1. ccadminrafi@gmail.com : Writer Admin : Writer Admin
  2. 123junayedahmed@gmail.com : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর
  3. swadesh.tv24@gmail.com : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম
  4. swadeshnews24@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর: : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর:
  5. hamim_ovi@gmail.com : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  6. rifatkabir582@gmail.com : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান
  7. skhshadi@gmail.com : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান: : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:
  8. srahmanbd@gmail.com : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
টাকা বানানো এত সহজ! - Swadeshnews24.com
শিরোনাম
রাজশাহীর ৮ জেলায় বিকাল থেকে বাস চলাচল শুরু ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীসহ ২ মোটরসাইকেল আরোহীর মেসির সামনে অচলায়তন ভাঙার চ্যালেঞ্জ শাকিব খানকে নিয়ে এবার যা বললেন অপু বিশ্বাস নারীকে ছেঁচড়ে এক কিমি: ঢাবির সাবেক শিক্ষক জাফর শাহর বিরুদ্ধে মামলা যে কারণে ঢাবির সেই শিক্ষক চাকরি হারিয়েছিলেন শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন দেশে ফিরে আবারও জেরার মুখে নোরা ফাতেহি গণসমাবেশের ভয় দেখাবেন না: ফারুক খান হারলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ৩০তম জাতীয় সম্মেলন ৬ ডিসেম্বর, বয়স বাড়ছে না ছাত্রলীগে স্রষ্টার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টিই আধ্যাত্মবাদ ভৈরবে বর্ণাঢ্য আনন্দ আয়োজনে নিরাপদ সড়ক চাই এর ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন মেজবা শরীফের নতুন দুটি গান প্রকাশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দলের পারফরম্যান্স নিয়ে যা বললেন মেসি

টাকা বানানো এত সহজ!

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০১৪
  • ১৭১ Time View

waz-300x200তাঁর নাম সাইদুর রহমান রিন্টু। এত টাকা কীভাবে করেছেন, তাঁর সুনির্দিষ্ট জবাব নেই কারও কাছে। দুই বড় দলের নেতাদের হাত করে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরুর পর থেকেই তাঁর এই উত্থান শুরু। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, তত বেড়েছে তাঁর সম্পদ। বরাবরই ক্ষমতার আশপাশে ছিলেন তিনি। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে রেখেছেন সুসম্পর্ক। আর চালিয়ে গেছেন ঠিকাদারি ব্যবসা। এই সময়ের মধ্যে লঞ্চ ব্যবসা, গভীর সমুদ্র থেকে মাল খালাসের কার্গো জাহাজ, মাছ ব্যবসা, বরফ কল করেছেন রিন্টু। বরিশাল শহর ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি করেছেন তিনি। দখলদারিত্বের অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সামান্য একজন কর্মচারী থেকে ধনকুবের বনে যাওয়া রিন্টুর উত্থানে রীতিমতো অবাক বরিশালের মানুষ।

রিন্টুর সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ফেঁপে উঠলেও সরকারি কোনো সংস্থা কখনই যাচাই করার চেষ্টাও করেনি। দুর্নীতি দমন কমিশন বা পুলিশের সঙ্গে তার সুসম্পর্কই এর কারণ বলে মনে করেন বরিশালের নাগরিক সমাজের সদস্যরা।
টাকা বানানো এত সহজ!
সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে বরিশাল সদর আসনের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন রিন্টু। তবে এই ভোট নিয়ে আছে প্রশ্ন। রিন্টুর কর্মী-সমর্থকদের দাপটে বিএনপি সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি বলে অভিযোগ আছে। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় রিন্টুর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনেরও অভিযোগ উঠেছে।
শুরুর কথা
বরিশালের একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বরিশাল শহরের ফজলুল হক এভিনিউতে দুলাভাইয়ের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে কর্মচারী ছিলেন রিন্টু। সাইকেলে করে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ফেরি করেও বিক্রি করতেন। এটা ১৯৯১ সালের দিকের কথা। একসময় ঝোঁকেন ঠিকাদারির দিকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঠিকাদারি লাইসেন্স বানান। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন পিডিবি, পিডব্লিউডিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী ঠিকাদারদের একজন।
মনে অনেক প্রশ্ন থাকলেও রিন্টুর সামনা সামনি এ নিয়ে কিছু বলার সাহস নেই কারও। অভিযোগ আছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাত করে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যান রিন্টু। বেশির ভাগ জায়গাতেই মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কাজ বাগিয়ে নিয়ে কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। ২০০১ সালে পিরোজপুরের ১৬ শহর এলাকায় পিডিবির কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছে রিন্টুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও কাজ না করেও কোটি কোটি টাকা বিল তুলেছেন। বরিশালে ব্যবসায়িক মহলে এরই মধ্যে ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি বনে গেছেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতি এবং বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির ভাইস চেয়ারম্যানও রিন্টু।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ সাইদুর রহমান রিন্টু। তিনি বলেন, ‘যদি কোথাও কাজ না করে পয়সা নিয়ে থাকি সেটা তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেখবে। যারাই আমার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা আমার ভালো দেখতে পারে না বলেই বলে।’
হিরণের হাত ধরে রাজনীতিতে
টাকা বানানো এত সহজ!
বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেও রিন্টু সরাসরি রাজনীতিতে আসেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের হাত ধরে। তবে তাকে ঠিক আওয়ামী লীগার হিসেবে মানতে নারাজ দলের নিষ্ঠাবান কর্মীরা।
বরিশাল আওয়ামী লীগের এক নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রিন্টুর কোনো অবদানই অতীতে ছিল না। কিন্তু এখন সে নিজেকে আওয়ামী লীগের বড় নেতা দাবি করে। বরিশালের বেশির ভাগ সাংসদই ছিলেন বিএনপির। রিন্টু ওই সময় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চানের ভাই বজলুল হক চিস্তি কয়েসের সহযোগিতায় পিডিবিতে ঠিকাদারির কাজ করেছে। সে কখনও আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষী ছিল না।’
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সাইদুর রহমান রিন্টুকে সবাই ঠিকাদার হিসেবেই চিনতো। কেউ কখনও তাকে খুব বেশি পাত্তা দিত না। কিন্তু হঠাৎ করেই তার বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় এখন সে সবার কাছেই খুব পরিচিত। একথা চাউর আছে একসময় রিন্টু পিডিবির বাতিল হওয়া তামার তার রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করে অনেক টাকা বানিয়েছে।’
জানতে চাইলে সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘বরিশাল এসে মানুষের কাছে জিজ্ঞাস করেন আমি কেমন। ঢাকায় বসে তো আর এসব বুঝতে পারবেন না।’
পারাবত থেকে সুন্দরবন নেভিগেশন
টাকা বানানো এত সহজ!
প্রায় ১৫ বছর আগে পারাবত নামে ছোট একটি লঞ্চ কেনেন সাইদুর রহমান রিন্টু। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী নৌরুটে লঞ্চটি চলাচল করতো। বছরখানেক পরেই শীতল- ২ নামে একটি পুরনো লঞ্চ কিনে সুন্দরবন-২ নাম দেন। শুরু হয় সুন্দরবন নেভিগেশনের কোম্পানির যাত্রা। এখন ছোটবড় মিলিয়ে সাতটি লঞ্চের মালিক তিনি। দুটি ঢাকা থেকে বরিশাল, ঢাকা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত তিনটি এবং ঢাকা থেকে ঝালকাঠিতে একটি লঞ্চ চলাচল করে তাঁর। সুন্দরবন-১০ এবং ১১ নামে দুটি লঞ্চের নির্মাণ কাজ চলছে।
বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দরের কর্মচারী মামুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘লঞ্চ ঘাটে নানা ঝামেলা করে সুন্দরবন নেভিগেশন। সুবিধামত জায়গায় লঞ্চ ভেড়ানো, যাত্রী তোলাসহ নানা সুবিধা নেয় হেরা। হেগো উপরে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।’
এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে মংলা সমুদ্র বন্দরে মালামাল বহনের জন্য রিন্টুর মালিকানাধীন তিনটির মতো কার্গো জাহাজ আছে। এসব জাহাজে করে গহীন নোঙরে ভেড়ানো মাদার ভ্যাসেল থেকে মালবাহী কন্টেইনার খালাস করা হয়।
বেলতলায় গড়ে তুলেছেন বিশাল শিপইয়ার্ড
বরিশাল নগরীর অদূরে কীর্তনখোলা নদীর তীরেই বেলাতলা এলাকা। এখানেই কয়েক একর জমির ওপর সাইদুর রহমান রিন্টুর সুন্দরবন শিপইয়ার্ড। ইয়ার্ডে ঢোকার মুখেই বিশাল আকৃতির দুটি লঞ্চ চোখে পড়লো। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দুটি লঞ্চ সুন্দরবন নেভিগেশনের। একটি সুন্দরবন-১০ অন্যটি ১১। লঞ্চ নির্মাণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। ইয়ার্ডের শেষ মাথায় আরও একটি লঞ্চ নির্মাণ চলছে। তবে এটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের। এই ইয়ার্ড ভাড়া নিয়ে এটি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইয়ার্ডের সীমানায় কিছু সরকারি খাস জমিও আছে। যেগুলো রিন্টু জবর দখল করে রেখেছে।
ইয়ার্ডের সীমানা লাগোয়া সড়কের পাশে পাকা দোকান তোলার কাজ চলছে। স্থানীয় দোকানি ফেরদৌস ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এগুলোও সদরের চেয়ারম্যান রিন্টুর। দোকানগুলো ভাড়া দেবে।’ দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে এই দোকানি বলেন, ‘রিন্টু মেয়া সাপের হাত পাও দেখছে। আমাগো চোহের সামনে কেমনে তরতরাইয়া উইড্যা গেলে। কেউ জানলে না এত টাহা আয়ে কোম্মেগোনে।’ উপজেলা নির্বাচনের আগে সাইদুর রহমান রিন্টু যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব সম্পদের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
খাসজমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইদুর রহমান রিন্টু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একবিন্দু সরকারি জমি দখলে নেইনি। এটা আমার কেনা সম্পত্তি।’
অভিজাত এলাকায় বাড়ি কিনে তথ্য গোপন
বরিশাল জিয়া স্কুলের পাশেই জডার্ন রোড। এই রাস্তার পাশেই বাড়িসহ জায়গা কিনেছেন রিন্টু। এই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির দাম অন্তত আশি লাখ টাকা। বাড়ির সামনেই সুন্দরবন নেভিগেশন গ্র“পের একটি ব্যানার টানানো আছে। বাড়ির পাশে বেশকিছু জায়গা আছে। যা পুরোটাই সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা। স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান রিন্টু এই জমি কিনেছেন। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এই জায়গার দাম কয়েক কোটি টাকা। একই ধরনের পাশের আরেকটি ভবনেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরিশালের বিশেষ বিচার কোর্টের কার্যালয়।
তবে এই জমির তথ্য রিন্টু দেননি নির্বাচনি হলফনামায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই হলফনামায় আছে। বিস্তারিত লেখার জায়গা তো নাই। একসঙ্গে লিখে দিয়েছি।’
শাহীন পুকুর লজ
শাহীন পুকুর লজ। এটি একটি বাড়ির নাম। বরিশাল শহরের ভাটিখানার শাহপাড়া এলাকায় বাড়িটি। এই বাড়ির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু। ১৩ শতাংশ জমির ওপর তিনতলা বিশিষ্ট এই বাড়িটি তোলা হয়েছে। রাস্তার পাশে দুটি ফটক। মূল ফটকটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় এখানে টিনশেড ঘর ছিল। রিন্টুর ভাগ্যের চাকা হঠাৎ পাল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির চেহারাও পাল্টে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, ‘রিন্টুর বাপে এককালে বাজারে মাদুলী বেচতে। হেগো মূল বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে। নদী ভাঙনের কবলে পইর‌্যা এই হানে আইছেলে। কিন্তু দেখতে দেখতে কেমন এত টাকা কড়ির মালিক হইলো কে জানে।’
মহিপুরে বরফকল
ঠিকাদারি, লঞ্চ এবং মাছের ব্যবসার পাশাপাশি বরফ কলের ব্যবসাও বেশ জমজমাট রিন্টুর। কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার পথেই মহিপুর বাজার। এখানেই আছে তার মালিকানাধীন দুটি বরফ কল একটির নাম সুন্দরবন আইস প্ল্যান্ট অন্যটি প্রাইম আইস ফ্যাক্টরি। বরফ তৈরির ব্যবসা থেকেও ভালো আয় আসে রিন্টুর।
কুয়াকাটায় বাংলো
সম্পদ করার পাশাপাশি নিজের শৌখিনতাকেও প্রাধান্য দিয়েছেন রিন্টু। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাতেও আছে তার বিলাসবহুল বাংলো। অবসর কাটানোর জন্য কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় গড়ে তুলেছেন এই বাংলো। তবে হলফনামার কোথাও এই বাংলোর কথা লেখেননি বর্তমান বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশালের একজন সা ংবাদিক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি নিজেও একবার কুয়াকাটায় রিন্টুর বাংলোতে ছিলাম।’
হলফনামায় আছে যেসব সম্পদের হিসাব
উপজেলা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে সাইদুর রহমান রিন্টু যে সম্পদের হিসাব দিয়েছেন বাস্তবে তার কয়েকগুণ বেশি সম্পদের মালিক তিনি। প্রশ্ন উঠতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে হলফনামায় গোপন করেছেন সম্পদের তথ্য। সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলেছে। হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করা সাইদুর রহমান রিন্টুর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার আয়ের উৎস ব্যবসা ও মৎস্য চাষ। মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকারও বেশি। রিন্টুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নগদ টাকা আছে ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, জামানত ও বিনিয়োগ ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ১২ হাজার টাকার দুটি গাড়ি, পাঁচ লাখ ৩১ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র এবং অন্যান্য ব্যবসায় পুঁজি ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি রয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার, অকৃষি জমি রয়েছে ১৮ লাখ ২২ হাজার টাকার, ২৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাড়ি। জনতা ব্যাংক বরিশাল করপোরেট শাখা থেকে ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার দুটি ঋণ নিয়েছেন।
নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও কানাঘুষা
নির্বাচনী হলফনামায় রিন্টু তার সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছিলেন সাত লাখ টাকা। যা তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচের কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে কোটি টাকার ওপরে খরচ করেছেন রিন্টু। আইনশৃক্সখলা রক্ষকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় টাকা বিলানোর অভিযোগও আছে। এছাড়া গণমাধ্যমকে হাত করার অপচেষ্টা হিসেবে কিছু সংবাদপত্রে লাখ লাখ টাকা উপঢৌকন দিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদপত্রের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নেই সেই ইলেকট্রনিক্স দোকান
দোকানের কর্মচারী থেকে হঠাৎ ধনী হয়ে ওঠা রিন্টুর সেই দোকান দেখতে সরেজমিনে শহরের ফজলুল হক এভিনিউতে গেলে ওই ইলেকট্রনিক্স দোকানটি পাওয়া যায়নি। এখন সেখানে মার্কেট গড়ে উঠেছে। সেই দোকানটি আছে তবে সুন্দরবন লঞ্চের বুকিং কাউন্টার বানানো হয়েছে এটিকে। স্থানীয় দোকানি নাজমুল আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আঙুল ফুইল্যা যে মানুষ কলাগাছ হয় তার নমুনা আমাগো রিন্টু মেয়া। বেডায় দেহাইয়া দ্যাছে।’ ঢাকাটাইমস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 SwadeshNews24
Site Customized By NewsTech.Com