নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এয়ার এশিয়ার বিমান কিউজেড ৮৫০১-এর ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করেছে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জাভা সাগর থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এর আগে ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর মুখপাত্র মানাহান সিমোরাংকি ৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, সাগর থেকে বিমানের একটি দরজা ও অক্সিজেনের কয়েকটি ট্যাংকও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই সিমোরাংকির ঘোষণা নাকচ করে দেশটির সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান বাংবাং সোলিস্টিও বলেন, ৪০ নয়, তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানটির কাঠামো এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংবাং সোলিস্টিও বলেন, ‘আজ আমরা তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। এগুলো এখন যুদ্ধজাহাজ বাং তোমোতে আছে। মৃতদেহগুলোর মধ্যে দুটি নারীর এবং একটি পুরুষের।’ এর আগে দুপুরে যুদ্ধজাহাজে থাকা নৌ রেডিও থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে নৌবাহিনীর মুখপাত্র মানাহান সিমোরাংকি বলেছিলেন, জাভা সাগর থেকে ৪০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। আর উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা বাড়ছে। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তাঁদের এক সহকর্মীর ভুলের কারণে এ ধরনের তথ্যবিভ্রাট ঘটেছে। এর আগে গতকাল দুপুরে জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংবাং সোলিস্টিও জানান, দুই দিন ধরে বিমানটির খোঁজে জাভা সাগরে তল্লাশি চলছিল। সকালের দিকে বোর্নিও উপকূলের কালিমানতা প্রদেশের পাংকালান বান শহরের ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ থেকে উদ্ধারকর্মীরা সাগরে বিমানের মতো কিছু ধ্বংসাবশেষ ভাসতে দেখেন, যা বাদামি, রুপালি ও কমলা রঙের। একই সঙ্গে একটি বস্তুও ভাসছিল। তখন উদ্ধারকর্মীদের ধারণা হয়, ওই ভাসমান বস্তুটি একটি মৃতদেহ। এর পরই উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সবাই মনোযোগ দেন ওই এলাকায়। এরই মধ্যে সুরাবায়া শহরে ‘ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি রিপাবলিক অব ইন্দোনেশিয়া’র সদর দপ্তরে নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের আত্মীয়দের ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে টেলিভিশনে ধ্বংসাবশেষ ভাসার লাইভ ছবিও দেখানো হয়। দেখা যায়, ধ্বংসাবশেষ ভাসার পাশাপাশি কয়েকটি মৃতদেহও ভাসছে। এ ছবি দেখার পর স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে, অনেকে আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যায়। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে সুরাবায়ার মেয়র ত্রি রিশমাহারিনি বলেন, ‘আমাদের শক্ত হতে হবে। তারা আর এখন আমাদের নয়। তারা স্রষ্টার কাছে ফিরে গেছে।’ এই সুরাবায়ার জুয়ানডা বিমানবন্দর থেকেই ১৬২ জন আরোহী নিয়ে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বিমানটি নিখোঁজ হয়। কোনো ধরনের সতর্ক সংকেত ছাড়াই জাকার্তা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এয়ার এশিয়ার প্রধান টনি ফার্নান্দেজ বলেছেন, উদ্ধার তৎপরতা দেখতে তিনি সুরাবায়া যাচ্ছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘এয়ার এশিয়ার পক্ষে যা যা করা সম্ভব, আমরা এর সবই করব।’ নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বিমানটি যেখান থেকে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরের পূর্ব দিকে এই ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহগুলোর সন্ধান মিলেছে। সেখানে তিন মিটারের মতো উঁচু ঢেউ থাকার কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এর পরও রাতভর অভিযান চলবে। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি জাহাজ ও ২১টি বিমান। ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে সাগরে ডুবুরিও নামানো হবে বলে জানিয়েছে অনুসন্ধানকারী দল। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স। – Post navigation খারাপ আবহাওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত গুয়ানতানামোর পাঁচ বন্দীকে কাজাখস্তানে স্থানান্তর