monta-300x186 (1)পাঠসূচিতে ধর্মীয় শিক্ষায় ১০০ নম্বর রাখা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন বলেছেন, বাংলাদেশে আজ জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে। যা পাকিস্তান আমলেও ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আন্দোলন করতে হয়।

তিনি শনিবার খুলনায় ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ড. মুনতাসির বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর লাশের ওপর দিয়ে অনেক রাজনীতিবিদই সেনাশাসিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন। আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার তথ্যচিত্র সংরক্ষণ করার জন্য সারাদেশের মধ্যে খুলনায় প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর। এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধকালের অনেক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হবে। খুলনায় অনেক গণকবর রয়েছে যা এখনও অনেকের অজানা। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বার বার রদবদল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৬ বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকার পরিবর্তন করা হয়েছে। এদেশের কৃষক, ছাত্র, দিনমজুর, ভিখারিও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের অনেকের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
খুলনায় প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। সে সময়ে নির্যাতনকারী, হত্যাকারীদের নাম ও পরিচিতি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি খুলনা নগরীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটি স্বাধীনতা বিরোধীদের নেতা খান এ সবুরের নামে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিবছর ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ও ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, খুলনায়ই সর্বপ্রথম মুক্তিযুদ্ধের ১৯৭১: গণহত্যা- নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর যাত্রা শুরু করলো। এই জাদুঘরটি জাতীয় জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। সারাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে তথ্য চিত্র দেখতে খুলনায় আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সঠিক সংখ্যা ও নামের তালিকা এখনও পাওয়া যায়নি। সেই সব নামের তালিকা সংগ্রহে এই আর্কাইভ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম।

এতে আরও বক্তব্য দেন- বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলমগীর কবির, মুক্তিযোদ্ধা সরদার মাহবুবার রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর খালিশপুর নয়াবাটি মুন্সিবাড়িতে গণহত্যার গনকবর সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়।

এই উপলক্ষে বিকেলে বিএমএ মিলনায়তনে গণহত্যা ও নির্যাতন বিষয়ে তিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রর্দশনী উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অতিথি ছিলেন, ড. মুনতাসীর মামুন, হাশেম খান, প্রফেসর ড. মো. সেলিম।

আলোকচিত্র প্রতিদিন বিকেল ৪টা রাত ৮ পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *