কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস ঃ হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে হিলিপের বন্যা প্রতির¶া দেওয়াল নির্মাণের এক বছরেই ভেঙে পড়ছে। আতঙ্কে পড়েছেন এলাকাবাসী। অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের কাকুরিয়া গ্রামের দ¶িণ দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল বন্যা প্রতির¶া বাঁধটি। ইতোমধ্যে বাঁধের ভেতরকার ঘরবাড়ি বর্ষার পানি আর ঢেউয়ের আঘাতে ভাংতে শুরু করেছে। কেউ বাঁশের খুঁটি আর কচুরিপানা দিয়ে বাড়িঘর র¶ার চেষ্টা করলেও যেকোন সময় ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে গ্রামবাসীর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে হাওর অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন (হিলিপ) প্রকল্পে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৫৩০ মিটার দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার দেওয়ালের কাজ শুরু করা হয়। কাকুরিয়া গ্রামে ২ শ ১০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪০টি পরিবারকে র¶ার ল¶্যে প্রতির¶া দেওয়ালটি নির্মাণ করা হয়। গ্রামের ৮০ ভাগ মানুষ দরিদ ¶েতমজুর ও জেলে। এই দেওয়ালের ভেতরকার পরিবারগুলো গত শুষ্ক মৌসুমে ঋণ আর কর্জ করে দেওয়ালের গোড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ করে। দেওয়ালের গোড়ায় সিসি বস্নকও বসানো হয়েছিল। কিন্তু এবার বর্ষার পানি আসার সাথে সাথেই এ প্রতির¶া দেওয়ালে ভাঙন শুরু হয়। গত পাঁচ দিনে বর্ষণ ও ঢেউয়ের আঘাতে সবত্র ভাঙন শুরু হয়। ঘটনাস্থলে গেলে অতি দরিদ্র বিধবা শেফালি রাণী, হীরা লাল দাস, ব্রজেন্দ্র দাস, অজিত দাস জানান, তাদের বাঁশের খুঁটি দিয়ে কাঁচা প্রতির¶া দেওয়াল তৈরি করারও আর্থিক ¶মতা নেই। কার্তিক দাস, অমৃত দাস, অনিল সরকার, বিশ্বেম্বর জানান, আমরা ঋণ করে প্রতির¶া দেওয়ালের গোড়ায় মাটি ভরাট করেছি। এখন ঝড় আসলে স্ত্রী-সন্তান, আর গবাদি পশু নিয়ে টিকে থাকার আর কোন পথ নেই। অনেকেই জানান, এই প্রতির¶া দেওয়ালের জন্য সিসি বস্নক প্রযোজ্য নয়। এখানে ভিমসহ আরসিসি প্রতির¶া দেওয়াল নির্মাণ করা হলে সেটি র্দীঘস্থায়ী হবে। কলমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাধন চন্দ্র দাস জানান, হিলিপের অনবিজ্ঞ প্রাক্কলন এবং তদারকির ত্রুটির ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহাবুব মোর্শেদকে প্রশ্ন করলে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন, পড়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *