index_36363নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত হত্যাকা-ের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে রিট করার বিষয়টি অপরিপক্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এই ধরনের রিট করা একেবারেই ঠিক হয়নি। এছাড়া সাত খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা নজরদারির মধ্যেই আছেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
রোববার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেসুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের আদেশের কাগজ হাতে পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, নূর হোসেন যেখানে থাকুক, যে দেশে থাকুক আমরা তাকে ধরবো।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালসহ তিনজন রোববার সকালে হাইকোর্টে রিট করেন। এ প্রেক্ষিতে আদালত র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেন। দ-বিধি বা বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার করতে বলা হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও র‌্যাব প্রধানের সঙ্গে দৈনন্দিন কর্মকারে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৫ দিন পরপর আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা আমাকে অবহিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু নারায়ণগঞ্জ একটি আলোচিত বিষয়, তাই ওই ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে নারায়ণগঞ্জের বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই ওই বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারছি না।
এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেসুর রহমান রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের ৭ হত্যাকা-ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ১১টা ৫০ মিনিটে তিনি বৈঠক শেষ করে মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার ১১টা ২৫ মিনিটে প্রবেশ করেন, ১২টা ৩২ মিনিটে বের হয়ে যান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে নূর হোসেনকে নিয়ে। তাকে জীবিত পাওয়া না গেলে আসল রহস্য উদ্ঘাটন হবে না। যে কোনো মূল্যে নূর হোসেনকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতারের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সূত্র আরো জানায়, শনিবার নিহতের স্বজনরা সরাসরি হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এ সব বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী র‌্যাবের ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *