অর্থপ্রচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সরকার বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকারের প্রতিহিংসা পূরণে বেকসুর খালাস পাওয়া মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার বিএনপি ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি বানচাল করার জন্য সরকারের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা রাত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে জঙ্গিদের মতো হামলা চালাচ্ছে।
হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে লুটতরাজ, ভাঙচুর ও ধরপাকড়ের এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘‘ভারতের সাথে তাদের নাকি আত্মার সম্পর্ক’’।
তিনি ঠিকই বলেছেন, কারণ যাদের দেশের মানুষের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই তারা তো একটি বিশেষ শক্তির নিকট অনুগ্রহভাজন হয়েই থাকবেন, আত্মাকে বিক্রি করে দিবেন। কারণ দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে তারা বাংলাদেশের বনাঞ্চল ধ্বংস করতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে, অপমানজনকভাবে ট্রানজিটের নামে করিডোর দেওয়া হয়েছে, তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাওয়া যায়নি,
অন্যায়ভাবে সমুদ্রসীমা নির্ণয় করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্ভাগ দখল করা হয়েছে, প্রতিদিন সীমান্তে বিএসএফ’র নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যা অব্যাহত আছে, সীমান্তে একের পর এক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অব্যাহত আছে, ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশের ব্যাপারে শুল্ক অশুল্ক বাধা বজায় আছে, অথচ বাংলাদেশের বাজার ভারতীয় পণ্যে সয়লাব।
এ সমস্ত বিষয়ে সরকার একটুও টু শব্দ করে না।’
নতজানু শাসকগোষ্ঠীর এ সমস্ত কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় দেশের মানুষ লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের মানুষকে সহিংস অরাজকতার বাতাবরণে একটি অস্থির অরাজকতার কাল এ সরকার টিকিয়ে রেখেছে। সুতরাং এরা ঐক্যের কথা শুনবে না, দেশে শান্তি ও স্বস্তি আসুক সেটি চাইবে না।
সে জন্য মানুষের নাগরিক স্বাধীনতাকে রক্তাক্ত পন্থায় পিষ্ট করে নিজেরা টিকে থাকার আয়োজন করে চলেছে। এদের ভ্রান্তনীতির কারণে রাজনৈতিক সঠিকতা অন্ধকারে দিক হারিয়ে ফেলেছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না ঘটলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’