ঢাকায়ঈদ উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ছয়টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

সকালে বিভিন্ন কোম্পানির বাস কাউন্টারের সামনে অগ্রিম টিকিট কিনতে আগ্রহী নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বাস কাউন্টারগুলো থেকে বলা হচ্ছে, ১৭ জুন সম্ভাব্য ঈদুল ফিতরের দিন ধরে ৭ থেকে ১৫ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর গাবতলী বালুর মাঠসংলগ্ন হানিফ পরিবহনের বাসের কাউন্টারে টিকিট কিনতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শাহীন। তিনি গাইবান্ধার টিকিট কিনতে ভোররাত চারটার দিকে কাউন্টারে আসেন। চাহিদা অনুযায়ী, ১৪ জুনের টিকিট হাতে পেয়ে তিনি দারুণ খুশি। শাহীন বলেন, ‘১৪ জুনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় ভয়ে ছিলাম। সময় লাগলেও টিকিট পেয়েছি। বেশ ভালো লাগছে।’

বিভিন্ন কাউন্টারে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিকিট কিনতে কেউ কেউ সাহ্‌রির পরই এসে সারি ধরেছে। আবার কেউ মঙ্গলবার রাতেই এসেছে।

টিকিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অনেকেই বিরক্ত হচ্ছিলেন। অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা টিকিট হাতে পাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরক্তি মুহূর্তেই মিলিয়ে মুখে হাসি ফুটছিল।

অন্যদিকে, কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট না পেয়ে কেউ কেউ খেদ করছিলেন। বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি থেকে একটু পরপর উত্তেজিত লোকজনের শোরগোলের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মাজেদুল ইসলাম এসেছেন সাহ্‌রির পর। তিনি সৈয়দপুরের টিকিট পেয়েছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট পাননি। তিনি ১৪ জুন রাতের টিকিট চাইছিলেন। পেয়েছেন ১৫ জুন রাতের টিকিট। মাজেদুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সামনে ২০ জন মতো লোক সারিতে দাঁড়ানো ছিল। এত আগে এসেও ১৪ জুনের টিকিট পেলাম না। এখন আমাকে ঢাকায় আরও এক দিন বেশি থাকতে হবে।’

বাস কাউন্টারগুলো থেকে জানানো হয়েছে, ৭ থেকে ১৫ জুনের ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ১৩ ও ১৪ জুনের টিকিটের চাপ বেশি। সবাই ১৪ জুনের টিকিট কিনতে চাইছে।

কাউন্টারে কথা বলে জানা যায়, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে। আগামী ৩-৪ দিন অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।

মিরপুর সাড়ে ১১-তে পোশাক কারখানায় কাজ করেন মো. শাহজাহান আলী। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও। চারটি টিকিট কিনতে গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কাউন্টারের সামনে আসেন। তাঁর অভিযোগ, ৬০০ টাকার টিকিট ৮৫০ টাকা করে কিনেছেন তিনি। তাঁকে বাড়তি এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেয়ে শাহজাহান আলীর চোখেমুখে ছিল হাসি। প্রথম আলোকে তিনি বললেন, ‘টাকা বেশি গেছে। কষ্টও অনেক হইছে। কিন্তু টিকিট কনফার্ম। বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত।’

টিকিটে কিছুটা বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে আরও কয়েক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রতিবারই ঈদের সময় কিছু বাড়তি টাকা নেয় পরিবহন কোম্পানিগুলো।

হানিফ পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ভোর সোয়া ছয়টা থেকে তাঁরা অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু করেছেন। আজ ১৩ ও ১৪ জুনের টিকিটের চাহিদা বেশি। বিভিন্ন গন্তব্যের এই দুই দিনের টিকিট সকাল ১০টার মধ্যে প্রায় শেষ হয়ে যাবে বলে তাঁর ধারণা।

ছুটি ভাগ করে দিলে টিকিটের চাপ কম হতো বলে মনে করেন মোশারফ হোসেন।

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হানিফ পরিবহনের এই মহাব্যবস্থাপক বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়। তাঁরা বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *