Breaking
Tue. Jul 14th, 2026

শেষ মুহূর্তে ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে চীন!

তেহরানকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় রাজি করানোর পেছনে চীনের ভূমিকা ছিল কি না— বার্তা সংস্থা এএফপির এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি যা শুনেছি তা হলো, হ্যাঁ।’’

এই যুদ্ধ থামাতে বেইজিংয়ের জন্যও একটি বিশেষ তাগাদার জায়গা আছে তাহলো- মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ট্রাম্প তার চীন সফর পিছিয়ে দিচ্ছিলেন; যা মূলত মার্চের শেষে হওয়ার কথা ছিল।

একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বেইজিং অত্যন্ত নিভৃতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটা ভূমিকা পালন করেছে। তারা পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে ইরানকে শান্তির পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করেছে।

মার্কিন এই সংবাদ সংস্থাকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার অগ্রগতির প্রতিটি পর্যায়ে চীনা কর্মকর্তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন।

চীন তাদের এই সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের ওপর তাদের প্রভাবকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে আসছিল চীন।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করার লক্ষ্যে এটি চীনের সবশেষ প্রচেষ্টাগুলোর একটি। এখন পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এর আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং ‘‘শান্তির জন্য নিরলসভাবে’’ কাজ করে যাচ্ছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং আরও বলেছেন, ‘‘সকল পক্ষকে আন্তরিকতা দেখাতে হবে এবং দ্রুত এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে; যা আদতে শুরুই হওয়া উচিত ছিল না।‘’

তিনি জানান, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর যে প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে চীন ‘‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’’।

এদিকে গত মঙ্গলবার চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে। প্রস্তাবটি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালীতে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাবে ভেটো দেয়ার সময় জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু কং যুক্তি দেখান যে, যখন আমেরিকা নিজে একটি সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই সময়ে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা একটি ভুল বার্তা দিতে পারে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *