ভুতুড়ে বিল: ডিপিডিসির ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৩৬ জনকে শোকজ

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর এক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ প্রকৌশলীকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ ডিপিডিসি। একই অভিযোগে ১৩ জন মিটার রিডার এবং একজন মিটার রিডার সুপারভাইজারকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া ৩৬টি জোনাল অফিসের নির্বাহীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক (অপারশেন) ও মুখপাত্র হারুন আর রশিদ বলেন, ৪ হাজার তিনশ ৩০ জন গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ডিপিডিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) নূর কামরুন নাহার ও ম্যানেজার (এইচআর) শারমিন রহমান যৌথ স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে ৩ জুলাই (শুক্রবার) তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন-নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন, সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার রায়হানুল আলম, অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. মজিবুর রহমান ভু্ঞা ও ডাটা এন্ট্রি কোঅর্ডিনেটর জেসমীন আহমেদ (এনওসিএস, আদাবর)। এছাড়া অপর এক নির্বাহী প্রকৌশলী রায়হান আলী মিঞাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মিটার রিডিং কালেক্টর মো. জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিরদ্ধে গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ আসছিল। এ কারণে গত ২৫ জুন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিটিগুলোকে সাতদিনের মধ‌্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ‌্যুৎ বিভাগের বেঁধে দেওয়া সাতদিন সময় শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ডিপিডিসির বিরুদ্ধে। ডিপিডিসি এই ঘটনা তদন্তে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (আইসিটি)-কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। শুক্রবার রাতে এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বরখাস্ত ও কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডিপিডিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.