আদালতের মাধ্যমে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার ডা. শহীদ মিলন হলে বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই, আওয়ামী লীগ ভয় পাওয়ার দল না, জনগণ ছাড়া আওয়ামী লীগ কাউকে ভয় পায়না। আদালতের মাধ্যমে দলের চেয়ারপার্সনকে মুক্ত করে নির্বাচনে অংশ নিন। আগামী নির্বাচন হবে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ।’
প্রাইভেট হাসপাতাল নয়, চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রাখতে বেগম জিয়ার প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের বলি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবা নিয়ে অযথা রাজনীতি করবেন না। চিকিৎসা সেবা নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক না। জেল কোড অনুযায়ি তার সকল ধরনের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণ ছাড়া আন্দোলন হয় না। যে কোন আন্দোলনের কারণ থাকতে হয়। আপনারা যে আন্দোলন করেন তার কোন যুক্তি নেই। যুক্তি ছাড়া আন্দোলন হলে তো জনগণ সাড়া দেবে না। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে গেছেন আদালতের রায়ে। আমারাও চাই তিনি আদালতের রায়ে মুক্তি লাভ করুক। এখানে তো আমাদের কিছুই করা নেই। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলেন, কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন? জামিন দেয়া না দেয়া তো আদালতের ব্যাপার।
স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে দলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে। যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ৩২ রকমের ঔষধ পাচ্ছে। তিনি বলেন, বড় বড় শহরগুলোতে বিশ^মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ের তৃণমূল দরিদ্র মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবন কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম আজ সারা বিশ্বে উদাহরণ হিসাবে দেখানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *