গত ২৫শে আগস্ট লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর নানা রকম ঘটনা ঘটেছে। তার অন্যতম, মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার বিষয়ে লা লিগা কর্তৃপক্ষের বিবৃতি। সাধারণত কোনো খেলোয়াড়ের দলবদল নিয়ে বিবৃতি দিতে দেখা যায় না লীগ কর্তৃপক্ষকে। নজিরবিহীনভাবে সেটাই করে লা লিগা। বার্সেলোনার সঙ্গে সুর মিলিয়ে লা লিগা জানায়, মেসিকে ক্লাব ছাড়তে হলে পরিশোধ করতে হবে ৭০ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ। এরপরই স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, মেসি বার্সেলোনা ছাড়লে লা লিগার জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সেজন্য লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস মেসিকে আটকানোর কৌশল হিসেবে ৭০ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজের বিষয়টি সামনে এনেছেন। গত শুক্রবার মেসির সিদ্ধান্ত বদলের দুই দিন পর সোমবার হাভিয়ের তেবাস মেসিকে আটকানোর কথা অস্বীকার করেন।

ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’কে লা লিগা সভাপতি বলেন, ‘লীগের যে কিছু নিয়ম আছে সে বিষয়েই আমরা কথা বলেছিলাম।
মেসি বা অন্য সবাইকেই সেটা মেনে চলতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনই মেসিকে আটকানো বা এরকম কিছু করার চেষ্টা করিনি। মেসিকে আমরা সবাই ভালোবাসি। গত ২০ বছরে ও যা করেছে সেটাকে আমরা সব সময় সম্মান করি। মেসির সঙ্গে আমি কখন, কিভাবে ঝামেলায় জাড়ালাম সেটা আমি নিজেই জানি না। সংবাদমাধ্যম সবকিছু বাড়িয়ে প্রতিবেদন লিখেছে।’

মেসির আইনজীবীরা করেছিলেন, লিওনেল মেসি সঠিক সময়েই ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তিনি ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব বদল করতে পারবেন। তবে বার্সেলোনা দাবি করে বসে, ‘২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী; ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছাড়তে হলে মেসিকে সিদ্ধান্ত জানাতে হতো ১০ই জুনের মধ্যে।’ করোনা মহামারির কারণে মৌসুম শেষ হতে দেরী হওয়ায় মেসির আইনজীবীরা মনে করেছিলেন, ‘ক্লাব ছাড়তে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময়টাও বৃদ্ধি পেয়েছে।’ লা লিগার দেয়া বিবৃতির পাল্টা উত্তর মেসি দিয়েছিলেন ৪ঠা সেপ্টেম্বর। এক বিবৃতিতে মেসি বলেছিলেন, ‘লা লিগার পর্যালোচনায় ভুল রয়েছে। কিসের ভিত্তিতে তারা ৭০ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজের বিষয়টি সামনে এনেছে সেটা জানি না।’

মেসি-বার্সেলোনার টানাপোড়ন শেষ হয়েছে। সোমবার বার্সেলোনার অনুশীলনেও যোগ দিয়েছেন মেসি। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ন্যু ক্যাম্পে দেখা যাবে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *