মোঃ খলিলুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আবারো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে সরব হ”েছ বিএনপি। এ দাবি আদায়ে দলটি চূড়ান্ত আন্দোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে বিএনপি রাজপথে নামবে। সরকার পতনে এবার দলটির টার্গেট ‘ঢাকা অচল’ কর্মসূচি। সে ল্য নিয়েই দল ও জোটে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জানা গেছে, বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জানুয়ারিতে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে নামছে। এর অংশ পূর্বপ্র¯‘তি হিসেবে চলতি ডিসেম্বরকে ‘ওয়ার্ম আপ’ মাস বেছে নিয়েছে দলটি।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বলেছেন, তারা এ মাসেই চূড়ান্ত প্র¯‘তি নিবে।
বিজয়ের মাসের প্র¯‘তির পর জানুয়ারিতে সরকার অপসারণের আন্দোলন, মার্চে নতুন নির্বাচন। এই ল্যপূরণ করতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে বিশেষভাবে প্র¯‘তি নিতে বলেছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া মাসজুড়ে চলবে নানান ওয়ার্ম-আপ কর্মসূচি। যার মধ্যে আছে—নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের নিয়ে কনভেনশন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে, সদস্য সংগ্রহ, বেগম জিয়ার গণসংযোগ, আলোচনা সভা, মতবিনিময়।
সূত্রমতে, ২ জানুয়ারির সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে সমাবেশ, জানুয়ারির ৫ তারিখ ” সরকার কে না বলুন ” এই শিরোনামে ৫ মিনিটের জন্য রাস্তায় নেমে কোটি মানুষের নিরব প্রতিবাদ । জানুয়ারি ২য় সপ্তাহে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে মহাসমাবেশ ডাকা হবে। ওই সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি শেষবারের মতো নির্বাচনের আহ্বান জানাবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এরপর সরকারের প থেকে সাড়া না এলে জানুয়ারি মাসের তৃতীয় ও চতুথ সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাকে আন্দোলনের বলয় হিসেবে ঘোষণা করা হবে। রাজধানীর ঢাকার ৫৪টি ¯পটে অব¯’ান নেবে ২০ দলীয় জোট। এই অব¯’ানেও প্রধান শক্তি হিসেবে থাকবে জামায়াত। দলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সাংগঠনিক অব¯’া দ্র“ত আন্দোলন উপযোগী করার জন্য কয়েকজন নেতাকে মনিটরিং করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আন্দোলনে মূল টার্গেট থাকবে ঢাকা অচল করে দেয়া। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ঢাকা নিষ্ক্রিয় থাকায় সফলতা আসেনি বলে মনে করেন দলের হাই-কমান্ড। এ কারণে এবার বড় মাত্রায় নজর দেয়া হ”েছ ঢাকার দিকে।এছাড়া একই ল্েয বেশ আগে থেকেই বিএনপি চেয়াপারসন বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। সফরে জনসভায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। তা থেকেই খালেদা জিয়া তৃণমূল নিয়ে নির্ভার রয়েছেন। এখন তিনি ঢাকাকে প্র¯‘ত করছেন।
গুলশান কার্যালয়ে যাওয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, মার্চে নতুন নির্বাচন হবে। সেজন্য আন্দোলনের প্র¯‘তি নিতে হবে। বাধ্য না হলে সরকার নির্বাচন দেবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য কূটনৈতিক মহল থেকেও সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। দণি ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালও সম্প্রতি বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা-সাাৎ করে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি টানা আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হ”েছ। ডিসেম্বর জুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স¤পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
জানুয়ারির সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে বিএনপির ¯’ায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, আমরা এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামব। জানুয়ারি থেকে শুর“ হবে সরকার পতনের আন্দোলন। তিনি মনে করেন, এই আন্দোলন হবে বিএনপির শেষ চেষ্টা। বিফল হলে দলের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিবে। তাই সবাইকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন,সরকার যদি এ দাবি মেনে দিয়ে আগামী মার্চে নির্বাচনের আয়োজন করে তাহলে তা হবে জাতির জন্য মঙ্গলজনক। আর আগামী মার্চের মধ্যে নির্বাচন না হলে, আমরা উপকৃত হব কি না জানিনা, তবে শেখ হাসিনার মতার বাতি নিভে যাবে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *