নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪৬ আসনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ , যা সরকার গঠনের জন্যে যথেষ্ট নয় । অপরদিকে বিএনপি পেয়েছিল ১১৬ আসন , তাদেরও একক ভাবে সরকার গঠনের সামর্থ ছিল না। আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির সমজোতা হলে, জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়।
আমার আলোচ্য বিষয় ভিন্ন , আমি আজকের এ কলামে আওয়ামী লীগকে নিয়ে কিছু লিখবো মনস্থির করেছি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার অত্যন্ত সফলতার সহিত সরকার পরিচালনা করলেও সাংগঠনিক ভিত ছিল খুবই নাজুক । দলের তৃর্ণমুল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছিল দলীয় অন্তর্কোন্দলের সমারোহ। যা দলের সাংগঠনিক ভিতকে অত্যন্ত দুর্বল করে তুলে । স্বীয় নেতৃত্ব জাহির করা ও ক্ষমতার তকমা লোপে নেওয়াই ছিল নেতাদের তখন কার দলীয় কার্যক্রম। সাধারণ শ্রেণীর কর্মী সমর্থকদের সাথে ছিল না সাংগঠনিক নেতা ও এমপি মন্ত্রীদের সুসম্পর্ক। দলীয় নেতাদের ক্ষমতার দাপটে যতটুকু না নিষ্পেসিত হয়েছিলো বিরোধী বলয়ের জনগোষ্ঠী, তার চেয়ে বেশী নিষ্পেসিত হয়েছিল স্বদলীয় কর্মী বাহিনী ও সমর্থক গোষ্ঠী। যে বিশাল কর্মী বাহিনীর নিঃস্বার্থ ভাবে সফল প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি করে , দলের দুর্দিনে নিজের জীবন বাজী রেখে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় , সেই বিশাল কর্মী বাহিনীকে করে রাখা হয়েছিল একঘরে কোনঠাঁসা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার অদম্য নিরলস দুর্সাহসিক প্রচেষ্টায় ১৯৮১ সাল হতে অদ্যবদী পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নামের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠনটি এখনো অত্যন্ত উদ্দীপনায় চললেও আপনার আশে পাশের কিছু তোষামোদ কারীর জন্য তৃণমূলের হতাশার বাণী আপনা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে নাই। যা ছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের একমাত্র কারণ । আপনার সরকারের ব্যপক সফলতা থাকলেও, সফলতার বাণী তৃণমূলে পৌছাতে ব্যর্থ হয়েছিল আপনার সংগঠনের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা নেত্রিরা। আওয়ামী লীগের ক্ষমতা অপব্যবহার কারী নেতাদের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের নির্যাতিত শ্রেনীর বৃহৎ একটা অংশ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় নিজেকে দুরে রেখে । তবে এই চিরন্তন সত্যটুকুন আপনাকে বুঝতে দেয়নি কেউ । আপনাকে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে আপনি বা আপনার দল পরাজিত হয়েছিলো। প্রকৃত পক্ষে একটি নির্বাচনে দলের বিশাল কর্মীবাহিনীর সম্পৃক্ততা না থাকলে যা হওয়ার তাই হয়েছিল। যে কোনো সংগঠনের কর্মীবাহিনী সজাগ ও নিবেদিত থাকলে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী নিষ্ঠুরতার কথা আজও আমরা ভুলে যাইনি। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের নির্যাতন ও অত্যাচার ছিল আপনার দলের সাংগঠনিক নেতাদের ব্যর্থতার ফসল । সারা বাংলাদেশের তৃণমূলের কর্মীদের চরম খেশারত দিতে হয়েছিল। কিন্তু আপনার সাংগঠনিক সুবিধা ভোগীদের সেই রকম কোন কিছু হতে শুনিনি। কারণ তোষামোদ কারীরা সময় সুযোগ বুঝে সকলেরই তোষামোদ করতে পারে। কিন্ত আপনার দলের বিশাল কর্মীবাহিনী তোষামোদীতে বিশ্বাস রাখে না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশ মাতৃকার টানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সর্বস্বঃ ত্যাগ করতে সচেষ্ট রাখে যা আপনার জানা নেই । কারণ এ ত্যাগের কথা গুলো আপনাকে জানতে দেয়নি। আপনি যখনই সাংগঠনিক খোঁজ খবর নিতে চান তখনই আপনাকে বুঝানোর চেষ্টা করা হয় সব কিছু ঠিক ঠাক আছে, পানির মতো গড় গড় করে চলছে । প্রকৃত ও বাস্তব চিত্র হচ্ছে ভিন্ন রকমের। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা আপনার দলের সাংগঠনিক নেতা ও এমপি মন্ত্রীদের প্রতি চরম ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিগত চারদলীয জোট সরকারের অত্যাচারের ক্ষতচিহ্ন এখনো আপনার দলের তৃণমুল পর্যায়ের কর্মীরা সারিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্ত আপনার দলের স্থানীয় কর্ণধারেরা সেই পুরনো ক্ষতকে বিক্ষত করে তুলছে। আমার দলীয় কোণ পদ পদবী নেই, পদ পাওয়ার মোহও আমার মধ্যে জাগেনি। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখি সদা সর্বদায় । এটাই আমার ব্যক্তি জীবনের স্বভাব জাত বৈশিষ্ট্য । আমি আমার সাংগঠনিক তৎপরতা ও অনলাইনের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে প্রতিদিনই দেশ বিদেশের মুজিব সেনাদের সাথে সুখ দুঃখের কথা বিনিময় করি । আর এ বিনিময়ে হয়েছে বিস্তর অভিজ্ঞতা । যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এই লিখনীর মাধ্যমে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ১৯৮১ সাল হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে আপনার জীবন হুমকির সম্মুখীন , এ যাবৎ আপনাকে ১৯ বার আক্রমণ করা হয়েছে, আপনার জীবন নাশের জন্য , কিন্তু আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপায় আপনি প্রতিবারই জীবনে রক্ষা পেলেন। কিন্তু শত শত নেতা কর্মীর শেষ রক্ষা হয়নি। জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে আপনাকে ও আপনার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে , বিনিময়ে কিছুই চায়নি তৃণমূলে কর্মী সমর্থকেরা। মৃত্যুর পর সাংগঠনিক ভাবে তাদের জন্য একবার একটি স্বরণ সভাও করতে দেখিনি কোন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের । এতসত্যেও নির্বিক কর্মী গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের জন্য প্রাণ দিতে দ্বীধাবোধ করে না । দলের দুর্সময়ে ঘরে বসে থাকতে পারে না, থাকেওনি কোন সময়। কিন্ত কিছু স্বার্থলোভী নেতা নামের কলঙ্ক স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবী করে , দলের নিধান কালে তাদের চোখে দেখা তো দুরের কথা , ঘুমের ঘোরে স্বপ্নেও পাওয়া যায় না তাদের। অথচ এই নেতা গুলিই দলের নিধান কালের কান্ডারিদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দল ত্যাগে বাধ্য করে ও দল থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখে। ত্যাগী কর্মীরা সব সময়ই প্রতিবাদী হয় , কারণ ত্যাগীরা কখনো দলের অকল্যান চায় না, দলের অকল্যাণে সংঘটিত যে কোন কর্মকান্ডকে প্রতিবাদের ভাষায় রুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। উল্লেখ্য যে নির্লোভ-নিঃস্বার্থ ত্যাগী কর্মীদের দলীয় কোন প্রভাব প্রতিপত্তিও থাকে না , যার ফলে প্রতিরোধের গতি মেথে যায় প্রতিপত্তিদের অত্যাচারের তীব্রতায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে যুদ্ধ আজ আপনি একা করে যাচ্ছেন, তাতে আমার মনে হয় অাপনার অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দলটি চরম অস্তিত্ব হীনতায় পরবে । যেমনটি পরেছিল বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে। তখন দলটিকে দল উপদলে বিভক্ত করেছিল আওয়ামী লীগেরই লেবাস ধারী কিছু সুবিধা ভোগী নেতারা । চরম সাংগঠনিক সংকটে উপনীত হয়েছিল আওয়ামী লীগ নামের ঐতিহ্যবাহী দলটি । যাহোক পরবর্তীতে আপনার আগমনে ও আপনার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে দলের সাংগঠনিক লাবন্যতা ফিরে পায় । আপনার রাজনৈতিক নৈপূন্যতায় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। যদিও বার বার আপনি শত ভাগ সফল হওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শত ভাগ সফল হতে পারেননি তার একমাত্র কারণ ঘরের শত্রু বিভিষণ। তারাই আপনাকে ব্যর্থ করতে চেষ্টা করেছে , আপনার চাওয়া পাওয়াকে বিপথে ধাবিত করেছে। এখনো করছে বলে মনে করি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে জ্ঞান দানের মতো কোন যোগ্যতা আমার নেই, এমন আস্ফালন দেখানোর ইচ্ছে ও আমার নেই। তবে এ সাহস থেকে বলছি যে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তার আদর্শ আমার মধ্যে বিদ্যমান, দেশের প্রয়োজনে আপনার পিতা মহোদয়ের আত্মচিৎকারে সাড়া দিয়ে আমার বাবা জীবন বাজী রেথে সংসার ধর্মের মায়া ভুলে গিয়ে পাকিস্তানী ও দেশীয় পাকদোসরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এদেশের স্বাধীন পতাকা উড়িয়ে ছিল । যদিও আমার পিতা এখনো মুক্তি যোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। কারণটা তখনকার রাজাকার পুত্র ছিল আমার এলাকার কর্ণধার। অথচ অথর্ব প্রকৃতির অনেক কাপুরুষ আমার এলাকায় মুক্তি যোদ্ধার পরিচয় বহন করছে । যাক তাতে আমার কোন কষ্ট নেই। আমি জানি আমার বাবা একজন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক ও সম্মুখ যুদ্ধের বীর সৈনিক ছিলেন। তিনি আজ প্রয়াত , বেঁচে নেই , স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পাক দোসর রাজাকারের ছত্র ছায়ায় থাকা কতিপয় দুষ্কৃতিকারীর হাতে আমার পিতাকে জীবন দিতে হয়েছে । তার সন্তান হিসেবেই নির্লোভ জীবন যাপন করি , বুকে ধারণ করে আছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। আমার মতো লক্ষ লক্ষ মুজিব সৈনিকরা নির্লোভ। কোন দলীয় পদ পদবী ও ক্ষমতার লোভে আসক্ত নয় । এরা মুজিব আদর্শে আসক্ত ও আপনার নির্দেশে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে নিজেকে প্রস্তুত রাখে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকে বাংলাদেশ এক ক্লান্তিকাল পার করছেন । বেগম জিয়ার অনৈতিক সিদ্ধান্তে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আগুনে পুড়ে মরছে , অনৈতিক হরতাল অবরোধে জিম্মী ছিলো দেশের ১৬ কোটি মানুষ, কোমলমতী ১৫ লক্ষ আগামী প্রজন্ম পরীক্ষা বঞ্চিত হয়েছিলো, ধ্বংশ করে দিতে চেয়েছিলো শিক্ষা ব্যবস্থা , এখনো বিএনপি জামাত জোটের অশুভ পরিকল্পনা থেমে নেই, মানুষ পুড়ে মারা থেকে শুরু করে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি ও জঙ্গী হামলা করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চেয়ে ছিলো । তবে প্রশ্ন আমার বিএনপি জামাতের অশুভ অনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি নয় । কারণ দুষ্টু চক্র সব সময় দেশ ও জাতির ক্ষতি সাধনে ব্যস্ত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুষ্ট চক্রদমন কি শুধু সরকারের আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীরই দায়িত্ব, না কি সরকারী দল আওয়ামী লীগের ও কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে । যদি থাকে তাহলে কেন দুষ্টচক্র দমনের পরিবর্তে আওয়ামী লীগে তাদের কেন কোন স্বার্থে আত্মীয় করণ করা হচ্ছে। তার কারণ হিসেবে আমি বলতে চাই সুবিধা ভোগী সময়ের আবর্জনা জাতীয় নেতাদের তৃণমুল পর্যায়ের কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক নেই , কর্মীদের সামনে নিজেদের অপকর্মের জন্যে দাড়ানোর মতো সৎ সাহস নেই,নেই জন সম্পৃক্ততা । তাই তো বিএনপি জামাতের লোক জন দলে ভিরিয়ে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে চাইছে। যদিও আপনার সাংগঠনিক নির্দেশ ছিলো বিএনপি জামাতের সমর্থক যাতে আওয়ামী লীগে আশ্রয় প্রশ্রয় না পায়। আপনার নির্দেশ তারা মানতে বাধ্য নয়, কারণ তারা ভোগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী , ত্যাগের রাজনীতি কিংবা দেশ প্রেমের রাজনীতিতে নয়। আজ আপনি বাংলাদেশকে দরিদ্র বিমোচণ করে , দেশের অবকাঠামো গত উন্নয়নের মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছেন। কিন্ত নিজ সংগঠনটি ধ্বংস হচ্ছে দলীয় লোভী নেতাদের কারণে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর দায় কিন্তু আপনার সরকার না নিলেও আপনার দলকে অবশ্যই নিতে হবে। আপনার দলের সাংগঠনিক নেতাদের এর জবাব দিহি করতে হবে তৃণমূলের কর্মীদের কাছে । আর যতটুকুই সাংগঠনিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করেছে তা তৃণমূল কর্মীর বিবেকের ধ্বংশনে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সংগঠনের অনেক অপরিচিত মুখ এখন নিজেকে স্ব-ঘোষিত নেতা বনে যাচ্ছে, বিভিন্ন সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছবি টানিয়ে , সাথে আপনার ছবিও টানিয়ে নিজেকে জাহির করছে আপনার আস্থা বাজন হিসেবে । সত্যিই কি এরা আপনার আস্থা বাজন , না-কি সাধারণ কর্মী বাহিনীকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতার সাদ ভোগ করার কৌশল মাত্র, কৌশলই যদি হয়ে থাকে তাহলে কেন ঐ সকল ভুঁইফুর সংগঠনের স্বগর্বিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় না। আরেকটি বিষয় খুবই লক্ষ্যনীয় যে, এমপি মন্ত্রীদের কোন এলাকায় আগমন উপলক্ষে বিশাল আকৃতির তৌরণ নির্মাণ করা হয়, এতে করে সাংগঠনিক অর্থের বিশাল একটা অংকের অপচয় হয় বলেই মনে করি। অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীরা অর্থাভাবে বীনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে , রোগ শোকে বিছানায় পরে কাতরাচ্ছে, না খেয়ে রয়েছে । এই তৌরণ নির্মাণের অর্থ টুকু ত্যাগী ও বীনা চিকিৎসায় বিছানায় পরে থাকা, না খেয়ে থাকা কর্মীদের মাঝে বিলি বন্টন করলে কি দলের শক্তি বৃদ্ধি পেতো না ! বিলবোর্ড , ফেস্টুন ও ব্যানারের অযাচিত অর্থ খরচ না করে দুঃখি মানুষের সেবায় কাজে লাগালে কি দলীয় শক্তি কি কমে যেতো বা কমে যাবে।
বিগত স্থানীয় সরকারের মনোনয়ন বাণিজ্যের কথা না-ই বললাম। শুধু এই টুকুই বলি নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে ৫২১ ভোট ও ৩২২ ভোট প্রাপ্তির ইতিহাসও সৃষ্টি করেছে। রাজাকার ও জামাত বিএনপি হতে আগতকরা পেয়েছেন নৌকা প্রতিক, আর তিতি পরা ত্যাগী আওয়ামী লীগেরা পেয়েছেন আনারস প্রতিক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরিশেষে বিনম্রচিত্তে আপনাকে বলতে চাই; দলের মধ্যে সুদ্ধি অভিযান এখন বড়ই জরুরী । সুবিধাবাদ ও ব্যবসায়িক নির্ভর রাজনীতি যত দিন চলবে ততদিন মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে দৈন্যদশা চলতেই থাকবে। সংগঠন তার নিজস্ব গতি হারাবে, তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা দল বিমুখ হবে, নেতা বিমুখ হবে। কারণ সুবিধা বাদীরা সুবিধা আদায় করা বুঝে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বুঝে, তবে তারা কেউ রাজনীতি বুঝে না, আওয়ামী লীগ বুঝে না, সাংগঠনিক কোন ক্ষমতা রাখে না , কর্মী সমর্থক চিনে না , চিনার কোন প্রয়োজন মনে করে না। তারা নিজের প্রয়োজনে আত্মীয় লীগ করে। আওয়ামী লীগের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ করে না। সুবিধা বাদ ও ব্যবসায়িক নির্ভর রাজনীতি চলতে থাকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকবে না, দেশত্ববোধ থাকবে না, স্বাধীনতার চেতনা থেকেও একসময় দুরে সরে যাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। অদুর ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক ও অবশিষ্ট রাজনীতিবিদের দ্বন্ধে আওয়ামী লীগেরও বিলুপ্তি ঘটতে পারে। এখনই সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে দেশ প্রেমিক তৃণমূল থেকে উঠে আসা পরিক্ষীত ত্যাগী নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বহন করে চলবে আমৃত্যু পর্যন্ত। রাজনীতি বিদ ছাড়া রাজনীতি করা সুখকর নয়। যদি কোন কারণে সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে এর দায় দায়িত্ব তৃর্ণমুলের কর্মীরা বহন করবে না । কারণ ২০০১ সালের সাংগঠনিক ব্যর্থতার মাসুল তৃর্ণমুলের কর্মীরা হাড়ে হাড়ে গুনেছে।
- লেখকঃ মোহাম্মদ কাউছার রশিদ । কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
- সহ সম্পাদনায়ঃ ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

