পূর্ব ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সব ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে বিদ্রোহীরা দাবি করলেও ইউরোপের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষক সংস্থা- ওএসসিই জানায় এটি নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি। এদিকে, ইউক্রেন সংকট বিষয়ে দ্বিতীয় মিনস্ক চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি আংশিকভাগে কার্যকর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। কিয়েভকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সোমবারও চলমান লড়াইয়ে এক সেনা সদস্য নিহত হন বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের অবসান হয়নি দোনেৎস্কে।চরম অনিশ্চয়তায় কাছে দোনেৎস্কবাসীর দিন। গোলার আঘাতে চুরমার হয়ে যাওয়া ঘর- বাড়ির কতটুকু অবশিষ্ট আছে তা খুঁজতেই ব্যস্ত সেখানকার বাসিন্দারা। এখানকার একজন অধিবাসী বলেন, ‘আমি এই ভাঙা ঘর কিভাবে সারাবো? গত আগস্ট থেকে আমার পেনশন দেয়া হচ্ছে না। যদি ওই অর্থ পেতাম তবে সিমেন্ট কিনে ঠিক করে নিতাম’ এরই মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিদ্রোহীরা দাবি করেছে তারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ভারী অস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে। তবে, সরকারি বাহিনী শর্তানুযায়ী এখনো উল্লেখযোগ্য হারে অস্ত্র সরিয়ে নেয়নি বলে অভিযোগ করে তারা। এদিকে, ওএসসিই’র পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত সব এলাকায় এখনো তারা পর্যবেক্ষণ শেষ করতে পারেনি। তাই বিদ্রোহীরা যে সব অস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হচ্ছে সেসব অঞ্চলে ওএসসিই পর্যবেক্ষকদের পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং জার্মানি। এই পরিস্থিতির মধ্যে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সম্মেলনে ইউক্রেনের মানবিক পরিস্থিতি ও সংঘাতসহ বিশ্বের বেশকিছু বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বনেতারা। পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি বিদ্রোহীদের এবং রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানান। জন কেরি বলেন, ‘ভারী অস্ত্র যে বিদ্রোহীরা আসলে কোথায় সরিয়ে নিচ্ছে এব্যাপারে ওএসসিই জানেই না। পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি আংশিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। আর এজন্য রাশিয়া এবং তাদের মিত্ররা যদি সচেষ্ট না হয় তাহলে তাদের আবারো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়তে হতে পারে।’ একই স্থানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেনকে নাৎসি এবং উগ্র জাতীয়তাবাদীদের কাছ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে। এ সময় সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘ইউক্রেনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া উদ্বিগ্ন। একবছর আগে উগ্রবাদীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। তারা কিয়েভ, ওদেসা, মারিউপোলসহ বিভিন্ন শহরে যে সব সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে তা আজো বিচারের আওতায় আসেনি।’ এদিকে, রুশপন্থী বিদ্রোহীরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ওয়েব সাইট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম অবজারভার। ইউক্রেনকে বিদ্রোহীদের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র মারণাস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের চাপ দিচ্ছে বলে ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে বলে জানায় হ্যাকাররা। Post navigation নেতানিয়াহুর ভাষণে কী হবে? পাকিস্তান সফরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব