বাংলাদেশে মানবাধিকার শূন্যের নিচে

Khaleda_Zia_2014_945267784

বাংলাদেশে মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। মানবাধিকার দিবসে দেওয়া এক বানীতে এ কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেত্রী তার বানীতে বলেন, জাতিসংঘ ১৯৫০ সালে ১০ ডিসেম্বরকে ‘মানবাধিকার দিবস’ ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবিক অধিকার হারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।

যারা বাক, ব্যক্তি, চিন্তা, প্রার্থনা, মূদ্রণসহ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারি গোষ্ঠীর নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারি শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

জাতিসংঘের সার্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সব মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারি শাসকেরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে আক্রমণ।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে হয়, আর সেজন্য এইসব গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না। সুতরাং দুঃশাসনের অচলায়তন তৈরি করতে গিয়ে তারা প্রতিবাদী জনগণের ওপর নামিয়ে আনে উৎপীড়ন।

যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সমাজের যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাবাস, শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম এবং হত্যারও শিকার হতে হয়।

বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক।

বর্তমানে বাংলাদেশে মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। এদেশে শুধুমাত্র বিরোধীদলের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোই কোনো নিরাপত্তা নাই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্ত হত্যা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং অনেককেই কারাগারে রাখা হয়েছে।

এ বছরের মানবাধিকার দিবসের শ্লোগান হচ্ছে ‘বছরের ৩৬৫ দিনই মানবাধিকার দিবস’। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মনে হয় ৩৬৫ দিনই এদেশের মানুষের মানবাধিকার হরণের দিবস।

সুতরাং এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহূর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কাণ্ডের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

Post by আশিকুর রহমান চৌধুরী স্বদেশনিউজ২৪.কম

আরো দেখুন

শেখ হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সে আন্দোলন যে

‎নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৫….

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের

এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের

শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা

‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্ট বুধবার, গাইবেন আর্টসেল-শিরোনামহীন-আসিফ আকবরসহ অনেকে

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের দিন বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘বর্ষা

আম্পায়ার সৈকতকে নিয়ে বিসিবির অবস্থান কী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি