বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাঁচদিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতেই উপাচার্য তাদের এ দুটি দাবি পূরণের কথা জানান।

আবরারের বিষয়ে উপাচার্ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে আর মামলার খরচ বহন করবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেয়া হবে।

ভিসি আরও বলেন, হলগুলোয় র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে দ্রুততম সময়ে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্যাম্পাসের মধ্যে সিসিটিভি বসানো হবে। এ জন্য সময়ের প্রয়োজন।

বক্তব্যের শুরুতেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিসি বলেন, ‘আমার কিছুটা ভুল হয়েছে। আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ভুল আমি স্বীকার করেছি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও। আবরার আমার সন্তানের মতো ছিল। তোমাদের যেমন কষ্ট লাগছে তার মৃত্যুতে আমারও অনেক খারাপ লেগেছে। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি। তার মৃত্যুতে তোমরা দুঃখ পেয়েছ, আমিও পেয়েছি। আমরা সকলেই মর্মাহত।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আলোচনায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। অডিটোরিয়ামে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড দেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *