রায়হান কবির, স্বদেশ নিউজ২৪.কম: জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা-সাকিব আল হাসান। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন জয় ছিনিয়ে আনতে। এবার কি না তারাই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী? বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-(বিপিএল) ২০১৭ আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসকে সাকিব এবং রংপুর রাইডার্সকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। দেশের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগের পঞ্চম আসরের ফাইনালে আজ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা। শিরোপার লড়াইয়ে ম্যাশের চার নাকি সাকিবের টানা দুই  এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।এর আগে চারবার মাঠে গড়িয়েছে বিপিএল। তিনবার শিরোপা ছুঁয়েছেন মাশরাফি। এর মধ্যে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে দুইবার এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে একবার। একবার তা বগলদাবা করেছেন সাকিব।

বিপিএলের প্রথম আসর মাঠে গড়ায় ২০১২ সালে। মাশরাফির নেতৃত্বে ওই আসরের ফাইনালে বরিশাল বার্নাসকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ঢাকা। পরের আসরের ফাইনালে চিটাগাং কিংসকে পরাজিত করে  রাজধানীর দলটিকে শিরোপা এনে দেন তিনি। ২০১৫ সালে তৃতীয় আসরে নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ডেরায় ভেড়েন নড়াইল এক্সপ্রেস। সেবার তো ইতিহাসই রচনা করেন ডানহাতি পেসার। একরকম মাঠে দাঁড়িয়ে পুরো টর্নামেন্টে দাপটের সঙ্গে খেলে জীর্ণশীর্ণ দলকে ট্রফি পাইয়ে দেন জিয়নকাঠি। এবার দিয়ে পাঁচ আসরের চারবারই ফাইনালে খেলছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক। ভক্ত-সমর্থকদের চাওয়া এবারো তার হাতেই উঠুক শিরোপা।‘বিপিএলে শিরোপা জিততে চাও, মাশরাফিকে দলে ভেড়াও।’ হয়তো এ কথা মনে রেখেই এবার তাকে দলে ভেড়ায় রংপুর। হিসাবে যে উত্তরবঙ্গের দলটি বিন্দুমাত্র ভুল করেনি টুর্নামেন্টের পরতে পরতে সেই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দূরদর্শী অধিনায়কত্বের পাশাপাশি  ব্যাটে-বলে অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন দলকে তুলেছেন ফাইনালে। ১২ ম্যাচে ৬ জয়ে টেনেহিঁচড়ে শেষ চারে জায়গা পাওয়া রংপুরই এখন শিরোপার বড় দাবিদার।তবে এবার যে কাজটি সহজ হবে না তা এরই মধ্যে জানান দিয়েছেন সাকিব। গত বছর তার সম্রাজ্যে হানা দেন দেশসেরা অলরাউন্ডার। তার নেতৃত্বেই গত মৌসুমে শিরোপা ঘরে তোলে ঢাকা। চলতি বছর পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়েছে বিপিএল রাজারা। গ্রুপ পর্বে ১২ ম্যাচে ৭ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র ৪টিতে। টেবিলের দুইয়ে থেকে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করে দলটি। প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লাকে ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে তারা। সঙ্গত কারণে এবারো শিরোপার শক্ত দাবিদার ঢাকা।শক্তির বিচারে অবশ্য কেউ খুব একটা এগিয়ে নেই।তারকাখচিত দল ঢাকা। রয়েছে বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ। আফ্রিদি, নারাইন, সাকিবের পাশাপাশি রনিও ভালো বোলিং করছেন। ব্যাটসম্যানরাও ধারাবাহিকভাবে রান পাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে প্রতিপক্ষকে খামচে ধরা কোনো ব্যাপারই নয় রাজধানীর দলটির।একঝাঁক তারকাসমৃদ্ধ দল রংপুরও। দলে রয়েছেন ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, জনসন চার্লসের মতো হিটার। বোলিং আক্রমণে রয়েছেন মাশরাফি, রুবেল, উদানারা। তারা ভালো করলে দিনটি অন্যদের জন্য কঠিন হবে।স্বাভাবিকভাবেই ফাইনালের উত্তাপটা বেশি। এখন দেখার অপেক্ষায়, শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা কে উঁচিয়ে ধরেন, কে হাসেন শেষ হাসি, মাশরাফি না সাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *