1. ccadminrafi@gmail.com : Writer Admin : Writer Admin
  2. 123junayedahmed@gmail.com : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর : জুনায়েদ আহমেদ, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর
  3. swadesh.tv24@gmail.com : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম : Newsdesk ,স্বদেশ নিউজ২৪.কম
  4. swadeshnews24@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর: : নিউজ ডেস্ক, স্বদেশ নিউজ২৪.কম, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর:
  5. hamim_ovi@gmail.com : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : Rj Rafi, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  6. skhshadi@gmail.com : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান: : শেখ সাদি, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান:
  7. srahmanbd@gmail.com : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান : এডমিন, সম্পাদনায়- সাইমুর রহমান
  8. sumaiyaislamtisha19@gmail.com : তিশা, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান : তিশা, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান
ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১০ - Swadeshnews24.com
শিরোনাম
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে যা বললেন নিপুণ তালিকা দিতে না পারলে ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে বললেন ওবায়দুল কাদের প্রকাশিত হলো দিদারের ‘বৈশাখ এলো রে এলো বৈশাখ’ আ.লীগের মতো ককটেল পার্টিতে বিশ্বাসী নয় বিএনপি: রিজভী হৃদয় খানের সঙ্গে জুটি ন্যান্সিকন্যা রোদেলার শাকিব ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পুরুষকে ভাবতে পারি না: বুবলী শাকিবের এমন সময় আমাদেরও ছিল: ওমর সানী কত টাকা সালামি পেলেন জায়েদ খান, দিতে হলো কত লাখ? শাকিব খানের সঙ্গে বিয়ে,দেনমোহর, বিচ্ছেদসহ নানা বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, বৃহস্পতিবার ঈদ বাড়তি ভাড়া চাওয়ায় ‘যাত্রীদের মা’র’ধরে’ বাসচালক ও হেলপার নি’হ’ত ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে সাকিব ‘শাকিবের সঙ্গে আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি’ কেন নিপুণের প্যানেলে নির্বাচন করছেন জানালেন হেলেনা জাহাঙ্গীর তসিবা’র ঈদ ধামাকা “জানু স্বামী”

ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১০

  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০১৪
  • ৭১৪ Time View

চার বছর পর আবার শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। পুরো বিশ্ব কাঁপছে বিশ্বকাপ জ্বরে। প্রতি বিশ্বকাপ শুরুর পরই শুরু হয়ে যায় আগের বিশ্বকাপের সাথে এই বিশ্বকাপের তুলনা। কিন্তু বিগত চার বছর আগের সেই বিশ্বকাপের অনেক তথ্য অনেকের স্মৃতি থেকেই হারিয়ে গেছে। এই পেজটিতে আমরা ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছি।

 

প্রথমেই যাওয়া যাক ফেভারিট দলগুলোর দিকে। বরাবরের মতো ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপেও ফেভারিটদের তালিকায় ছিল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ইতালি। আসুন জেনে নিই ২০১০ বিশ্বকাপে ফেভারিত দলগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

 

২০১০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল

স্বদেশী কোচ কার্লোস দুঙ্গার কোচিংয়ে তারুণ্য নির্ভর এক দল গড়েছিল ব্রাজিল। ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলে এ সময় ব্রাজিলের অবস্থান ছিল ১ নম্বরে। স্বভাবতই বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে ফেবারিট হিসেবে ধরা হয়েছিল ব্রাজিলকে। ব্রাজিলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় রোনালদো, রোনালদিনহো, রবার্তো কার্লোসরা ছিলেন না দুঙ্গার এই দলে। দুঙ্গা তার এই দলে নতুন ও উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দেরকেই প্রাধান্য দিয়ে দল সাজিয়েছিলেন। রোনালদোর জায়গা দখল করেছিলেন লুইস ফ্যাবিয়ানো। তার সাথে ছিলেন আগের বিশ্বকাপে সাইড বেঞ্চে বসে থাকা রবিনহো। মিডফিল্ডে ছিলেন না রোনালদিনহো। তাই মিডফিল্ডের কান্ডারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে কাকাকে। তার সাথে ছিলেন ফিলিপ মিলো, এলানোরা। এজন্য অবশ্য প্রথম দিকে দুঙ্গাকে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই রকম দল গড়ার জন্য। দুঙ্গার সেই তারুণ্য নির্ভর দল বাছাইপর্বে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে সেই সমালোচনার জবাব দেন। মোট ১৮ খেলায় ৯টি জয়, ৭টি ড্র এবং ২টি পরাজয় মিলিয়ে ব্রাজিলের পয়েন্ট ছিল ৩৪। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্থান হয়েছিল ‘গ্রুপ-জি’ তে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী হিসেবে ছিল পর্তুগাল, আইভরি কোস্ট ও উত্তর কোরিয়া। শুধুমাত্র পর্তুগাল সে সময় ফিফা র‌্যাংকিং এ ৩ নম্বরে ছিল। আইভরি কোস্ট ও উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে এবং পর্তুগালের সাথে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ‘নকআউট পর্ব’ নিশ্চিত করে ব্রাজিল। নকআউট পর্বে ব্রাজিল মুখোমুখি হয় গ্রুপ-এইচ এর রানার্সআপ ‘চিলির’। ৩-০ গোলের ব্যবধানে চিলিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় ব্রাজিল। এবারের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। র‌্যাংকিং টেবিলে ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র তিন ধাপ নিচে অর্থাৎ ৪ নম্বরে অবস্থান ছিল নেদারল্যান্ডস এর। এই ম্যাচে জিততে ব্রাজিলকে বেগ পেতে হবে অনেকেই ভেবেছিলেন কিন্তু নেদারল্যান্ডস উল্টো ব্রাজিলের ঘাড়ে চেপে বসবে এমনটি কারোরই কল্পনাতে ছিল না। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৯০ মিনিটের চরম নাটকীয়তা শেষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। একই সাথে খড়গ নেমে আসে ব্রাজিলের কোচ দুঙ্গার উপরও। দেশে ফেরার তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা

২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো কোচ হিসেবে স্বদেশী বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড় ম্যারাডোনার দায়িত্ব নেওয়া। একই সাথে ম্যারাডোনার নতুন উত্তরসূরী ‘লিওনেল মেসি’। ২০০৬ বিশ্বকাপেও মেসি দলে ছিলেন, কিন্তু সে সময় মেসি সবেমাত্র বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়েছিলেন। তারপরও সেই বিশ্বকাপে মেসি যে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন তা দেখে অনেকেই পরবর্তী ধারণা করে নিয়েছিলেন। ম্যারাডোনা-মেসি জুটির সাথে ২০১০ বিশ্বকাপ দলে আরও ছিলেন রদ্রিগুয়েজ, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, কার্লোস তেভেজ, ভেরন, অ্যাগুয়েরো, ম্যাক্সি রড্রিগুয়েজ, জাভিয়ের মাসচেরানোরা। সব মিলিয়ে মোটামুটি একটা ব্যালেন্স টিমই ছিল আর্জেন্টিনার। তবে এই বিশ্বকাপে ছিলেন আগের বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক জুয়ান পাবলো সোরিন ও তারকা খেলোয়াড় হার্নান ক্রেসপো। ২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলে আর্জেন্টিনার অবস্থান ছিল ৭ নম্বরে। ম্যারাডোনা-মেসির যুগলবন্দি এই দল বাছাইপর্বে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে ৪র্থ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। ১৮ খেলায় ৬টিতে জয়, ৪টিতে ড্র এবং ৬টিতে হার সবমিলিয়ে ২৮ পয়েন্ট অর্জন করে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ‘বি-গ্রুপে’ আর্জেন্টিনার সঙ্গী হয়েছিল গ্রীস, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপ পর্বের ৩ খেলাতেই জয় পায় আর্জেন্টিনা। একই সাথে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের হিসাব কষতে শুরু করেন ফুটবল বোদ্ধারা। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় মেক্সিকোর। মেক্সিকোকে ৩-১ গোলের সহজ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যায়। নকআউট পর্বের খেলার পর সবাই অবধারিতভাবে ধরে নিয়েছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল আরেক পরাশক্তি জার্মানি। ফিফা র‌্যাংকিং এ জার্মানির অবস্থান ছিল ৬ নম্বরে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে জার্মানিকে টপকে যাওয়ার কথা ছিলো আর্জেন্টিনার। কেননা গ্রুপ পর্বে জার্মানি দুই খেলায় জিতলেও ১ খেলায় হেরেছিল এবং জয়গুলোও ছিল কষ্টার্জিত। তারপরও সবমিলিয়ে মোটামোটি হাড্ডাহাড্ডি একটি ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে যাওয়ার হিসাব-নিকাশ করে রেখেছিল ফুটবল বোদ্ধারা। কিন্তু ম্যাচটি হয়ে যায় একপেশে। ৪-০ গোলের ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয় জার্মানি। ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি জার্মানি। ফুটবল বোদ্ধাদের সব হিসাব-নিকাশকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আর্জেন্টিনার ৩য় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়ে যায়।

 

২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন

উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৫ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে স্পেন। স্বদেশী কোচ ভিনসেন্ট দেল বস্ক এর প্রশিক্ষণে ছোট ছোট নিখুত পাসে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ গুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পেনের ছিল বিশেষ দক্ষতা। সে সময় ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলের ২ নম্বরে অবস্থান ছিল স্পেনের। তাই হট ফেবারিট হিসেবে স্পেনকেও রাখতে হয়েছিল বিশ্বকাপ জয়ীদের সম্ভাব্য তালিকায়। ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন দলে ছিল একঝাঁক তরুন, অভিজ্ঞ ও চৌকস খেলোয়াড়। ১ম একাদশের প্রায় সবাই ছিলেন ১ম সারির খেলোয়াড়। কারো চেয়ে কেউ কম নয়। যেমন – ডেভিড ভিয়া, জাভি, ইনিয়েস্তা, ফেব্রিগাস, টরেস, পিউল, জাভি অ্যালানসো, সার্জিও র‌্যামোস। আর গোলপোস্টের নিচে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী ইকার ক্যাসিয়াস। তবে ছিলেন না স্পেনের বহুদিনের কান্ডারী রাউল গঞ্জালেস। মূল পর্বে চিলি, সুইজারল্যান্ড ও হন্ডুরাসের সাথে এইচ-গ্রুপে জায়গা হয় স্পেনের। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে জয় ও এক ম্যাচে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে খেলার টিকিট পায় স্পেন। নকআউট পর্বে এসে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় স্পেনকে। ফিফা র‌্যাংকিং এর ৩ নম্বর অবস্থানে থাকা পর্তুগালের মুখোমুখি হতে হয় স্পেনকে। গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল হট ফেভারিট ব্রাজিলকে পর্যন্ত আটকে দিয়েছিল। তাই স্পেনের ভাগ্যে যেকোনো অঘটন ঘটার সম্ভাবনা ছিল। ম্যাচ শুরুর পর সেই আশঙ্কা অনেকবারই উঁকি দিয়েছিল। কিন্তু ১-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে এবার প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। প্যারাগুয়ের সাথেও ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে আরও বড় অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়াতে হয় স্পেনকে। কেননা এবার প্রতিপক্ষ জার্মানি। যারা আগের ম্যাচে জায়ান্ট আর্জেন্টিনাকে দুমড়ে-মুচড়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। যাক শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ছোট পাসের কাছে হার মানে জার্মানি। ১-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচে জয় পায় স্পেন। আর মাত্র ১টি ম্যাচ বাকি এবং প্রতিপক্ষ আরেক হট ফেভারিট নেদারল্যান্ডস। যাদের কাছে ধরাশয়ী হয়েছে ব্রাজিল। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে স্প্যানিশরা। ১-০ গোলের ব্যবধানে বিশ্বকাপের ট্রফিটি নিজেদের করে নেয় স্পেন।

 

২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানি

৩ বারের বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি বরাবরই থাকেন বিশ্বকাপ জয়ীদের সম্ভাব্য তালিকায়। ২০১০ সালেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলে জার্মানির অবস্থান ছিল ৬ নম্বরে। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৪ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জার্মানি বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। মেসুত উজিল, ফিলিপ লাম, লুকাস পোডলাস্কি, মিরোস্লাব ক্লোজ, থমাস মুলার, সেমি খেদিরা সহ একঝাঁক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে দল গড়েন স্বদেশী কোচ জ্যাকুলিম লো। তবে দলে ছিলেন না অলিভার কান ও মাইকেল বালাকরা। মূল পর্বে গ্রুপ-ডি তে জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া, সার্বিয়া ও ঘানা। ১ম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল মিশন শুরু করা জার্মানি পরের ম্যাচেই ধাক্কা খায়। সার্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় জার্মানি। শেষ ম্যাচে ঘানার সাথে কষ্টার্জিত ১-০ গোলের জয় দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে জার্মানি। নকআউট পর্বে এবার প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক জায়ান্ট ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্ব শেষে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেলেও নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেই দাবি আরও জোরালো করে জার্মানি। কিন্তু পরের ম্যাচেই প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। বাঁচা-মরার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জার্মানিই বেঁচে থাকে। ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে গুড়িয়ে দেয় জার্মানি। কিন্তু এবারও সেই পাহাড়সম প্রতিপক্ষ। আগের ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হেসেখেলে হারিয়ে দিলেও সেমিফাইনালে এসে আরেকবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয় জার্মানির। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ৩য় স্থান অর্জন করে সন্তুষ্ট থাকতে হয় জার্মানিকে।

 

২০১০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড বরাবরই নিজেদের হট ফেভারিট হিসেবে তুলে ধরেন। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেরকমই দেখা গিয়েছে ইংল্যান্ডকে। বাছাইপর্বে উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৬ থেকে ১০ টি ম্যাচের ৯টি জয় লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মূল পর্ব নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলে অবস্থান ছিল ৮ নম্বরে। সবমিলিয়ে বীরদর্পেই শুরু করেছিল বিশ্বকাপ মিশন। মূল পর্বে সি-গ্রুপে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল ইউ.এস.এ., স্লোভেনিয়া ও আলজেরিয়া। কিন্তু গ্রুপ পর্বে এসেই খেই হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ৩ ম্যাচের ১টি জয় ও ২টি ম্যাচ ড্র করে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। গ্রুপ পর্বে কোনোরকমে পার পেলেও নকআউট পর্বে এসে মুখোমুখি হয় শক্তিশালী জার্মানির। ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ২০১০ বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। ২০১০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। যেমন – স্টিভেন জেরার্ড, ওয়েইন রুনি, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, পিটার ক্রাউচ, জন টেরি। এই বিশ্বকাপে ছিলেন না ইংল্যান্ডের দুই তারকা খেলোয়াড় ডেভিড বেকহাম ও মাইকেল ওয়েন।

 

২০১০ বিশ্বকাপে ইটালি

২০১০ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আশাহত করেছে ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দেশ ইটালি। ফিফা র‌্যাংকিং টেবিলে অবস্থান ছিল ৫ নম্বরে আর উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৮ এর সেরা দল হিসেবেই বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে ইটালি। সেই সুবাদে এবারও ইটালিকে নিয়ে সবাই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন। মূল পর্বের গ্রুপ-এফ এ তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল না। প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও স্লোভাকিয়া ছিল ইটালির প্রতিপক্ষ। সহজ গ্রুপে পরা সত্ত্বে ইটালির বিশ্বকাপ জয়ের পথ অনেকটা সহজ হবে অনেকে ভেবেছিল। কিন্তু সেই বিশ্বকাপ জয়ের ধারেকাছে যাওয়া তো দূরের কথা উল্টো লক্ষ-কোটি ভক্তের চোখের জলে ১ম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় ইটালি। তিন ম্যাচের ২টিতে পরাজয় এবং ১টিতে ড্র করে ইটালি। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফ্রান্সিসকো টোট্টি ও লুকা টনির অভাব হাড়ে হাড়ে টের পায় ইটালি ২০১০ বিশ্বকাপে। এই দুই তারকাই দলে ছিলেন না এই বিশ্বকাপে।

 

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে

২০১০ সালের ১১ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ। ২০১০ বিশ্বকাপেই প্রথম কোন আফ্রিকান দেশ বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। সাউথ আফ্রিকা বিডিং এ মরক্কো আর মিশরকে হারিয়ে আয়োজনের দায়িত্ব জিতে নেয়। মোট ১০ টি ভেন্যুতে এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশ্বকাপের মাস্কটের নাম ছিল ZAKUMI। বিশ্বকাপের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল এডিডাসের তৈরি করা Jabulani নামের বল দিয়ে। বলটির নামের অর্থ ছিল – ‘সবার জন্য আনন্দ নিয়ে আসা’। এই বিশ্বকাপে যে ৩২ টি দেশ অংশগ্রহণ করে তারা এর আগেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ নতুন কোনো দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় নি।

 

এক নজড়ে ২০১০ বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান

  • চ্যাম্পিয়ন – স্পেন
  • রানার্সআপ – নেদারল্যান্ডস
  • তৃতীয় স্থান – জার্মানী
  • চতুর্থ স্থান – উরুগুয়ে
  • সেরা খেলোয়াড় – ডিয়েগো ফোরলান (উরুগুয়ে)
  • গোল্ডেন বুট – টমাস মুলার (জার্মানি)
  • সেরা তরুণ ফুটবলার – টমাস মুলার (জার্মানি)
  • সেরা গোলরক্ষক – ইকার ক্যাসিয়াস (স্পেন)
  • ফেয়ার প্লে পুরষ্কার – স্পেন
  • সর্বোচ্চ দলগত গোল – জার্মানী (১৬)
  • সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত গোল – ডেভিড ভিয়া, টমাস মুলার, ডিয়েগো ফোরলান, ওয়েসলি স্নাইডার (৫টি)
  • সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পাস – জাভি (৬৬৯)
  • সেরা স্ট্রাইকার – ডিয়েগো ফোরলান, ডেভিড ভিয়া
  • সেরা ডিফেন্ডার – সার্জিও র‌্যামোস, কার্লেস পিউল, মাইকন, ফিলিপ লাম
  • সেরা মিডফিল্ডার – আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি, ওয়েসলি স্নেইডার, সোয়ানস্টেইনগার
  • সেরা কোচ – ভিনসেন্ট ডেল বস্ক (স্পেন)
  • সর্বোচ্চ ফাউলের শিকার – আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (২৬)
  • সর্বোচ্চ ফাউলকারী – কিউসুকে হোন্ডা (১৯)
  • এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ফাউল – প্যারাগুয়ে বনাম জাপান (৫৫)
  • এক ম্যাচে সর্বোচ্চ হলুদ কার্ড – স্পেন বনাম হল্যান্ড (১৩)
  • অপরাজিত দল – নিউজিল্যান্ড
  • গোলবিহীন বিশ্বকাপ শেষ করা দল – আলজেরিয়া, হন্ডুরাস
  • সর্বমোট গোল হয়েছে – ১৪৫ টি
  • সর্বমোট হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে – ২৪৬ টি
  • সর্বমোট লাল কার্ড দেখানো হয়েছে – ১৭ টি

 

কোয়ালিফাইং রাউন্ড

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১০ এ বাছাই পর্ব থেকে সবার আগে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস। ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের ব্রাজিল তাদের গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে। কিন্তু ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের আরেক পরাশক্তি আর্জেন্টিনা অনেকটা ধুঁকতে ধুঁকতেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের ৪র্থ দল হিসেবে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের এক মাসেরও বেশি সময় পরে অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। ২০১০ বিশ্বকাপের ৩য় স্থান অর্জনকারী দেশ জার্মানী উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৪ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। ২০১০ বিশ্বকাপের ৪র্থ স্থান অর্জনকারী দল উরুগুয়ে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে। তাদের গ্রুপের ৬ষ্ঠ দল ইকুয়েডর এর পয়েন্ট ছিল ২৩ আর উরুগুয়ের ২৪। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন ইতালি উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৮ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করে। অপরদিকে উয়েফা অঞ্চলের আরেক দুই পরাশক্তি পর্তুগাল এবং ফ্রান্সকে এবারের মতো গত বিশ্বকাপেও প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করতে হয়েছিল। উয়েফা অঞ্চল থেকে স্পেন গ্রুপ-৫ এর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। আর রানার্সআপ নেদারল্যান্ডসও উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ-৯ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে।

 

২০১৪ বিশ্বকাপে গত বিশ্বকাপের যেই দেশগুলোকে দেখা যাবে না

  • সাউথ আফ্রিকা (স্বাগতিক ছিল)
  • উত্তর কোরিয়া
  • প্যারাগুয়ে
  • ডেনমার্ক
  • সার্বিয়া
  • স্লোভাকিয়া
  • নিউজিল্যান্ড
  • স্লোভেনিয়া

 

২০১৪ বিশ্বকাপে নতুন যে দেশগুলোকে দেখা যাবে

  • কলম্বিয়া
  • কোস্টারিকা
  • ইকুয়েডর
  • ইরান
  • বসনিয়া
  • বেলজিয়াম
  • রাশিয়া

ডেথ গ্রুপ, অঘটন ও ম্যাচ পরিসংখ্যান

২০১০ বিশ্বকাপে ডেথ গ্রুপ বলতে গেলে বলতে হয় গ্রুপ-এ এর কথা। এই গ্রুপে ছিল – স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা, উরুগুয়ে, ফ্রান্স ও মেক্সিকো। এবং অঘটনটা এই গ্রুপেই ঘটে। বিশ্বকাপের দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। তুলনামূলক একই মানের দেশগুলো পড়েছে এমন গ্রুপের মধ্যে ছিল গ্রুপ-জি এবং গ্রুপ-ই। গ্রুপ-জি তে ছিল – ব্রাজিল, আইভরি কোস্ট, পর্তুগাল ও উত্তর কোরিয়া। আর গ্রুপ-ই তে ছিল নেদারল্যান্ডস, জাপান, ডেনমার্ক, ক্যামেরুন। গ্রুপ-ই এর শেষ হাসি হাসে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। গ্রুপ-জি এর ব্রাজিল-পর্তুগাল ম্যাচটি গোলশুন্য ড্র হয়েছিল। কোনো রকম অঘটন ছাড়াই নকআউট পর্বে উঠে যায় ব্রাজিল ও পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বের আরেক অঘটন ঘটে গ্রুপ-এফ এ। এই গ্রুপে ছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। তারা ১ম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় এই বিশ্বকাপ থেকে। নক আউট পর্বে এসে সবগুলো ফেভারিট দলই তাদের নামের প্রতি সুবিচার করে একাধিক গোলে জয় লাভ করে এই পর্ব পার হন। তবে স্পেন বনাম পর্তুগালের মধ্যকার খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। এই ম্যাচে একমাত্র গোলে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে এসে একে একে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। নেদারল্যান্ডস এর সাথে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। ঠিক তার একদিন পরই আরেক পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় জার্মানী। উরুগুয়ে বনাম ঘানার ম্যাচটি ট্রাইবেকারে গড়ায় এবং ট্রাইবেকারে উরুগুয়ে জয়লাভ করে। আর স্পেন বনাম প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচটিতেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। স্পেন ১-০ গোলে জয় লাভ করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। সেমিফাইনালে এসে নেদারল্যান্ডস-উরুগুয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। উরুগুয়েকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় নেদারল্যান্ডস। আর অপর সেমিফাইনালে স্পেন-জার্মানীর ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। ১-০ গোলে জয় লাভ করে ফাইনালে টিকিট পায় স্পেন। আর সবশেষে ১১ ই জুলাই জোহানের্সবাগে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে স্পেন। তবে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছিল স্পেনকে।অতিরিক্ত সময়ে ইনিয়েস্তার গোলে জয় পায় স্প্যানিশরা। ৩য় এবং ৪র্থ স্থান নির্ধারনী ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ৩য় স্থান লাভ করে জার্মানী এবং উরুগুয়ে হয় ৪র্থ।

 

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনের ধুকতে ধুকতে চলা

২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানীই ছিল ফেভারিটদের তালিকার প্রথমদিকে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস ফেভারিট দলের তালিকার শেষের দিকেই ছিলেন। যেই স্পেন ২০১০ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলে সেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে ৭টি খেলায় অংশগ্রহণ করে। এই ৭ খেলার মধ্যে মাত্র একটি খেলায় ২ গোলের ব্যবধানে জয় পায়। বাকি ৬টি ম্যাচেই তারা ১ গোলের ব্যবধানে জয় পায়।

 

২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুই জায়ান্টের বিদায়

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল বিশ্বকাপে ১ম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় দুই জায়ান্ট ইতালি ও ফ্রান্স। ১ম রাউন্ড শেষে এটিই ছিল আলোচনার বিষয়। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে এসে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায় ফুটবলের অপর দুই জায়ান্ট ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার বিষয়টি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল কিছুটা শক্ত গ্রুপে পড়েছিল। তাই তাদেরকে মোটামোটি লড়াই করেই পরবর্তী রাউন্ডে উঠতে হয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ পর্বে তেমন শক্ত দেয়াল টপকাতে হয় নি। কোয়ার্টার ফাইনালে এসে ব্রাজিল-নেদারল্যান্ডস এর মধ্যকার মাটি কামড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। ঠিক তার পরের দিন আর্জেন্টিনা-জার্মানির মধ্যকার ম্যাচে জার্মানির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। ৪-০ গোলের ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপা দৌড়ে সবার আগে এগিয়ে ছিল এই দলই।

 

ফাউলময় ফাইনাল

২০১০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ফাউল ও হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি ছিল স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস এর মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচে। পুরো টুর্নামেন্টে মোট হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল ২৪৬টি। এর মধ্যে এই ম্যাচে দুই দলের মোট ১৪ জন খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। আর রেফারিকে সর্বমোট ৪৭ বার ফাউলের বাঁশি বাজাতে হয়েছিল। ফাউল এবং হলুদ কার্ড দেখার দিক দিয়ে নেদারল্যান্ডসই এগিয়ে ছিল। স্প্যানিশদের পাসিং ফুটবলের কৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে তারা পেশি শক্তি প্রয়োগ করা শুরু করে।

 

মনে আছে সেই জ্যোতিষীর কথা

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১০ এ মাঠের বাইরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল জার্মানির এক যাজক অক্টোপাস ‘পল’। এই অক্টোপাসটি ভবিষ্যৎবাণী করেছিল ২০১০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। তার সেই ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে পূরণ হয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপে ‘পল’ যতগুলো ভবিষ্যৎবাণী করেছিল তার সবগুলোই বাস্তবে রূপ নিয়েছিল। তারপরই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দল, আয়োজক, থিম সং, মাসকট সবকিছুকে ছাপিয়ে হিরো হয়ে যান এই অক্টোপাসটি। দুটো পৃথক বাক্সে ‘পল্‌’ কে খাবার দেয়া হত। বাক্স গুলোর গায়ে দুটো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পতাকা আঁকা থাকতো। দুটো বাক্সের মধ্যে যেই বাক্স থেকে ‘পল্‌’ প্রথমে খাদ্য গ্রহণ করতেন, ধরে নেয়া হতো পরবর্তী খেলায় সেই দলই জয়লাভ করবে। এই ছিলো ‘পল্‌’ এর ভবিষ্যদ্বাণী করার পদ্ধতি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার মাত্র এক মাস পরেই বার্ধক্য জনিত কারণে জার্মানির একটি অ্যাকুইরিয়ামে এই নির্ভুল গণক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিশ্বকাপ ফুটবল যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন বোধহয় ফিরে ফিরে আসবে ২০১০ বিশ্বকাপের শতভাগ নির্ভুল ‘জ্যোতিষী’র স্মৃতি! স্পেন বিশ্বকাপ জেতার পর পলকেও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল একটি প্রতীকী বিশ্বকাপ।

 

জাবুলানি

২০১০ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে এডিডাস তৈরি করেছিল ‘জাবুলানি’ নামের বলটি। বলটির কয়েকটি ক্ষেত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল ‘১১’ সংখ্যাটিকে। বলটিতে মোট ১১টি রং ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি দ্বারা মাঠের একেক দলের ১১ জন খেলোয়াড়কেও বুঝানো হয়েছিল। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার ১১ টি দাপ্তরিক ভাষাকেও বুঝানো হয়েছিল এই ১১টি রং দিয়ে। তবে এই বল নিয়ে পরবর্তীতে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। বলটিকে বলা হয়েছিল গোলকিপারদের মূর্তিমান ত্রাস। কেননা বলটি স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত সুইং খেত এবং গ্রিপ করাও কষ্টকর ছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে এডিডাস তৈরি করেছেন ‘ব্রাজুকা’ নামের নতুন একটি বল। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত প্রশংসা নাকি জাবুলানির মতো দুয়োধ্বনি শুনতে হয় ‘ব্রাজুকা’কে।

 

মাসকট

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবলের মাসকট ছিল ‘জাকুমি’।’জা’ শব্দটি দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্ষিপ্ত রূপ, ‘কুমি’ মানে আফ্রিকার ১০টি ভাষা। এই নিয়ে জাকুমি। মাথায় সবুজ রঙের চুল, পরনে সবুজ রঙের প্যান্ট এবং শরীরের বাকি অংশের কোথাও সাদা, কোথাও হলুদ।

 

শাকিরার থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’

আর যা কিছুই ভুলে যাক না কেন, সারা বিশ্বের লক্ষ কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়ে এখনো বাজে ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে শাকিরার গাওয়া সেই থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’। একদিকে মাঠ ও পুরো বিশ্বে চলেছে ফুটবলের ঝড় একই সাথে মাঠ ও পুরো বিশ্বে চলেছে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’র ঝড়। আর এবার ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে থিম সং নিয়ে আসছে পিটবুল ও জেনিফার লোপেজ। এছাড়া শাকিরাও একটি অ্যানথেম সং গেয়েছেন বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে।

 

ভিডিও

 

 

ভুভুজেলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে আলোচনার শীর্ষে থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভুভুজেলা’ নামের একটি বাঁশি। পুরো গ্যালারি জুড়েই আফ্রিকান দর্শকরা এই বাঁশি বাঁজিয়ে মাঠ মাতিয়ে রাখতেন। আমরা যারা টেলিভিশন এর সামনে বসে খেলা দেখেছি তাদের কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ও বিশ্বকাপ শেষে এই ‘ভুভুজেলা’ নিয়ে সমালোচনাও অনেক হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এই বাঁশিটি নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ম্যাচ উপলক্ষ্যে আবির্ভাব ঘটবে ‘ডাবল ভুভুজেলা’র। স্বাগতিক দেশ ব্রাজিল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে তৈরি করেছে ‘ক্যাক্সিরোলা’ নামের একটি বাঁশি। এটি দেখতে অনেকটাই ‘ভুভুজেলা’র মতো। তবে ব্রাজিলের এই বাঁশিকে প্রতিযোগিতা করতে হবে অংশগ্রহণকারী আরেক দেশ বেলজিয়ামের তৈরি করা ‘ডাইবোলিক্যাস’ নামের বাঁশিটির সাথে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 SwadeshNews24
Site Customized By NewsTech.Com