আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি নবায়ন না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও আলোচনার পর মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বোর্ড।
বিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল মোহামেডানের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে চুক্তিভুক্ত আম্পায়ারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছিলেন সৈকত। যদিও তখন তার পদত্যাগ গ্রহণ করেনি বিসিবি। বরং পরবর্তী এক বছর তিনি চুক্তির আওতায় থেকে নিয়মিত পারিশ্রমিক পেয়েছেন।
বোর্ড আরও জানায়, সৈকতের মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।
বিসিবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইসিসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সৈকতের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে জাতীয় বোর্ডের চুক্তিভুক্ত আম্পায়ার হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আগের মতো সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বোর্ড।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় রাখা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কারণ আন্তর্জাতিক দায়িত্বের ব্যস্ততার সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের সূচির সমন্বয় করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে বিসিবি স্পষ্ট করেছে, সৈকতের সঙ্গে তাদের পেশাগত সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। তার সময়-সুযোগ অনুযায়ী ভবিষ্যতেও দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সিরিজের পাশাপাশি দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে।