২০১১ সালের বহুল আলোচিত একটি হত্যা মামলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার মধ্যস্থতায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়া গ্রামে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২ আগস্ট সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হয় স্থানীয় যুবক আবুল কালাম।
তার বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদি হয়ে ওই দিনই বোয়ালমারী থানায় ২০জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ হত্যা মামলাটি তদন্ত করে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১২জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশিট দেয়। কিন্তু বাদি নারাজি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে পুলিশ আরো তিন আসামির নাম যুক্ত করে পরবর্তী চার্জশিটে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, মামলাটি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য বেশ আগে থেকেই তৎপর ছিল স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুর রউফ মাস্টারের ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহসম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত ২ মে ময়না ইউনিয়নের সদস্য নায়েব আলীর বাড়তে মামুনের মধ্যস্থতায় মামলার বাদি ও আসামি উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার বৈঠক হয়।
সেখানে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট খসরুজ্জামান দুলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাড়ে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যার মামলার সাক্ষীরা দুর্বল সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়।
নিহতের ভাই ও মামলার অন্যতম সাক্ষী বাহারুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ওরা (আসামিরা) টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদি টাকা পাই তাহলে এক রকম সাক্ষ্য দেবো, আর না পাইলে আরেক রকম সাক্ষ্য দেবো।
মামলার অন্যতম আসামি (মধ্যস্থতারকারী আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের আত্মীয়) আবুল খায়ের জানান, বৈঠকে মামুন ছিল, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিল, সেখানে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা মামুনের মাধ্যমে বাদি পক্ষ ও অন্যদের দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফরিদপুর জজ কোর্টের পিপি ও মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইজীবী অ্যাডভোকেট খসরুজ্জামান দুলু বলেন, বাদি ও আসামি উভয় পক্ষই আমার গ্রামের লোক। মধ্যস্থতা বৈঠকের দিন আমি গ্রামের বাড়িতে থাকায় স্থানীয়দের আহ্বানে আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। হত্যা মামলাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টার কথা স্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আজম মৃধা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাকে রহস্যজনক কারণে ওই বৈঠকে ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, হত্যার মতো ঘটনার বিচার হওয়া উচিত, এ ধরনে ঘটনার বিচার না হলে সমাজের অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।
বোয়ালমারী থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, হত্যা বা ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক নিষ্পত্তি যোগ্য নয়। তবে অনেক সময় আসামি পক্ষ বাদি পক্ষকে অর্থ দিয়ে সাক্ষীকে প্রভাবিত করে, এটা আইন সম্মত নয়।
হত্যা মামলার মধ্যস্থতাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ প্রসঙ্গে বলেন, হত্যা মামলার আসামি খায়ের আমার বোনজামাই, অন্যদিকে বাদী পক্ষ আমার গ্রামের লোক। উভয় পক্ষের অনুরোধে আমি আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি। সাড়ে ১৫ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার কাছে এখনো টাকা জমা দেয়া হয়নি।
শেখ হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?