মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বলয়ে ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রায় ১০ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার শান্ত গ্রাম ‘সেওংজু’-তে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হামলার হুমকি মোকাবিলায় এটি ছিল সিউলের প্রধান ঢাল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন তাদের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই অস্ত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে সরাসরি ‘বিপক্ষে মত’ প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী পত্রিকা ‘জুংঅ্যাং ডেইলি’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য। সরকারের উচিত এটা নিশ্চিত করা যেন মিশন শেষ হওয়া মাত্রই এই সরঞ্জামগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে হবে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রু ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং দেশটির পরমাণু অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। গত সপ্তাহেও তিনি একটি নৌ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া তদারকি করেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়ালেও প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, এ সিদ্ধান্ত শত্রুদের মোকাবিলায় সিউলের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অটুট রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *