43810_s3ভারত জাতীয় দলে ২০০৪ সাল থেকে খেলছেন রাকেশ কুমার। ২০০৬ সালে এশিয়ান গেমসে দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দোহায় অনুষ্ঠিত ওই আসরে স্বর্ণ  জেতে ভারত। এরপর ২০১০ সালে গুয়াংজুর এশিয়ান গেমসে তার নেতৃত্বে পদক ধরে রাখে ভারত। দুই দু’টি বিশ্বকাপেও খেলেছেন রাকেশ। তার নেতৃত্বে সফলতাও পেয়েছে দেশটি। প্রতিদান স্বরূপ রেলওয়েতে চাকরিও মিলেছে তার। ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসে রাকেশের নেতৃত্বে অংশ নিচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এতো সব অর্জনের পরও ভারত অধিনায়কের তেমন একটা পরিচিত ছিল না, দেশবাসীও চিনতো না তাকে। কাবাডি নিয়ে ভারতের মিডিয়ারও মাথাব্যথা ছিল না। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক প্রো-কাবাডির পরই পাল্টে গেছে ভারতীয় কাবাডির চালচিত্র।
ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকারা খেলাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মিডিয়ারও নজর পড়েছে। এর জনপ্রিয়তায় কোহলি, ধোনিদের মতোই আজ রাকেশকে নিয়েও মাতামাতি শুরু করেছে সকলে। শুধু রাকেশ নয়, প্রো-কাবাডির বদৌলতে খেলাটির জনিপ্রয়তা  বেড়েছে বহুগুণ। আর্থিক নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ছেলেরাও ঝুঁকছে কাবাডিতে। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রো-কাবাডিতে সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়া এই রেইডার। 
ভারতীয় ফিল্ম সুপার স্টার অভিষেক বচ্চনের দল পাটনা পাইরেটসে ১২ লাখ ৮০ হাজার রুপিতে খেলেছেন কাবাডিতে অর্জুন পুরস্কার পাওয়া এ কৃতী খেলোয়াড়। কাবডির কল্যাণে এতসব অর্জনের পর বাকি জীবন এই খেলাটির সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান রাকেশ। নিজের ছেলে মেয়েকেও আনতে চাচ্ছেন কাবাডিতে। ‘আজ আমি যতটুকু আসতে পেরেছি, তা কাবাডির কারণেই সম্ভব হয়েছে। এই খেলাটি আমাকে দেশবাসীর কাছে পরিচিত করেছে। আজ রাস্তাঘাটে মানুষ রাকেশ রাকেশ বলে চিৎকার করে। কাবাডির কল্যাণেই স্যার শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। ওনার মতো বড় মানুষ আমার সঙ্গে নিজ থেকে কথা বলেছেন, যা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি বলেন, ভারত অধিনায়ক’।
প্রো-কাবাডিতে খেলা বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় জিয়াউর রহমান ও আরদু জামানের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রাকেশ বলেন, জিয়ার অনেক বয়স হয়েছে। এছাড়া ও ইনজুরিতে। তবে আরদুর খেলা ভাল লেগেছে।’ বাংলাদেশ থেকে আগামী লীগে কাউকে সুযোগ দেয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে রাকেশ বলেন, আমি সামান্য একজন খেলোয়াড়। কাউকে নেয়ার মতো অবস্থায় আমি এখনও যেতে পারি নাই। তবে গ্লোবাল জিমনেশিয়ামে পাকিস্তান-বাংলাদেশের ম্যাচ দেখে মুসাকে আমার ভাল লেগেছে। সে ছাড়া আরও দুই-এক জন প্রো কাবাডিতে খেলার সামর্থ্য রাখে বলে মনে হয়েছে। তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ফিটনেসে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন রাকেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *