1. ccadminrafi@gmail.com : Writer Admin : Writer Admin
  2. 123junayedahmed@gmail.com : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর
  3. swadesh.tv24@gmail.com : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম
  4. swadeshnews24@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর: : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর:
  5. hamim_ovi@gmail.com : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  6. rifatkabir582@gmail.com : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান : রিফাত কবির, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান
  7. skhshadi@gmail.com : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান: : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:
  8. srahmanbd@gmail.com : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
রক্তাক্ত তিন জনপদ : নারায়ণগঞ্জ ফেনী লক্ষ্মীপুর এখন খুনিদের আস্তানা - Swadeshnews24.com

রক্তাক্ত তিন জনপদ : নারায়ণগঞ্জ ফেনী লক্ষ্মীপুর এখন খুনিদের আস্তানা

  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ মে, ২০১৪
  • ২৪৫ Time View

1_7508সন্ত্রাসে রক্তাক্ত জনপদ নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর। এ তিন জনপদে খুন-খারাবি, লাশ আর রক্তের হলিখেলা চলছেই। নারায়ণগঞ্জে ত্বকি হত্যাসহ দুই ডজন অপহরণ, গুম আর নৃশংস সাত হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে গভীর আতঙ্কের মধ্যে নিপতিত করেছে। সে আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতে ঘটে গেল ফেনীর বর্বরতা। সেখানে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে গুলিতে ঝাঁজরা করে হত্যার পর এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। বর্বরতার এখানেই শেষ নয়, পরে গাড়ির ভিতরে তার নীরব নিথর দেহখানা রেখে পেট্রল ঢেলে গাড়িসহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বেও আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতেই সন্ত্রাস, লাশ, নিষ্ঠুরতা থেমে থাকেনি, রক্তের হলিখেলা চলছে লক্ষ্মীপুর জনপদেও। সেখানে একের পর এক খুনোখুনির ঘটনায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। যুবলীগ নেতার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের পর আবার সেখানে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

তিনটি জনপদে সন্ত্রাস যেন থামছেই না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন, শিকার হচ্ছেন খুনোখুনির। একসময়ের সন্ত্রাস-সহিংসতার ভয়াল জনপদ হিসেবে খ্যাত এ তিন জনপদেই আবারও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বোমা বিস্ফোরণ ও ধারাল অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি ভারী আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারে জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সেখানে পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, আইন-আদালত সবই সচল। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তাবিধানে সেসব প্রশাসনিক ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নামে সরকারি বাহিনীও ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, আত্দরক্ষার পাল্টা গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের কাছে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছিল।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির ক্ষেত্রে এ তিন জনপদের রক্তাক্ত পরিস্থিতিই অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন রাজনীতিবিদেরা। কিন্তু সে তিনটি জনপদে আবারও হিংস তা, বর্বরতার জঘন্য চিত্র দেখতে পাচ্ছে দেশবাসী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে (১৯৯৬-২০০১) সন্ত্রাস-সহিংসতার ভয়াল জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল ফেনী। নানা ভয়ঙ্কর ঘটনায় দেশ-বিদেশে এ জেলা ছিল বহুল আলোচিত। মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি করে ১৯৯৭ সালে যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম নাছিরকে হত্যা, ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করে ছাত্রদল নেতা তুষারকে হত্যা, গাছের সঙ্গে বেঁধে কুকুর লেলিয়ে দেওয়া, ১৯৯৮ সালে কালিদহের বিএনপি কর্মী মান্নানকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা, তাকিয়া রোডের দোকানে ঢুকে বিএনপি কর্মী স্বপনকে গুলি করে হত্যাসহ অসংখ্য খুনের ঘটনা ঘটে। সুমন নামে এক ছাত্রদল নেতাকে পেট্রল বাংলা এলাকায় জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে খুন হন জাকির, বশির, মান্নান, নুর নবী, রতন, মুন্নাসহ ১২০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী। ২০০১ সালে দাগনভূঞার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ট্র্যাজেডি, সোনাগাজীর চরইঞ্জিমান ট্র্যাজেডি এবং সাংবাদিক টিপু সুলতানকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত হয়। ওইসব ঘটনায় ফেনী সদরের তৎকালীন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীকে দোষারোপ করা হয়। হাজারীর নিকটাত্দীয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী জয়নাল হাজারীর সঙ্গ ছেড়ে ফেনী-২ আসনে সরকারদলীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর থেকে উভয়ের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ইতিমধ্যে তাদের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিরোধের রক্তাক্ত হলিখেলাই ছড়িয়ে আছে ফেনী জেলার সর্বত্র। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন তিন উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম, কামাল উদ্দিন মজুমদার, দিদারুল কবির রতনসহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন শীল। অন্যদিকে, জয়নাল হাজারীর সঙ্গে ঐক্য গড়েছেন বিএনপির স্থানীয় ক্যাডার মনোয়ার হোসেন দুলাল ও শাহজাহান। হাজারীর ক্লাস কমিটির নেতা-কর্মীরাও ইদানীং তৎপর হয়ে উঠেছেন।

অতিসম্প্রতি জয়নাল হাজারীর ক্যাডারদের কবলে পড়ে নাজেহাল হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন। শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ফেনী শাখার ভিতরে হাজারীর ক্যাডাররা রতনকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। দিদারুল কবির রতন অভিযোগ করে জানান, জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও জয়নাল হাজারীর ক্যাডার মাসুদ, রাসেল হাজারী, টিটু হাজারী ও নিজাম পাটোয়ারী তাকে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। ওই ঘটনার পর থেকে নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ সমর্থক নেতারা বিশেষ করে একরামুল হক একরাম, কামাল উদ্দিন মজুমদার, দিদারুল কবির রতন, শুসেন শীলসহ কয়েকজন খুবই সতর্ক চলাফেরা করতেন। কিন্তু নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি একরামের। বিএনপি নেতা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি বলেন, ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে পট-পরিবর্তনের আগে ফেনী ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এ চিত্র পাল্টে যায়। কিন্তু প্রায় এক যুগ পর আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা ফেনীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ২০০১ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের গডফাদার আবু তাহেরের একচ্ছত্র প্রভাবে জেলাজুড়ে সন্ত্রাস, খুনোখুনি, রক্তারক্তি চলত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের বাসা থেকে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এটি তখন দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। তখন সেখানকার পৌর চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সন্ত্রাসের ‘গডফাদার’ হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। ২০০৩ সালে এ মামলার রায়ে আবু তাহেরের ছেলে বিপ্লবসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। পরে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়। এখন লক্ষ্মীপুর এক গডফাদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সেখানে এখন রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক আলাদা আলাদা গডফাদারের সৃষ্টি হয়েছে। আগের চেয়ে আরও বেশি দাপট নিয়েই অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ শাসনামলেও লক্ষ্মীপুরে বিরোধী দলের অস্ত্রবাজ ক্যাডারদের দৌরাত্দ্যে কোনো ঘাটতি নেই। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত ছাত্রদল, যুবদল ক্যাডাররাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। যুবলীগের অস্ত্রবাজেরাও মাঠ দখল করে আছেন। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সন্ত্রাস, জবরদখল, অস্ত্রবাজি, খুন-খারাবিতে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররাও। রাজনৈতিক সন্ত্রাস-সংঘাত ছাড়াও লক্ষ্মীপুরে আরও ১৫টি সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া দাপট রয়েছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থানে লাশ পড়ছে। গুলিবিদ্ধ লাশ, জবাই করা লাশ, ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা লাশ। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় জনপদে আছে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর দোর্দণ্ড দাপট। বিভিন্ন নামে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়েই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গত দুই বছরে লক্ষ্মীপুরে শতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর লাশ পড়েছে। গত ছয় মাসে শুধু লক্ষ্মীপুরেই বিএনপি ও জামায়াতের ২২ নেতা-কর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন খুন ও ছয়জন গুমের শিকার হন বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি। একই সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন ১৯ জন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের আক্রমণ এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজ দলের গ্রুপিংয়ের কারণেও এসব খুনোখুনির ঘটনা ঘটে। এদিকে অতিসম্প্রতি সিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সর্বত্র আলোচনায় উঠে আসা নারায়ণগঞ্জ সব আমলেই সন্ত্রাসের লীলাভূমি। গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে খুন, অপহরণ, গুমের অব্যাহত তাণ্ডব গোটা নারায়ণগঞ্জবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সেখানে নানা অপরাধমূলক ঘটনার ব্যাপারে বরাবর সরকারদলীয় এমপি শামীম ওসমানের দিকে আঙুল তোলা হলেও এখন নারায়ণগঞ্জে গডফাদারের অভাব নেই। সিদ্ধিরগঞ্জের নিছক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এক নূর হোসেনও এখন ভয়ঙ্কর গডফাদার হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে খুলনার পিশাচ খ্যাত ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া এরশাদ শিকদারের চেয়েও বেশি হত্যাকাণ্ড ও বর্বরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসের লীলাভূমি নারায়ণগঞ্জ এবার পরিণত হয়েছে মাফিয়া সাম্রাজ্যে। সেখানে প্রতিদিনই ঘটছে খুন, গুম, অপহরণের ঘটনা। মাত্র ১১ মাসেই ১৫ জন শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকি হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচিত হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে এই শিক্ষার্থীদের সবাই কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। সেখানে অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা থেকে নয় বছরের শিশু মোস্তফাও রেহাই পায়নি। একই দিনে ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সাকিন ও জাহিদকে হত্যা করা হয়। এর আগে স্থানীয় মাসদাইর স্কুলে শিক্ষার্থী সিয়াম ও ফতুল্লায় শিশু ইমনের নয় টুকরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জবাসী রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। শুধু শিক্ষার্থী কিংবা শিশু হত্যাকাণ্ডই নয়, নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি-পেশার মানুষ খুন, গুমের শিকার হচ্ছেন এবং গুম হওয়ার কয়েক দিন পর নদীতে, পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে শুধু জানুয়ারিতে ১৫ ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বা তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এর সংখ্যা ছিল ১৪ এবং মার্চে খুনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২০টিতে। সাত খুন ছাড়াও সেখানে ডাবল মার্ডার, ট্রিপল মার্ডার, ফোর মার্ডারের ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি।

সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুরের ঝাউচর গ্রামে চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতার স্ত্রী ও শ্যালকসহ চারজনকে জবাই করে হত্যার নৃশংস ঘটনা ঘটে। ২৬টি পেশাদার অপরাধী গ্রুপের দেড় শতাধিক অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা নারায়ণগঞ্জ। মাফিয়া সাম্রাজ্য খ্যাত নারায়ণগঞ্জে তারাই এখন দণ্ডমুণ্ডের হর্তাকর্তা। কখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে, কখনো অস্ত্রশস্ত্রের অশুভ শক্তিবলে যখন যা খুশি করে বেড়াচ্ছে তারা। জবরদখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মারধর, লুটপাট, অপহরণ, খুন, গুম তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। এসব অপরাধী এখন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় খাটতেও শুরু করেছে। একজনের পক্ষ হয়ে জায়গাজমি জবরদখল, দোকানপাট উচ্ছেদ, প্রতিপক্ষ কাউকে অপহরণ করে আটক রাখা, মুক্তিপণ, দলিলপত্র-সাদা স্ট্যাম্পে জবরদস্তি স্বাক্ষর আদায় করার জন্য রীতিমতো চুক্তি করেই কাজে নামছে পেশাদার অপরাধীরা। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়, নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় সক্রিয় রয়েছে ২৬টি নতুন গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ গ্রুপগুলোর নেতৃত্বে থাকা নেতাদের অনেকে জেলে থাকলেও সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন স্ব-স্ব বাহিনী। এগুলো হলো ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার ডাকাত শহীদ গ্রুপ, ডাকাত ফেলা গ্রুপ, মুন্না গ্রুপ, জাকির হোসেন এসপি গ্রুপ, মিরু গ্রুপ, হাওলাদার গ্রুপ, পিস্তল মিঠু গ্রুপ, পাগলার হামিদ গ্রুপ, আইজ্জা গ্রুপ। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে চিহ্নিত অস্ত্রবাজ গ্রুপগুলোর মধ্যে বান্টি গ্রুপ, হামীম গ্রুপ, তামিম গ্রুপ, অপু সিনহা গ্রুপ, গাল পোড়া রঞ্জু গ্রুপ, সিজার গ্রুপ, ডালিম গ্রুপ, লিপু গ্রুপ। সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েছে টাক্কু আইল্লা গ্রুপ। রূপগঞ্জের বরাবোয় রয়েছে টোকাই মাসুম গ্রুপ। আড়াইহাজারে কালাপাহাড়িয়া জাহাঙ্গীর গ্রুপ, ভাইগ্না ইকবাল গ্রুপ, নাঈম গ্রুপ, বুইট্টা কামাল গ্রুপ, মিলন গ্রুপ, হান্নান গ্রুপ, স্বপন ও ডালিম গ্রুপ। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে পুলিশের অস্ত্রশস্ত্রের চেয়েও বেশি আধুনিক ও কার্যকর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।বা প্র

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 SwadeshNews24
Site Customized By NewsTech.Com