দেড় মাস আগে ’ক্রাশ প্রোগ্রাম’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়নে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, সেশনজট নিরসনে আমরা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি, ক্লাস সময়, ফরম পূরণ, ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সব আয়োজন, কর্মপরিকল্পনা আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সামনে এসেছি।

বছরের পর বছর ধরে লেগে থাকা সেশনজট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ গেলো ২২ জানুয়ারি ‘ক্রাশ’ প্রোগ্রামের এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিএনপি জোট গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধের মধ্যে দফায় দফায় হরতাল দিচ্ছে। হরতালে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে নেয়া হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। এ থেকে রেহাই পায়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও। গত দুই মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত কলেজগুলোতে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সংবাদ সম্মেলনে ভিসি হারুন জানান, দেশের উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাসের অধিক সময় ধরে বর্তমান এ অবস্থা বিদ্যমান এবং সহসা এ অচলায়তন ভাঙারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষাকার্যক্রম বিঘিত হওয়া ছাড়াও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াও এখন হুমকির সম্মুখীন।

হারুন-অর-রশিদ বলেন, গত দুই মাস ধরে চলা অবরোধ ও হরতালে কারণে আমরা তিনটি পরীক্ষা সঠিক সময়ে নিতে পারিনি। তবে এ মাসের শেষ থেকে ওই পরীক্ষাগুলো শুরু করার চিন্তা করছি।

তিনি জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্নাতক (পাস) কোর্সের এই পরীক্ষা শুরু হবে ২৮ মার্চ থেকে। ৩০ মে পর্যন্ত চলবে এ পরীক্ষা। এতে অংশ নেবে প্রায় ৫ লাখ পরীক্ষার্থী। গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হতে যাওয়া সম্মান প্রথম বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে ৩০ এপ্রিল, যাতে অংশ নেবেন ১ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী এবং ১৫ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে ৭ এপ্রিল থেকে, যেখানে অংশ নেবেন ২ লাখ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী। আমরা সূচি হওয়া পরীক্ষাগুলো দিনের দ্বিতীয়ভাগে অর্থাৎ বিকেলে নেবো। এর আগে সকালে নিয়মিত ক্লাস চলবে। তবে শুধু শুক্র ও শনিবার নয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ।

হরতাল-অবরোধ চলামান থাকলেও পরিবর্তনকৃত এই সূচিতে পরীক্ষা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, আশা করছি হরতালে পরীক্ষা চালালে কেউ বাধার সৃষ্টি করবে না। কারণ এখন সবার মনে একটা বিবেক জাগ্রত হয়েছে। তারপরও বলবো- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত করতে জাতি ও শিক্ষার্থীদের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেজন্য শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের আহ্বান, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি যেন তারা না দেন।

‘ক্রাশ প্রোগ্রামের ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ২০১৮ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত সকল পরীক্ষার সময়সূচির ‘ক্রাস প্রোগ্রাম’ ঘোষণা করেছি। এখনো আমাদের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। তবে এ ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকলে, আমরা আবারো সেশনজটে পড়বো। তাই আমরা তো বসে থাকতে পারি না। কারণ দেশবাসী ও শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম ২০১৮ সালের মধ্যভাগ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হবে সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত।

ভিসি হারুন বলেন, হরতাল-অবরোধ বন্ধের দাবিতে আগামী ১৪ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ১৫৪টি কলেজে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয়ভাবে ও কলেজগুলো অভিন্ন ব্যানারে একই সময়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নোমান উর রশীদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *