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীর পরিবার প্রথম দিকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে র‌্যাবের জড়িত থাকার কথা বলেনি। একইভাবে এবি সিদ্দিকও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে কোথাও র‌্যাবের কথা বলেননি। আপনাদের তো আদালতে দেয়া এসব দালিলিক প্রমাণ বিশ্বাস করতে হবে।
প্রশ্ন : বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল থেকে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি তোলা হচ্ছে- বিষয়টি কিভাবে দেখেন?
জিয়া : আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন। দেশের মানুষকে প্রশ্ন করুন। দেশের মানুষ কি র‌্যাব বিলুপ্ত হোক তা চায়। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি র‌্যাবের কারণে যাদের স্বার্থে আঘাত হেনেছে তারাই শুধু কথায় কথায় র‌্যাব বিলুপ্তির কথা বলেন। ডাকাত শহীদকে কেউ ধরতে পারেনি। র‌্যাব ধরেছে। এখন ডাকাত শহীদের লোকজন কি চাইবে র‌্যাব থাকুক। আপনারা তো জানেন বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের ভয়ে জেল থেকে বের হতে চাইছে না। হ্যাঁ, এসব সন্ত্রাসীর কাছে র‌্যাব আতংক।
প্রশ্ন : ক্রসফায়ার নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয় এগুলো র‌্যাবের সাজানো বন্দুকযুদ্ধ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন?
জিয়া : প্রতিটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে তদন্ত করা হয়। এসব তদন্ত করেন জেলা প্রশাসক। এখন পর্যন্ত একটি তদন্তেও প্রমাণিত হয়নি র‌্যাব সাজানো ক্রসফায়ার করেছে। এসব তদন্ত তো র‌্যাব করে না।
প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জের ৭ অপহরণের পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে র‌্যাব সদর কি তৎপরতা শুরু করেছিল। ৭ অপহৃতকে উদ্ধারে র‌্যাবের পদক্ষেপ কি ছিল?
জিয়া : অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা চ্যানেলেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের র‌্যাব তুলে নিয়েছে। এমনকি এখন পর্যন্ত এমন একজন সাক্ষীও পাওয়া যায়নি যিনি সাতজনকে অপহরণের সময় র‌্যাবকে সরাসরি দেখেছেন। সবাই শুধু অভিযোগ করছেন।
প্রশ্ন : ৭ অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত যেসব আলামত বেরিয়ে আসছে তাতে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?
জিয়া : ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র‌্যাব সদর দফতর পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। কারণ বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
প্রশ্ন : অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সরকারই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো না কোনোভাবে র‌্যাবকে ব্যবহার করে- আপনাদের অবস্থান কি?
জিয়া : এটি একেবারেই সত্য নয়।
প্রশ্ন : বলা হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় র‌্যাবের কিছু সদস্য নিজের ব্যক্তিগত দু-একটি উদ্দেশ্যও বাস্তবায়ন করে নেয়- এ বিষয়টি আপনাদের নজরে এসেছে কি?
জিয়া : র‌্যাব যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজ করে তাতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্দেশ্য হাসিলের কোনো সুযোগ নেই। র‌্যাবের জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া জানলে এসব অভিযোগ অনেকে করতেন না।
প্রশ্ন : র‌্যাবের বেশ কিছু কর্মকর্তাসহ নিচের সারির কিছু সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এগুলো প্রতিরোধে র‌্যাব সদর কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে?
জিয়া : র‌্যাবের প্রতিটি কার্যক্রম মনিটর করা হয়। কারও বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এটা আপনাদের অজানা নয়।
প্রশ্ন : বলা হয় পুলিশের সঙ্গে র‌্যাবের মনস্তাত্ত্বিক ঠা-া লড়াই চলছে। এটি কতটুকু সত্যি। সত্যি হলে লড়াইটা কেন?
জিয়া : পুলিশের সঙ্গে আমাদের লড়াই চলছে এটা সঠিক নয়। তবে দুটি বাহিনীর উদ্দেশ্য একই। মাঠ পর্যায়ে কাজের প্রতিযোগিতা আছে। আমরা পুলিশকে সহায়তা করি। পুলিশও আমাদের সহায়তা করে।
প্রশ্ন : আপনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে র‌্যাবে কাজ করছেন। আপনি মনে করেন কি র‌্যাবকে পুলিশ থেকে পৃথক করে নেয়া উচিত?
জিয়া : হ্যাঁ। আমি মনে করি র‌্যাবকে পৃথক করা হলে আরও সফলতার সঙ্গে র‌্যাব কাজ করতে পারবে। আমরা এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথাবার্তা বলেছি।
প্রশ্ন : শৃংখলাপরিপন্থী কাজ করায় এখন পর্যন্ত কতজন র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
জিয়া : র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১১ মে ২০১৪ পর্যন্ত ১২৪ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭ জনকে বরখাস্ত, ১২ জনকে জেল ও বরখাস্ত এবং সিভিল কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে ৫ জনের অভিযোগ। এছাড়া ৫৫৫ জনকে গুরুদ- ও এক হাজার ২৭০ জনকে লঘুদ- দেয়া হয়েছে। শৃংখলাজনিত কারণে নিজস্ব বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৪১০ জনকে।
প্রশ্ন : র‌্যাবের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ওপর সদর দফতর থেকে নজরদারি করা হয় কি- যেমন পুলিশ সদরের পুলিশ ইন্টেলিজেন্স ওভারসাইট রয়েছে।
জিয়া : প্রতিটি র‌্যাব সদস্যের কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়। র‌্যাবে অন্যায় করে কারও পার পাওয়ার উপায় নেই।
প্রশ্ন : চট্টগ্রামে দরবারের টাকা লুটে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জড়িত ছিলেন। তিনি জেলে আছেন। এখন আবার আরেক অধিনায়কের বিরুদ্ধে ৭ খুনের অভিযোগ উঠল। বিষয়টি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
জিয়া : আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। যদি কেউ অপরাধ করে তার দায় তাকেই নিতে হবে। আমার একজন ব্যাচমেট অপরাধ করে বরখাস্ত হয়েছেন। আমি বা অন্য ব্যাচমেটরা কি তার দায় নেবে। কখনোই নয়।
প্রশ্ন : র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর ছোটখাটো অভিযোগ থাকলেও অপহরণ করে মানুষ হত্যার অভিযোগ ছিল না। তাও আবার একজন, দুজন নয়, ৭ জন। যাদের বেশির ভাগই নিরপরাধ। এতে র‌্যাবের ভাবমূর্তি কি সংকটে পড়েনি?
জিয়া : আমি আগেই বলেছি বিষয়টি তদন্তাধীন। তারপরও বলব, এ ঘটনার পর মিডিয়ায় যেভাবে র‌্যাবের বিরুদ্ধে প্রচারণা হয়েছে তাতে অবশ্য ভাবমূর্তি কিছুটা সংকট হবে।
প্রশ্ন : র‌্যাব কিভাবে এই ক্রাইসিস মোকাবেলা করবে। কিভাবে মানুষের আস্থা ফেরাবে। এখন র‌্যাবের নাম শুনলেই মানুষের মনে ৭টি লাশের বীভৎস ছবি ভেসে উঠছে।
জিয়া : তদন্তাধীন বিষয়ে চূড়ান্তভাবে র‌্যাবকে দোষী বলা যাবে না। আমরা হতাশ নই। নিশ্চয় র‌্যাব আরও বড় কোনো সফলতা নিয়ে জনগণের কাছে ফিরে আসবে।
প্রশ্ন : র‌্যাবের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আনার জন্য আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি যেমন পুলিশ স্টেশনগুলোতে প্রতি সপ্তাহে ওপেন হাউস ডে হয়। যেখানে এলাকাবাসী তাদের অভিযোগ তুলে ধরতে পারে।
জিয়া : আপনি জানেন, র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়নে অভিযোগ বক্স থাকে। যেখানে অভিযোগ জমা দেয়া যায়। আমার কাছে অনেকেই দেখা করে অভিযোগ দেয়। সেসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি এমন একাধিক উদাহরণ আপনাকে দিতে পারি।
প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে এত বিলম্ব হওয়ার কারণ কি। আমরা জেনেছিলাম একটি প্রভাবশালী পরিবার এ হত্যাকা-ের পেছনে জড়িত। এক্ষেত্রে কোনো চাপ আছে কি?
জিয়া : ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। যে কোনো দিন চার্জশিট জমা দেয়া হবে। আপনাকে বলতে পারি র‌্যাবের ওপর কোনো চাপ নেই। কোনো চাপের কাছে র‌্যাব মাথানত করে না।
প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জের ৭ অপহরণ ও খুনের ঘটনা তদন্ত করতে আপনাদের কতদিন সময় লাগবে। তদন্তের ফলাফল কি প্রকাশ করা হবে?
জিয়া : আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি আমরা তদন্তে যা-ই পাব তা অবশ্যই দেশবাসীকে জানাব। তদন্ত চলছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রশ্ন : আপনারা অভিযুক্ত তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কিনা। না করে থাকলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি?
জিয়া : তাদের প্রত্যাহারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তবে যখন অভিযোগ করা হচ্ছিল তখন প্রাথমিকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রশ্ন : নজরুলের শ্বশুর অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর তিনি র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে গেলে তাকে ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে গালমন্দ করা হয়েছিল। একজন ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এমন আচরণ কি ওই র‌্যাব কর্মকর্তাদের পেশাগত স্খলন নয়?
জিয়া : হ্যাঁ। এ জন্যই তো তাদের প্রত্যাহার করে বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন।
প্রশ্ন : শোনা যাচ্ছে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন নূর হোসেনকেও র‌্যাব গুম করে রেখেছে। যাতে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে না আসে। এর ভিত্তি আছে কি?
জিয়া : না, আপনাকে নিশ্চিত করছি নূর হোসেন র‌্যাব হেফাজতে নেই। সে ভারতে পালিয়ে গেছে।
প্রশ্ন : অভিযোগ খ-নের জন্যই এখন নূর হোসেনকে গ্রেফতার করে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা আপনাদের অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নূর হোসেনকে গ্রেফতারে আপনাদের তৎপরতা কতটুকু?
জিয়া : তাকে আমরা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্ন : একজন পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, রিজওয়ানার স্বামী এবি সিদ্দিক ও ৭ অপহরণ র‌্যাবই করেছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা কেন র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা বলছেন?
জিয়া : আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি ওই পুলিশ কর্মকর্তা যদি সব জানতেন তবে কেন আগেই আমাকে বলেননি। তাছাড়া নাম গোপন করে আরেকটি বাহিনী সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলার মধ্যে নিশ্চয় কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন, কৌশলগত কারণে অনেক সময় র‌্যাবকে অপরাধীদের সঙ্গে মিশতে হয়। তাই বলে অপরাধীকে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করে যেতে দেয়া হবে। নূর হোসেন তো ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক-জুয়ার আড্ডা চালিয়ে আসছিল। র‌্যাব প্রতিরোধ করেনি কেন?
জিয়া : দেখুন, র‌্যাবের কাজ কোনো ঘটনা ঘটলে ছায়া তদন্ত করা। সব কাজ কি র‌্যাবই করবে। তাহলে অন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর কি কাজ। নূর হোসেনের সঙ্গে তো অনেকের দহরম-মহরম সম্পর্কের কথা শোনা যাচ্ছে।
প্রশ্ন : র‌্যাব এলিট ফোর্স। কিন্তু র‌্যাবকে অনেক ছোটখাটো বিষয়েও নাক গলাতে দেখা যায় এটা বন্ধ করা উচিত কি না?
জিয়া : এখানেই আস্থার বিষয়টা চলে আসে। একজন নাগরিক তার মোবাইল ফোনটা হারিয়ে গেলেও র‌্যাবের কাছে চলে আসে। কেন? কারণ সে জানে র‌্যাবের কাছে গেলে সে প্রতিকার পাবে। এখন ওই নাগরিককে সহায়তা করা কি র‌্যাবের উচিত নয়।
প্রশ্ন : সরকারের প্রভাবশালীদের আত্মীয় অনেক সেনা কর্মকর্তাকে র‌্যাবে পোস্টিং দেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা র‌্যাবের চেইন অব কমান্ডও মানছেন না। এটা বন্ধ করার উপায় কি হতে পারে?
জিয়া : র‌্যাবের প্রভাবশালী বলে কিছু নেই। প্রভাবশালীর কোনো আত্মীয় হলেও র‌্যাবে তার পক্ষে প্রভাব খাটানো সম্ভব নয়। র‌্যাবের কার্যক্রমের ধরনই আলাদা। তবে প্রভাবশালীদের আত্মীয় কেউ যদি অফিসার হন তবে তো তাকে কোথাও না কোথাও চাকরি করতে হবে।
প্রশ্ন : ৭ অপহরণ ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা কি র‌্যাব করছে। এ বিষয়ে আপনাদের অগ্রগতি কতটুকু?
জিয়া : অবশ্যই। র‌্যাব আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেয়েছি। নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান যে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তিনিও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ মাত্র ৬ মাস আগেও শহীদ চেয়ারমানের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন নজরুল।
প্রশ্ন : অপহরণের পরপরই স্থানীয় এমপি আপনাকে ফোন করে ৭ জনের অপহরণের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। আপনি বিষয়টি কি অনুসন্ধান করেছিলেন। র‌্যাব অপহরণ করেছে না করেনি তা নিশ্চিত হয়েছিলেন কি?
জিয়া : হ্যাঁ। তাৎক্ষণিকভাবে আমি খোঁজ নিয়েছি। তারা আমাকে বলেছে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করেনি। এখনও র‌্যাবের আটকের বিষয়ে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন : লাশ উদ্ধারের আগে পর্যন্ত আপনাদের সন্দেহ এবং তদন্ত কোন দিকে যাচ্ছিল?
জিয়া : বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকাই সমীচীন।
প্রশ্ন : র‌্যাবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ করলে তা মিডিয়ায় প্রকাশ করা কি উচিত হবে?
জিয়া : আমি বলব যে অভিযোগটা প্রকাশ করা উচিত যার ভিত্তি আছে। ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশ করা উচিত নয়। যুগান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 SwadeshNews24
Site Customized By NewsTech.Com