বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা দ্বিগুন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, নিকি হ্যালি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দেবে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদেরকে আশ্রয়দানকারী দেশ বাংলাদেশে যাবে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত বছর মিয়ানমারের সেনাদের নৃশংস নির্যাতনের ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের অনুমোদিত তদন্তকারীরা বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ব্যাপক হারে গণহত্যা ও গণধর্ষণ করেছে।মিয়ানমার এ অনুসন্ধানকে একপেশে বলে আখ্যায়িত করেছে। এ বিষয়ে সোমবার সাংবাদিকদেরকে নিকি হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ভুল করেছে। যেমনটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলেছে তাতে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, আসলে কি ঘটেছিল। সন্ত্রাসীরা নয়, সেনাবাহিনীই তাদের (রোহিঙ্গাদের) বিরুদ্ধে এসব করছে। রোহিঙ্গারা শুধু শান্তিতে বাস করার মতো একটি জায়গা চায়। নিকি হ্যালির এমন বক্তব্যের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের মিশন তাৎক্ষনিক কোনো মন্তব্য করে নি। ওদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁঅ ইয়েভস লি ড্রিয়ান। কূটনীতিকরা বলেছেন, এতে জবাবদিহিতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ওদিকে নিকি হ্যালি বলেছেন, এখনই সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার। তাই আমি ফরাসি ও বৃটিশদের প্রতি আহ্বান জানাই আমাদের উচিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টকে গ্রহণ করে তা নিরাপত্তা পরিষদে পাঠিয়ে দেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *