আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দেখায় ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেটি আট বছর আগের কথা।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে সেটিই ছিল দুদলের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে।

বুধবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়াম সেই দুঃস্মৃতিই যেন ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছিল। ২১৬ রানের মাঝারি মানের টার্গেট সামনে নিয়ে ৪৫ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে হারের জন্য সব আয়োজনই সেরে ফেলেছিল টপ অর্ডাররা।

সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে আফিফ-মিরাজের রেকর্ড জুটিতে দারুণ এক জয়ের সাক্ষী হলেন টাইগার সমর্থকরা।

এ জয়কে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

নির্বাচক হিসেবে আফিফ-মিরাজের জুটিতে জয়কে কেমন বোধ করছেন প্রশ্নে বুধবার রাতে নান্নু বলেন, ‘যে কোনো জয় সবার জন্য স্বস্তির। শুধু নির্বাচকদের জন্য কেন! ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট সবার জন্য এ জয় খুশির এবং স্বস্তির। বিপর্যয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতাটা অবশ্যই কৃতিত্বের এবং আমি বিশ্বাস করি সামনের দিকে এগোতে হলে এ জয় অনেক সাহস জোগাবে। আফিফ ও মিরাজের কথা আলাদা করে বলতে হয়। তাদের ব্যাটিং আজ (বুধবার) যারা দেখেছেন, তাদের এ নৈপুণ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের চিরদিন মনে থাকবে।’

আফিফ-মিরাজের স্তুতি গেয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা— বিপদে তারা সাহস হারায়নি। তাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনি। একদম মাথা ঠাণ্ডা রেখে ব্যাটিং করেছে দুজন। এসব অবস্থায় বিপর্যয় এড়াতে অনেক সময় ব্যাটাররা বেশি শট খেলতে চায়। খুব দ্রুত কিছু শট খেলে স্কোর বোর্ডটাকে একটু চাঙ্গা রাখতে চায়; কিন্তু মিরাজ আর আফিফ তা করেনি। কিছু শট খেলে অতিদ্রুত রান করে ফেলার চিন্তাই ছিল না মাথায়। তারা ঠাণ্ডা মাথায় বেশিরভাগ বল খেলেছে। শটের দিকে যায়নি। তখন চাপের মুখে যদি শটের দিকে যেত, রানের চিন্তা করত, তা হলে অন্য কিছু হতে পারত। ধৈর্য ধরে দুজনের লম্বা সময়ের ব্যাটিং প্রেসারটা কমিয়ে দেয়।’

বুধবার আফিফ-মিরাজের অবিস্মরণীয় জুটিতে বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। আফিফ করেছেন ৯৩ রান আর মিরাজ করেছেন ৮১ রান। দুজনই অপরাজিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *