আমরা বলতে শুনি ‘সে অনেক বদমেজাজি মানুষ’। কিন্তু তার এই বদমেজাজের কারণ কি তা কেউ বলতে পারবেন? মানুষের রাগ হওয়া অনেকাংশেই আবেগ জনিত ব্যাপার এবং বৈশিষ্ট্য হিসেবেই আমরা জেনে থাকি। কিন্তু এই রাগটাও কিন্তু নিয়ন্ত্রিত হয় খাবারের মাধ্যমে। অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও বিষয়টি সত্য। বেশ কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খেলে দেহের রাগের সাথে জড়িত হরমোনের নিঃসরণ ঘটে যা হুট করেই অতিরিক্ত রাগ হওয়ার পেছনের মূল কারণ। আজকে চলুন চিনে নেয়া যাক এমনই কিছু খাবার যা আপনার অতিরিক্ত রাগের কারণ হিসেবে কাজ করে।
১) ট্র্যান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণায় দেখা যায় যতো বেশী ট্র্যান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা হয় ততো বেশী রাগী হতে থাকে মানুষ। এর কারণ হিসেবে গবেষকগণ জানান, ‘যতো বেশী ট্র্যান্স ফ্যাট গ্রহণ করা হয় ততো সেটি আমাদের দেহের জরুরী ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিডটাকে নষ্ট করতে থাকে। আর এই ফ্যাটি এসিড আমাদের দেহের হরমোনের ওপর অনেক বেশী প্রভাব ফেলে এবং আমাদের মানসিকভাবে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিডের অভাবের কারণে বিষণ্ণতা এবং অ্যান্টি সোশ্যাল বিহেভিয়রে ভোগেন অনেকেই। আর ট্র্যান্স ফ্যাটের কারণে এই ফ্যাটি এসিডটি নষ্ট হয়ে যায় বলেই আমাদের হরমোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় যার ফলে হুট করেই রেগে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়’। ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড, ডুবো তেলে ভাজা খাবার ইত্যাদি তাই রাগ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে কাজ করে।
২) প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট এবং চিনির বিকল্প খাবারগুলো
নিউট্রিসনিস্ট নাটালি ডাহমেল বলেন, ‘ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদপিণ্ডের সমস্যা ছাড়াও প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট এবং চিনির বিকল্প হিসেবে যে খাবারগুলো খাওয়া হয় তা বিষণ্ণতা, রাগ হওয়া এবং রাগের কারণে ভুল কাজ করার প্রবণতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে’। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রোফেসর ডঃ অ্যালেক্স রিচার্ডসন জানান, ‘যখন দেহের রক্তের সুগারের মাত্রা নেমে যায় তখন তা আমাদের আবেগের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং এই কারণে অনেকে বিষণ্ণ, রাগী, মুডি হয়ে যান যা অন্যের উপর খাটাতেই মানুষ পছন্দ করে থাকেন’। এছাড়াও নিউট্রিসনিস্ট নিকোলেট পেস বলেন, ‘প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট আমাদের তাৎক্ষণিক ভাবে শক্তি প্রদান করলেও আমাদের পুরো দিনের স্ট্রেস সহ্য করার মতো ক্ষমতা দিতে পারে না যা আমাদের ভেতরে রাগের সঞ্চার করে থাকে। একারণে অনেককে দিন শেষে বাড়ি ফিরে রাগারাগী করতে দেখা যায়’। তাই কার্বোহাইড্রেট ও চিনির বিকল্প খাবার না খেয়ে বেশী করে প্রোটিন খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেকেই।
পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার কারণেও হতে পারে রাগ
শুধু খাবারের উপাদানের জন্যই নয় খাবার কম খাওয়া হলেও কিন্তু রাগ হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে অনেকের মধ্যে। অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যেমন ভালো নয় তেমনই কম খাবার খাওয়াও দেহের জন্য ভালো নয়। এবং এই কম খাওয়ার বিষয়টি প্রভাব ফেলে থাকে আপনার মনের ওপরেও। গবেষকগণ দেখতে পান কিছু খাবারের কারণে যেমন রাগ হয় তেমনই কিছু খাবারের অভাবের কারণেও রাগের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যখন আমাদের মস্তিষ্কে সেরেটোনিনের মাত্রা কমে যায় তখন তা আমাদের মস্তিষ্কের সেই অংশে প্রভাব ফলে যার মাধ্যমে আমরা রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি এর অভাবেও অনেক সময় মানুষের নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা যায়।
তথ্য সূত্র- 3 Foods that make you mad, thealternativedaily.com
Is your diet making you mad?, fitnessmagazine.com
Can food make you angry?, theguardian.com