momotaসারদার আমানতকারীদের অর্থে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের পুষ্ট করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। আর এই অর্থ পাচারের পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের এক রাজ্যসভা সাংসদের নাম ওঠার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেকে পাঠানোর ঘটনাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে আবিদা ইসলাম কলকাতায় বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের দায়িত্ব নেয়ার পর রীতি অনুয়ায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও মমতার দেখা পান নি। অথচ এখন তাকেই মুখ্যমন্ত্রী তলব করার ঘটনায় অনেকেই আশ্চর্য হয়েছেন। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক সব সময়ই ভাল। আর মমতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বোনের সম্পর্ক কিছুদিন আগে পর্যন্তও বজায় ছিল। মমতার নির্বাচনে জয়লাভে একাধিকবার শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন হাসিনা। তিস্তা নিয়ে মমতা বেঁকে বসাতেই সেই সম্পর্ক খানিকটা তিক্ত হয়েছে। তবে নবান্ন (সচিবালয়) সুত্রে জানা গেছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার দল, তার সরকার এবং তার ব্যাক্তিগত মতামত তিনি বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারকে জানাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আজ শনিবারই আবিদা ইসলাম নবান্নে (সচিবালয়) মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে বাংলাদেশে মৌলবাদী আন্দোলনকে পুষ্ট করতে সারদার আমানতকারীদের অর্থ যার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেই তৃণমূল সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান সম্পর্কে মৌলবাদী যোগাযোগের নানা তথ্য সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে। ইমরান জামায়েতের সংবাদপত্র ‘নয়াদিগন্ত’ এবং ‘দিগন্ত টিভির’ ভারত প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ফলে তার সঙ্গে জামায়েত নেতাদের যোগাযোগ থাকাটা স্বাভাবিক। এখনও বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের অতিথির তালিকায় তার নাম রয়েছে। ইমরান একসময় ভারতে সিমির (স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া) প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম। পশ্চিমবঙ্গে সিমিরও প্রধান ছিলেন তিনি। সিমির মুখপত্র হিসেবে ‘কলম’ নামে একটি সাময়িকীও তিনি প্রকাশ করতেন। সেটিই মমতা সরকার গঠনের পর সারদা গোষ্ঠীর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। সেটি তখন ইমরানের সম্পাদনাতেই দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হয়। বাঙালি মুসলমানদের কাগজ হিসেবে তুলে ধরতে এটির উদ্বোধনে মমতা নিজেই হাজির হয়েছিলেন। পরে সিমি ২০০১সালে ভারতে নিষিদ্ধ হলেও তিনি তার সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা এজেন্সির রিপোর্টে। পশ্চিমবঙ্গে মৌলবাদী কাজে তার যোগাযোগ সম্পর্কে রাজ্যের গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, এসব জানা সত্ত্বেও মমতা তাকে রাজ্যসভার সাংসদ করলেন কেন? তবে ইমরান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। অসমের গায়ক গ্রেপ্তার : সারদার আমানত কেলেঙ্কারির তদন্তে অসমের প্রখ্যাত গায়ক এবং বিজ্ঞাপন নির্মাতা সদানন্দ গগৈকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। সদানন্দ গগৈ সারদার জন্য একটি প্রমোশনাল অ্যাডফিল্ম বানাতে সুদীপ্ত সেনের থেকে চার কোটি টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকার অনেকটাই তিনি তছরুপ করেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও সদানন্দ গগৈ অসমের সাবেক মন্ত্রী ও প্রখ্যাত রাজনীতিক হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘনিষ্ঠ। হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর কাছ থেকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করেছিলেন বলে অভিযোগ সুদীপ্ত সেনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *